Alexa যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন সেনাদের ক্ষমা করে দিলেন ট্রাম্প 

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন সেনাদের ক্ষমা করে দিলেন ট্রাম্প 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২২ ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন সেনা সদস্যকে ক্ষমা করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগনের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

অভিযুক্তদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট ক্লিন্ট লরেন্স ও সেনা মেজর ম্যাথিউ গোলস্টেইন’কে সম্পূর্ণ ক্ষমা করেন ট্রাম্প এবং পদচ্যুত হওয়া মার্কিন নেভীর সিল এডি আর. গালাঘেরে’কে নিজ পদে ফিরিয়ে আনার নির্দেশে দেন।

বার্তা সংস্থা সিএনএন এর প্রযোজক ড্যান শেফার্ড জানান, ‘শুক্রবার স্থানীয় সময় সাড়ে ১০টায় ক্যানসাসের ফোর্ট লেভেনওয়ার্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিসিপ্লিনারি ব্যারাক থেকে মুক্তি দেয়া হয় লরেন্সকে। মুক্তির সময় তিনি সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছিল।’

প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এস্পার ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমা সামরিক বিচার বিভাগের অখণ্ডতা ও সুশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া সামরিক কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী ও অংশীদারদের আত্মবিশ্বাসেরও ক্ষতি করতে পারে এই সিদ্ধান্ত। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্তৃপক্ষ সিএনএন’কে বলেন, ‘ক্ষমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ছিল কিনা সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্বস্থানীয় কর্মকর্তারা সর্বাত্মক চেস্টা করেছে।’

হাউজ ইমপিচমেন্ট তদন্তে জনগণের শুনানির দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। একই দিনে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরামর্শ দাতা ও বন্ধু রজার স্টোন’কে ট্রাম্প সম্পর্কিত এক মামলায় মিথ্যা বলা ও কংগ্রেসকে বাধা দেয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০১৬ সালে উইকিলিকসের মাধ্যমে চুরি হওয়া ই-মেইল এর জন্যেও সে দোষী প্রমাণিত হয়। 

হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলে, ‘কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে করুনা করার ব্যাপারে চূড়ান্ত যে আইনটি প্রয়োগ করা হয় সেটি যথাযথ হয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট দায়বদ্ধ।’ 

তারা আরো বলে, দু’শ বছরের বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্টরা তাদের কর্তৃত্বকে যথাযথ যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। যারা আমাদের দেশের সেবা করেছে তাদের সেনাবাহিনী পোশাক সহ দ্বিতীয় সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই চলছে। যেমনটা প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘যখন আমাদের সেনারা দেশের জন্য লড়াই করবে, আমি তাদের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস দিতে চাই।’

পেন্টাগনের মুখপাত্র জনাথন হফম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সামরিক বিভাগের বিচারের প্রতি প্রতিরক্ষা বিভাগের আস্থা আছে। কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট সামরিক বিচার ব্যবস্থার অংশ। এ ধরণের বিষয়গুলোতে বিবেচনা করার অধিকার তার আছে।’

শুক্রবার মার্কিন সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ’প্রেসিডেন্টের করা ক্ষমার আদেশ তারা পালন করবে।’

তারা আরো বলেন, ‘দেশের বিচার ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর পূর্ণ আস্থা আছে।’ 

শুক্রবার নৌবাহিনী এক টুইট বার্তায় জানায়, ‘গালাঘেরের পদমর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তারা ট্রাম্পের আদেশ পেয়েছে, তারা এটি বাস্তবায়ন করছে।’

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী