Alexa মোবাইলের প্যাকেটে পেঁয়াজ!

মোবাইলের প্যাকেটে পেঁয়াজ!

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১৮ ২৩ মে ২০১৯   আপডেট: ২০:১০ ২৩ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রথমে ফেসবুকে একাধিক পেজ খুলে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন পোশাক, গহনা কিংবা মোবাইল ফোন বিক্রির অফারে বিজ্ঞাপন দেয়। পরে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে না করতেই শুরু হয় প্রতারণা। দেয়া হয় মোবাইলের বদলে পেঁয়াজ। অধিকাংশ অর্ডার করা পণ্যের পরিবর্তে দেয়া হয় সাবান, আলু-পটল, পেঁয়াজ ভর্তি প্যাকেট।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কিংবা অনলাইনে ব্যবসা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এ সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে বেশ কয়েকটি চক্র। বুধবার রাতে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন চক্রের সাত সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-৪। র‌্যাব জানায়, চক্রটি সাত বছর ধরে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

আটকরা হলেন- সুজন মোল্লা (২৬), হাসিবুল হাসান ওরফে চঞ্চল (৩২), জারদিস হোসেন (২০), মেহেদী হাসান (২৩), নুর ইসলাম (১৯), পারভেজ মোল্লা (১৯) ও আবু তাহের (১৯)। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার, একটি রাউটার, ২৩টি মোবাইল, মানি রিসিট, ২৫০ পিস পাঞ্জাবি ও ১০ পিস পায়জামা উদ্ধার করা হয়েছে।

অনেক কম দামে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর আশ্বাস মেলে যোগাযোগে। তবে বেশিরভাগ সময়ই সার্ভিস চার্জ কিংবা পণ্যের আংশিক দাম আদায় করলেও পণ্য পৌঁছায় না। অর্ডার করা পণ্য না পেয়ে অভিযোগ করলে ক্রেতাকে চট্টগ্রাম অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হতো। প্রতারিত হয়েও অল্প কিছু টাকার জন্য পরবর্তীতে গ্রাহকরা আর অভিযোগ করতেন না। এভাবে প্রতিজনের কাছ থেকে বেশি অর্থ না নিলেও বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল ওই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, চক্রটি বিভিন্নভাবে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তারা বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের অনলাইনে দেয়া পণ্য সামগ্রীর ছবি ডাউনলোড করে নিজেদের পণ্য হিসেবে চালিয়ে ফেসবুক পেজে আপ করত। কিন্তু সেসব পণ্যের নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দাম দেখে কেউ আকৃষ্ট হয়ে যোগাযোগ করলে চক্রটি প্রথমে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করত। এরপর হোম ডেলিভারির মাধ্যমে নিম্নমানের পণ্য পাঠিয়ে দিত।

তিনি বলেন, ক্রেতারা কোনো পণ্য অর্ডার করলে, কখনো কখনো মূল্য পরিশোধ করতে বলা হতো। কিন্তু নির্ধারিত পণ্যের পরিবর্তে সাবান, ভিমবার, আলু, পেঁয়াজ, পটল প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিত। আবার কখনো কোনো পণ্য না পাঠিয়েই কিছু অর্থ আদায় করে পণ্য পাঠিয়েছে বলে দাবি করত। গ্রাহক পণ্য পায়নি দাবি করলে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসে খোঁজ নিতে বলতো এবং পণ্য না পৌঁছানোর জন্য সেসব কুরিয়ার সার্ভিসকে দায়ী করত প্রতারক চক্রের সদস্যরা।

র‌্যাব-৪ এর সিও জানান, প্রতারকদের ব্যবহৃত ১৭টি পেজ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো হলো- Unique Fashion, Rose Fashion BD, Lifestyle.com, GreenXpress.Com, Gentle Fashion, Gentle Point, Fashion Point, Plus Point, Mobile Shop 24, গয়না মহল, Arifull Islam Ariean, নিলয় মাহমুদ সুজন, MD Tanvir Abutaher, Advance Electronics, Dream Fashion, Xian Rihan.

চক্রটি ২০১৩ সাল থেকে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ না নিলেও বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে অল্প অল্প করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে চক্রটির ১৭টি পেজ পেয়েছি। আরো পেজ রয়েছে কি-না বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।

এ সময় সেইলরের অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং ম্যানেজার সাইদুজ্জামান বলেন, আমাদের কপিরাইট করা ছবি ওরা কপি করে তাদের পেজে নিজেদের লোগো বানিয়ে ডিসপ্লে করত। আমরা র‌্যাবকে বিষয়টি জানানোর পর প্রতারকদের আটক করা হয়। এ জন্য র‌্যাবকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/আরএইচ