মেয়েকে হত্যার পর ঘরে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন বাবা

মেয়েকে হত্যার পর ঘরে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন বাবা

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৬:৩৩ ২৮ মার্চ ২০২০  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

খুলনা মহানগরীর লবণচরায় রাবেয়া খাতুন নামে এক সৎ মেয়েকে হত্যা করে ঘরে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন এক পাষাণ্ড বাবা মো. শফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালতে সোপর্দ পূর্বক পুলিশের আবেদনে তাকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

শফিকুল ইসলাম বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার বারুইখালী গ্রামের আ. সালামের ছেলে। তিনি লবণচরা থানাধীন হরিণটানার রিয়াবাজার এলাকার মক্কা লেন গলির মনজু বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

শুক্রবার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। 

পুলিশ জানায়, গত ২৪ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টায় মো. শফিকুল ইসলাম তার সৎ মেয়ে রাবেয়া খাতুনকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজ ভাড়া বাসার ঘরে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় লবণচরা থানায় মেয়েটির মামা মো. আব্দুস সালাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। একই দিনে লবণচরা থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে রাত ১১টার দিকে মো. শফিকুল ইসলামকে নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। এরপর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আসামির মেয়ে শরীফা গত ২৫ মার্চে আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারাতে জবানবন্দি প্রদান করে।

এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাসির উদ্দিন মোল্লার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মো. শফিকুল ইসলামকে তিনদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মো. শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দির বরাতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মনিরুজ্জান মিঠু জানান, শফিকুলকে তার সৎ মেয়ে রাবেয়া কথায় কথায় গালাগালি করত। গত ২৪ মার্চে শফিকুল বাসায় ঘুমিয়ে ছিল সে। তখন বাসাতে তিন মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিল না। তারা ফুল নিয়ে খেলা করছিল। এতে শফিকুলের ঘুম ভেঙে যায়। সে রাবেয়াকে নিষেধ করা সত্ত্বেও রাবেয়া তার কথা শুনছিল না। সকাল ১০টার দিকে শফিকুল রাবেয়াকে লাঠি দিয়ে মারে কিন্তু তাতে রাবেয়া উত্তেজিত হয়ে শফিকুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তখন শফিকুল রেগে গিয়ে রাবেয়ার ওড়না তার গলায় পেঁচিয়ে ১০ মিনিট ধরে রাখে। এতে রাবেয়ার মৃত্যু যায়। এরপর ওই ওড়না দিয়ে রাবেয়াকে ঘরের বাঁশের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রেখে শফিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম