Alexa মৃত ঘোষিত নবজাতক নড়ে উঠল মায়ের কোলে!

মৃত ঘোষিত নবজাতক নড়ে উঠল মায়ের কোলে!

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩৩ ২০ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

অলৌকিক ঘটনাও যেন হার মানল। মৃত ঘোষণার পর নবজাতক নড়ে উঠল তার মায়ের কোলে।

বিস্ময়কর এই ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গায়।

সদ্য প্রসূত জান্নাতুলকে মৃত ঘোষণার পর রাখা হলো মেঝের ওপর। প্রস্তুতি চলছিল পলিথিনে মুড়িয়ে লাশ হিসেবে বের করার। ঠিক সে মুহূর্তে মা জিনিয়া তার সন্তানকে শেষবারের মতো কোলে নিলেন। আর তখনই ঘটল অবিশ্বাস্য ঘটনা। জান্নাতুল তার মায়ের কোলে নড়ে চড়ে উঠল। পাল্টে গেল প্রেক্ষাপট।  

ডাক্তার এসে শিশু জান্নাতুলকে স্থানান্তর করলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে সুস্থ হয়ে উঠেছে জান্নাতুল। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে। মায়ের চোখেমুখে এক কাড়ি হাসি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মুদি দোকানি আবদুল হালিম ও জিনিয়া খাতুনের বিয়ে হয় বেশ কয়েক বছর আগে। এরইমধ্যে জিনিয়ার গর্ভে সন্তান আসে। তাকে নিয়মিত চেকআপ করতেন জেলা শহরের উপশম নার্সিং হোমের স্বত্বাধিকারী ডা. জিন্নাতুল আরা।

রোববার বিকেলে জিনিয়ার পেটে ব্যথা শুরু হলে তাকে নেয়া হয় ডা. জিন্নাতুল আরার কাছে। সেখানে তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন জিনিয়া। ভোর ৪টার দিকে মেয়ে সন্তান প্রসব করেন জিনিয়া খাতুন।

জিনিয়া খাতুন বলেন, ভোরে আমাকে বলা হলো বাচ্চা মারা গেছে। এরপর আমরা পরিবারের অন্যান্যকে জানাই। দাফন কাফনের জন্যও প্রস্তুতি নিতে থাকে স্বামী ও স্বজনরা। এরইমধ্যে শিশুটিকে অযত্ন অবহেলায় মেঝের ওপর রেখে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, মৃত বলে তাকে একটি পলিথিন এনে মুড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল। এ সময় আমি কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে একবার শেষবারের মতো কোলে নিয়ে দেখতে চাই। কোলে নিতেই আমার মেয়ে নড়ে ওঠে। এ সময় পুনরায় ডা. জিন্নাতুল আরাকে ডাকা হলে তিনি শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন।

জিনিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমি ডাক্তারের কথায় বিশ্বাস করলে পলিথিনের মধ্যে আমার মেয়ে মরে থাকত।

এদিকে সোমবার সকালে ওই শিশুকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।

শিশুর দাদি শাহারন বেগম বলেন, ও সাত মাসে জন্ম নিয়েছে। আমি ওর নাম রেখেছি জান্নাতুল। সে এখন ভালোই আছে। হাত-পা নেড়ে খেলছে। পিটপিট করে তাকাচ্ছে। আমার বিশ্বাস জান্নাতুল বেঁচে থাকবে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, সময় হওয়ার আগেই শিশুটি জন্ম নিয়েছে। তাকে ইনকিউবেটরের মধ্যে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আপাতত সে সুস্থ আছে। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ডা. জিন্নাতুল আরা বলেন, শিশুটি যখন হয় একেবারেই শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল না। নাভির কাছে কেবল ঢিবঢিব শব্দ ছিল। চার ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়ার পর সে কিছুটা সুস্থ হলে আমরা সোমবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ