Alexa ময়মনসিংহ হানাদার মুক্ত দিবস আজ

ময়মনসিংহ হানাদার মুক্ত দিবস আজ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৮ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল ময়মনসিংহ। ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে দলে দলে সার্কিট হাউজ মাঠে জমায়েত হতে থাকে। অবরুদ্ধ শহরবাসী এ খবর পেয়ে আনন্দ উল্লাসে সড়কে নেমে আসে। একদিকে বিজয় উল্লাস অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনা সব মিলিয়ে দিনটি অত্যন্ত বেদনা বিধুর। তবে সর্বপোরি দিনটি ছিল অত্যন্ত খুশির, আনন্দের ও মুক্তির দিন। 

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা ময়মনসিংহকে দখলমুক্ত রেখেছিল। ২৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের পতন ঘটলে মুক্তিযোদ্ধারা শহর ছেড়ে সীমান্তের ওপারে চলে যায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবনে স্থাপন করা হয় পাক হানাদার বাহিনীর বিগ্রেড হেড কোয়ার্টার। হানাদারদের সহযোগী হিসাবে আলবদর আল সামস, রাজাকার বাহিনী গড়ে তোলা হয়। জেলা পরিষদের ডাক বাংলোটি “শান্তি ভবন” নাম দিয়ে টর্চার সেল ও কিলিং সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে আরো দুইটি আস্তানা গড়ে উঠে।

এছাড়াও বিহারিরা শহরের ছোট বাজারে গড়ে তোলে “কিলিং জোন”। ৭১-এ পাকসেনা আর রাজাকার, আল বদররা এসব আস্তানায় বাঙালি নিধনে মেতে উঠেছিলো। প্রতিদিনের সেই নৃশংসতার নিদর্শন দেখা যেত ব্রহ্মপুত্রের চরে। মুক্তাগাছা, গৌরীপুর ও নান্দাইলে এই নৃশংসতার মাত্রা ছিল ভয়াবহ। 

প্রায় ৭ মাস পাক সেনাদের দখলে থাকার পর নভেম্বরের শেষে এক একদিন থেকে মুক্ত হতে থাকে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা। ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহে নেত্রকোনা থেকে একটি দল অগ্রসর হয় ময়মনসিংহের দিকে। একই সময় হালুয়াঘাট, ফুলপুর হয়ে মিত্র বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের আরো একটি দল শহর অভিমুখে অগ্রসর হয়। ৯ই ডিসেম্বর রাতে দুইটি দল অবস্থান নেয় ব্রহ্মপুত্রের ওপারে শম্ভুগঞ্জে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান টের পেয়ে শহরে কারফিউ জারী করে হানাদাররা।

অপরদিকে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায় পাকসেনারা। ১০ ডিসেম্বর সকালে মুক্তবাহিনী ও মিত্রবাহিনী ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করে। মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ঢালু যুব শিবির প্রধান সাবেক ধর্মমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন বিগ্রেডিয়ার সামস শিংহ বাবাজি। 

১০ ডিসেম্বর সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান। মিত্রবাহিনীর কমান্ডার বাবাজির নেতৃত্বে শহরে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা ময়মনসিংহ থেকে হানাদার মুক্ত করেন।

এই দিনটিকে স্মরণ করে রাখতে ১৯৮৩ সালে ময়মনসিংহ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস পালন করতে উদ্যোগ নেন। ওই বছরই জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রবল ইচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে সামরিক আমলেও ১০ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস পালন করতে সামর্থ হন। ছোট বাজার জিকেএমসি সাহা রোডে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে একদিনে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক সূচনা শুরু হয়।

১৯৮৩ সালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার সেলিম সাজ্জাদ জানান, ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস পালনে ১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনামলে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড উদ্যোগ নেয়। সামরিক আমলেও তৎকালীন উপ-আঞ্চলিক সামরিক আইন প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার সরদার মো. আলী হাসান, বিগ্রেডিয়ার এম শাখাওয়াত হোসেন, জেলা সামরিক আইন প্রশাসক লে. কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও জেলা প্রশাসক মো. আনসার আলী সিদ্দিকী সামরিক আইন থাকার পরও কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা না করায় আমরা ১৯৮৩ সাল থেকে ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালন শুরু করি। এরপর থেকে প্রতি বছর প্রথমে এক দিন থেকে তিন দিন এবং পরে তিনদিন থেকে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

প্রতি বছরের মতো এবারো দিনটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আয়োজনে সাত দিনব্যাপী বিভিন কর্মসূচী পালন করা হবে বলেও জানা গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস