Alexa যশোরে বোমা হামলা মামলায় আসামির পরিবর্তে দিনমজুর কারাগারে 

যশোরে বোমা হামলা মামলায় আসামির পরিবর্তে দিনমজুর কারাগারে 

যশোর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৪৩ ২১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২২:৪৪ ২১ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরে বোমা হামলা মামলায় আসামির পরিবর্তে অন্যজনকে ধরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সকালে শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে দিনমজুর তোতলা মিজানকে পুলিশ গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। 

মামলার এজাহার ও চার্জশিটে পাশের সুজলপুর গ্রামের হঠাৎপাড়া গ্রামের নূরুল হাওলাদারের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি।

গতবছর ১৭ ফেব্রুয়ারি যশোরে মিঠু শেখ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি জনির পরিবর্তে সবুজ বিশ্বাস নামে নিরাপরাধ এক যুবককে ধরে জেলে দেয় পুলিশ। সবুজের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের বিচারক এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির করেছিলেন।

এছাড়া গত ৯ ডিসেম্বর যশোরের চৌগাছায় আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজকে কারাভোগ করতে হয়। এবার মিজান নামে একজনকে বোমা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি শহরতলীর সুজলপুর জামতলা আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির সামনে খোলাডাঙ্গা গ্রামের কয়েকজন পোস্টার লাগাচ্ছিলেন। এ সময় সুজলপুর গ্রামের আব্দুস সালাম মিঠু তাদের পোস্টার লাগাতে নিষেধ করে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুস সালাম মিঠুকে লক্ষ্য করে কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করে। মিঠুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সাগর ও তাহেরকে দুইটি বোমাসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। মামলাটি তদন্ত করে আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দেন এসআই হায়াৎ মাহমুদ খান। মামলার চার্জশিটে এক আসামির নাম মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান। বাবার নাম নূরুল হাওলাদার ও গ্রামের নাম সুজলপুর হঠাৎপাড়া উল্লেখ করা হয়। 

মঙ্গলবার ভোর রাতে খোলাডাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে তোতলা মিজানকে গ্রেফতার করেন কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই আল মিরাজ খান। এ সময় মিজান জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে চাইলে ওই দারোগা কর্ণপাত করেননি।

ভুক্তভোগী মিজান বলেন, তিনি স্যানেটারি মিস্ত্রির কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিনাতিপাত করেন। তার বিরুদ্ধে কোনো দিন মামলা হয়নি। কিন্তু দারোগা কোনো কথাই না শুনে তাকে গ্রেফতার করেন। 

এ বিষয়ে এএসআই আল মিরাজ খান বলেন, আমি সঠিক আসামিকেই গ্রেফতার করেছি।

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এমন অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ