যাদু, জিন এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়

মাসনুন আমল

যাদু, জিন এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৩ ৮ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৪ ৮ জুলাই ২০২০

সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজতের আমল। (ছবি: প্রতীকী)

সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজতের আমল। (ছবি: প্রতীকী)

যারা যাদুতে আক্রান্ত হয়েছেন তারা তো বটেই, তাদের সঙ্গে আমাদের সবারই যাদু এবং জিন-শয়তানের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য রাসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিখিয়ে দেয়া আমলগুলো যত্নসহকারে করা উচিত। 

এগুলোকে মাসনুন আমল অর্থাৎ সুন্নতসম্মত আমল বলে। এসবের অসাধারণ সব উপকারিতার পাশাপাশি বড় যে লাভ রয়েছে, তা হচ্ছে আল্লাহর ওপর তাওয়াককুল বাড়ে।

সব সুন্নতই গুরুত্বপূর্ণ, আর সারাদিনের; বিশেষত সকাল-সন্ধ্যার ফজিলতপূর্ণ অনেক দোয়া ও জিকির হাদিসে আছে, সবকিছু বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা তো সম্ভব না। আর সবসময় সবগুলোর ওপর আমলও সম্ভব না। তাই আমরা এখানে অল্প কিছু মাসনুন দোয়া এবং আমল নিয়ে আলোচনা করবো। 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের এসবের প্রতি যত্নবান হবার তাওফিক দেন। আমিন।

> সকাল-সন্ধ্যার আমল:

(১) আ’উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং-শাররি মা-খলাক্ব।

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া। বিষ, যাদু এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচতে। (জামে তিরমিযী, ৩৫৫৯)।

(২) বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা-ইয়াদ্বুররু মা‘আসমিহী, শাইউং ফিলআরদ্বী ওয়ালা- ফিসসামা-ই, ওয়াহুওয়াস সামি’উল ‘আলীম।

بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ

সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া। সব ধরনের ক্ষতি এবং বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকতে..। (জামে তিরমিযী, ৩৩৩৫)।

(৩) সূরা তাওবাহ ১২৯ নম্বর আয়াতের অংশ

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় সাতবার এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। (সুনানে আবি দাউদ)।

(৪) সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস: প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়া। সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজতের জন্য এটা রাসূল (সা.) এর শিখানো আমল। (সুনানে আবি দাউদ)।

(৫) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদ, ওয়াহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

প্রতিদিন সকালে ১০০বার পড়া। এর অনেক বেশি ফজিলত, এবং জিন-শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচতে এটা পরিক্ষিত আমল। (বুখারি, মুসলিম হাদিস নম্বর ৪৮৫৭) একশতবার না পারলে, অন্তত ফজর ও আসরের পর ১০বার করে পড়া। (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)।

> অন্যান্য সময়ের আমল:

(১) সম্ভব হলে মদিনার আজওয়া খেজুরের ব্যবস্থা করা, না হয় যেকোনো আজওয়া খেজুরেও হবে। রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর সকাল বেলায় আহার করবে সেদিন তাকে কোনো বিষ ও যাদু ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারি)।

(২) ঘুমের আগের আমল-

(ক) ওজু করে ঘুমানো, তাহলে ফেরেশতারা হিফাজতের জন্য দোয়া করতে থাকে। ডান কাত হয়ে ঘুমানো। এমনিতেও সর্বদা ওজু অবস্থায় থাকা সুন্নত। (মু’জামুল আওসাত; সনদ হাসান-জায়্যিদ)।

(খ) শোয়ার পূর্বে কোনো কাপড় বা ঝাড়ু দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়া। (মুসলিম)।

(গ) আয়াতুল কুরসি পড়া। (বুখারি) সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া। (বুখারি)।

(ঘ) সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ে হাতের তালুতে ফু দেয়া, এরপর পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নেয়া। (বুখারি)।

(৩) টয়লেটে ঢুকার পূর্বে দোয়া পড়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ 

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা, মিনাল খুবসি ওয়াল খবা-ইস।’ 

অর্থ: ‘হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি খারাপ জ্জিন ও খারাপ পরী থেকে। (সহিহ মুসলিম, ৩৭৫)।

(৪) বিয়ের প্রথম রাতে স্ত্রীর কাছে গিয়ে পড়া 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ

এবিষয়ে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হচ্ছে, অনেকে বলে এটি স্ত্রীর মাথায় হাত রেখেই পড়তে হবে। কিছু হাদিসে মাথায় হাত রেখে পড়ার কথা থাকলেও, প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোতে কিন্তু স্ত্রীর কাছে গিয়ে শুধু পড়ার কথা আছে। (সুনানে আবি দাউদ ২২৪৩ এবং ইবনে মাযাহ ১৯০৮ দ্রষ্টব্য)।

(৫) স্ত্রী সহবাসের পূর্বে দোয়া পড়া

بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

‘বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বা-না, ওয়া জান্নিবিশ্-শাইত্বানা মা-রযাকতানা। (বুখারি, ৪৮৭০)।

(৬) দৈনিক একবার হলেও মসজিদে প্রবেশের দোয়া পড়া

أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মসজিদে প্রবেশের সময় কেউ এটা পড়লে শয়তান বলে, এই ব্যক্তি আজ সারাদিনের জন্য আমার থেকে রক্ষা পেয়ে গেল। (সুনানে আবি দাউদ, ৩৯৩)।

(৭) বিসমিল্লাহ বলে দরজা-জানালা লাগানো। খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা।

সূত্র: ইসলামি দাওয়া সেন্টার

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে