কিশোরদের বেধড়ক পিটিয়েছে কর্মকর্তারাই! 

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র

কিশোরদের বেধড়ক পিটিয়েছে কর্মকর্তারাই! 

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৪৩ ১৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৪৫ ১৪ আগস্ট ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় ৩ কিশোর নিহত হয় এবং আহত হয়েছে অন্তত ১৪ জন। আহতদের পুলিশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
 
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে একপক্ষীয় মারপিটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে আহতরা। কেন্দ্রের কর্মকর্তারাই তাদের দফায় দফায় পিটিয়েছে। সে কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির দাবি, এ ঘটনা একপক্ষীয় এবং আহতদের দাবি সত্য।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রবেশন অফিসার মুশফিক আহমেদ দাবি করেন, সম্প্রতি কেন্দ্রে বন্দি কিশোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রড ও লাঠির আঘাতে মারাত্মক জখম হয় ১৭ কিশোর। প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন কেন্দ্রেই তাদের চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা চলে। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আশঙ্কাজনক একে একে আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মধ্যে নাইম, পারভেজ ও রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

জেনারেল হাসপাতালের ডা. অমিয় দাশ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তারা মারা যায়। কি কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না।

এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের দাবি, কেন্দ্রের কর্মকর্তারাই তাদের দফায় দফায় পিটিয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দী চুয়াডাঙ্গার পাভেল বলেন,  বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে তাদের অফিসে ডাকা হয় এবং গত ৩ আগস্ট মারামারির ঘটনা জানতে চাওয়া হয়। তারা ঘটনার বিস্তারিত জানানোর একপর্যায়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, প্রবেশন অফিসার মুশফিকসহ অন্যান্য স্যাররা মারপিটে অংশ নেন।

যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার ঈষান বলেন, নিহত রাসেল আর আমি একই রুমে থাকতাম। আগামী মাসেই তার জামিনে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। স্যারদের বেদম মারপিট আর চিকিৎসা না পেয়ে সে মারা গেছে।

তার অভিযোগ, প্রবেশন অফিসার মারধরের সময় বলেন, ‘তোদের বেশি বাড় বেড়েছে। জেল পলাতক হিসেবে তোদের বিরুদ্ধে মামলা করে ক্রসফায়ারে দেয়া হবে।’

আহতরা জানায়, মারধর করে তাদের এখানে সেখানে ফেলে রাখা হয়। পরে একজন করে মারা গেলে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর রাত ৮ টা থেকে ১১টার মধ্যে চার-দফায় আহতদের হাসপাতালে আনা হয়।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বের হন ডিসি তমিজুল ইসলাম খান। এসময় তিনি বলেন, কি কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। আমরা তদন্ত কমিটি করে দেব। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা যারা অপরাধ নিয়ে কাজ করি, তারা ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে বিষয়টি অবহিত হয়েছি। যে কারণে মূল ঘটনা জানা জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, যারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তারাই এই ঘটনার মূল সাক্ষী। মৃত্যুপথযাত্রী কেউই মিথ্যা কথা বলে না। তাদের কথার সত্যতা ও যৌক্তিকতা রয়েছে। আমাদের অনুসন্ধানে তাদের বিষয় গুরুত্ব পাবে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে