যাচ্ছে সোনা, আসছে মাদক

যাচ্ছে সোনা, আসছে মাদক

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৪ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের বেনাপোলের শার্শা দিয়ে ভারতে কোটি কোটি টাকার সোনা ডলার পাচার হচ্ছে, আর ওপার থেকে আসছে মাদক। আন্তর্জাতিক সোনা চোরাকারবারিরা বেনাপোলকেই ব্যবহার করছে নিরপদ রুট হিসেবে।

ভারতে পাচার হওয়া সোনা ও ডলারের বিনিময়ে আসছে ফেনসিডিল, গাঁজা ও হোরোইন। বিজিবি ও পুলিশের হাতে প্রায়ই সোনা ডলার ও মাদকসহ চোরাকারবারিরা আটক হলেও থেমে নেই তাদের অবৈধ ব্যবসা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে চলছে এসব ব্যবসা।

সূত্র মতে, বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত অঞ্চলের গোগা রুদ্রপুর পুটখালী, দৌলতপুর, সাদিপুর, রঘুনাথপুর, শিকারপুর, পাকশিয়া দিয়ে বেশির ভাগ সোনা ডলার পাচার হচ্ছে এবং ভারত থেকে তার বিনিময় আসছে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা ও হেরোইন। 

সাম্প্রতিক সময়ে বেনাপোলের ভবারবেড় রেলস্টেশন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ফেনসিডিল। এখানে কয়েকটি বাড়িতে খুচরা ও পাইকারি ফেনসিডিল বিক্রি হয়ে থাকে। তারনা অভিনব কায়দায় এসব ফেনসিডিল ইট বেঁধে পুকুরে ডুবিয়ে রাখে কখনো চুলার ভেতর আবার নির্জন পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। এসব জায়গা থেকে বেনাপোল বিজিবি ও পোর্ট থানার পুলিশ কয়েক দফায় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। আবার কয়েকজনকে ফেনসিডিলসহ আটকও করেছে। 

অভিযোগও উঠেছে কাউকে কাউকে আটকের পর ছেড়েও দিয়েছে কোনো এক অজানা কারণে। সম্প্রতি বেনাপোল এর ভবারবেড় গ্রাম থেকে এক নারীকে ডিবি পুলিশ আটক করে দুই ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে। ত

সূত্র মতে, চোরাচালানীরা বড় চালান পাচার করার সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবিকে ব্যস্ত রাখে ছোট ছোট ইনফরমেশন দিয়ে। যার ফলে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার হয় ভারতে। আর বাংলাদেশে আসে বিস্ফোরক, যুব সমাজ ধ্বংসের প্রধান নিয়ামক ফেনসিডিল, যৌন উত্তেজক ওষুধ ভায়াগ্রা, এনাগ্রা, আগ্নেয়াস্ত্র আর বোমা। তবে রূপার চালানও আসে।

বেনাপোল চেকপোস্টের ব্যবসায়ি এস এম মারুফ বলেন, বেনাপোল সীমান্তের প্রতিটি অলিগলিতে ডিমের খোসার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ফেনসিডিলের বোতল। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন দেখতে হয় এসব মাদকের বোতল।

গত ৪ জানুয়ারি যশোর-বেনাপোল সড়ক থেকে মেহেদী হাসানকে ৫৮৭ বোতল ফেসিডিল সহ আটক করে বিজিবি। ৭ জানুয়ারি নাভারন যাদবপুর থেকে ৩৯২ বোতল ফেনসিডিলসহ মিজানুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে আটক করে। ২৩ জানুয়ারি আমড়াখালী থেকে রিংকু নামে এক যুবককে ৭৮ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ, ২৭৭ বোতল ফেনসিডিলসহ ২২ জানুয়ারি আটক করে শফিকুল নামে এক যুবককে পুলিশ।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাকির হোসেন নামে এক যুবককে ১২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে পুলিশ। ৫ ফেব্রুয়ারি সীমান্তের সাদিপুর থেকে জিহাদ নামে এক যুবককে ১০টি সোনার বারসহ আটক করে বিজিবি। ৮ ফেব্রুয়ারি ৩ কেজি ৪২৮ গ্রাম সোনাসহ বড়আঁচড়া গ্রাম থেকে ইকবাল হোসেন নামে যুবককে আটক করে বিজিবি। ১৫ ফেব্রুয়ারি দৌলতপুর সীমান্ত থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। ২৩ ফেব্রুয়ারি কালিয়ানী থেকে তবিবর রহমান নামে একজনকে ৩১টি ইয়াবাসহ আটক করে বিজিবি। ২৫ ফেব্রুয়ারি অভিনব কায়দায় জামার পকেটে ফেনসিডিল পাচারের সময় ৩৩টি পকেট থেকে ৩৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে বিজিবি।  

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার এ এসআই শাহিন ফরহাদ বলেন, আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর রয়েছি। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আগের চেয়ে ফেনসিডিল বেশি উদ্ধার হচ্ছে।

বেনাপোল কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার লাল বলেন, আমি নতুন আসছি। তবে ফেনসিডিল মনে হয় বেশি ভারত থেকে আসছে। সীমান্ত এলাকা বড়, আমাদের জনবল কম। তারপরও আমরা তৎপর। আজও ২২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছি। আমদের কাছে কোনো মাদক ব্যবসায়ীর ছাড় নেই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ