Alexa মেয়ের সুইসাইড নোট, ‘খটকা’ দেখছেন বাবা! 

মেয়ের সুইসাইড নোট, ‘খটকা’ দেখছেন বাবা! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ১৮ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:১৭ ১৮ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ মাধ্যমিকে একানব্বই শতাংশ নম্বর পেয়ে নার্সিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মেধাবী ছাত্রী। শনিবার কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের নার্সিং হোস্টেলের পাঁচতলার বারান্দা থেকে সমাপ্তি রুইদাস নামে সেই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

হাসপাতাল সূত্রের খবর, সমাপ্তির ঘরে একটি স্বাক্ষর বিহীন সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, নার্সিংয়ের পড়াশোনার সবটা ইংরেজিতে হওয়ায় তিনি অসম্ভব মানসিক চাপে ছিলেন। যদিও মায়ের দাবি, হোস্টেলের ‘সিনিয়র’রা পঞ্চাশ হাজার টাকা না-পেলে সমাপ্তিকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল।  

পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার ভোরে নার্সিংয়ের দুই ছাত্রী পাঁচতলার বারান্দা থেকে সমাপ্তির মরদেহ ঝুলতে দেখে হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। গলায় শাড়ির ফাঁস দেয়া অবস্থায় পৌনে ৭টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে কলকাতার বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ।

ইংরেজি-ভীতি থেকেই ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। কিন্তু রোববারও সমাপ্তির অপমৃত্যুতে বেশ কিছু ‘খটকা’ দেখছেন তার আত্মীয় ও বন্ধু মহল। 

খটকা বেশি র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ ঘিরে। সমাপ্তি বাঁকুড়ার কোতুলপুরের মেয়ে। প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাও বলেন, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, হোস্টেলে ওর উপরে র‌্যাগিং হত। প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত হওয়া দরকার। 

তিনি বলেন, বাড়ির লোকজন অভিযোগ করছেন, অত্যাচার করেই মেয়েটিকে এই পথে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যাতে তদন্ত হয়, সেই চেষ্টাই করব। 

এই অপমৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের সুপার সন্দীপ ঘোষ। 

ওই ছাত্রীর বাবা সুকুমার রুইদাস বলছেন, আলাদা ভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হবে না। তবে সত্যটা জানতে চাই। শনিবার রাতে সমাপ্তির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। 

সুকুমার জানান, সৎকারের সময় তারা দেখেন, মেয়ের বাঁ হাতে লেখা, আমার বালিশের তলার খাতার ফোল্ড করা পাতায় লেখা আছে। কিন্তু সেই হাতের লেখা সমাপ্তির নয় বলেই জানান বাবা। সমাপ্তির চাচা উজ্জ্বল রুইদাসের অভিযোগ, ওর চোখের কাছে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। 

তিনি বলেন, কলেজ থেকে বলা হলো, এই রেলিংয়ে ঝুলে পড়েছিল। আপনি মর্গে চলে যান। ওখান থেকে মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যাবেন। সুইসাইড নোট কিংবা অন্য কিছু আমরা চোখেও দেখিনি। 

তাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সমাপ্তির দুই সহপাঠী জানান, হোস্টেলে ‌র‌্যাগিং হতো বলে ওই তরুণী তাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। 

তারা বলেন, রাতে আলো জ্বালিয়ে পড়তে পারত না। মাঝরাতে সিনিয়ররা পড়া ধরতে আসত। না-পারলে পাঁচতলা থেকে একতলায় পাঁচ-ছ’বার ওঠানামা করানো হতো। পোশাক খুলে মারধরও করা হতো।

এক সহপাঠী বলেন, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়তো অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু ভর্তির মাত্র এক মাসের মধ্যে কতটা পড়ার চাপে পড়া সম্ভব? আত্মহত্যার কথা মানতে পারছি না।

স্বাস্থ্য ভবনের একাংশের বক্তব্য, হোস্টেলগুলিতে এখন আর ‘সে-ভাবে’ র‌্যাগিং হয় না। যদিও নার্স সংগঠনগুলির সদস্যদের পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন বিষয়ে সিনিয়ররা জুনিয়রদের বিচার করতেন এমন খবর তাদের কাছেও আসে।

ইংরেজি-ভীতি প্রসঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রথম বর্ষের এই অসুবিধা দ্বিতীয় বর্ষে ঠিক হয়ে যায়। একটু ধৈর্য ধরলে এটা হত না। এই প্রজন্মের সেটারই অভাব!

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এ বছর নার্সিংয়ে ২ হাজার চার শ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের অনেকেরই অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, ফার্স্ট এড, নিউট্রিশনের মতো বিষয় ইংরেজিতে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে জানতে পারছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। 

এই অবস্থায় নার্সিংয়ের শিক্ষকদের প্রথম বর্ষে বেশি সময় ধরে ক্লাস নিতে হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, পাঠ্যক্রমের চাপ সহ্য করতে না-পেরে অন্তত পাঁচ জন ছাত্রী বাড়ি ফিরে গেছেন। প্রতি বছর এই সংখ্যাটা ১৫-২০ হয়ে যায়।

হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষের দাবি, সমাপ্তির ঘরে পাওয়া সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, নার্সিংয়ের পড়াশুনা ইংরেজি মাধ্যম হওয়ায় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

তবে নার্সেস ইউনিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ভাস্বতী বলছেন, বাংলা মাধ্যম থেকে আসায় ইংরেজিতে কথা বলতে অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু পড়ে বুঝব না কেন! পরিবারের অভিযোগও মারাত্মক। প্রকৃত তদন্ত হওয়া উচিত। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে