Alexa মৃতদেহের সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হন যে হিন্দু সাধুরা

মৃতদেহের সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হন যে হিন্দু সাধুরা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৪৮ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শিরোনাম দেখে আপনার চোখ ছনাবড়া হয়ে যেতে পারে। কারণ, সাধু শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে অতি শান্তিময় কিছু দৃশ্য। কিন্তু ‌'অঘোরি' নামের একটি সাধু জাত রয়েছে ভারতে যারা ধ্যান করেন, খান, ঘুমান এবং শ্মশানে চারিদিকে চিতায় আগুনে পুড়তে থাকা লাশের পাশেই যৌনমিলনে লিপ্ত হন। এরা নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ান, মানুষের মাংস খান এবং নরকংকালের খুলি থেকে পান করেন। আর তাদের কেবল জনসমক্ষে দেখা যায় শুধুমাত্র কুম্ভমেলার সময়।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের স্কুল অব আফ্রিকান এন্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের অধ্যাপক জেমস ম্যালিনসন এই সাধুদের নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার ভাষায়, অঘোরিদের এ সব রীতির মূল কথা হচ্ছে, তারা অ্যাধাত্মিক মুক্তিলাভের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে এক হতে চান, আর সে জন্যে তারা বিশুদ্ধতার সূত্রের সীমা ছাড়িয়ে যেতে চান।

ম্যালিনসন পড়াশোনা করেছেন ব্রিটেনের খুবই অভিজাত স্কুল ইটনে এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি নিজেও একজন মহান্ত বা গুরু। তবে একটি ভিন্ন হিন্দু গোত্রের অনুসারী তিনি, যারা বিশুদ্ধতার সব সূত্র মেনে চলে। অঘোরিদের এ সব নিয়ম কানুন তাদের গোত্রে নিষিদ্ধ। তবে অঘোরিদের মেলা-মেশার সুযোগ হয়েছে তার।

অঘোরিদের মধ্যে যে সব রীতি বা প্রথা চালু রয়েছে, সেগুলো সাম্প্রতিকালের বলেই মনে হবে। অঘোরি শব্দটাই জানা যায় আঠারো শতক থেকে। তবে এই হিন্দু সাধুরা কাপালিকদের অনেক নিয়ম কানুন অনুসরণ করে। নরমুন্ডু বহনকারী কাপালিকদের সম্পর্কে কিন্তু জানা যায় সেই সপ্তম শতক থেকেই। কাপালিকরা নরবলির প্রথায় বিশ্বাস করতো। কিন্তু এদেরকে এখন আর দেখা যায় না।

অঘোরিরা সামাজিকভাবে খুব বেশি সুসংগঠিত না। বেশিরভাগ সময় এরা বাস করে দূরের কোন জনবিচ্ছিন্ন এলাকায়। বাইরের দুনিয়ার লোকদের এরা খুব বিশ্বাস করে না। তারা এমনকি তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখে না।এদের সংখ্যা খুবই কম। জেমস ম্যালিনসন মনে করেন, কুম্ভমেলায় যাদের দেখা যায়, তারা হয়তো নিজে থেকে অঘোরিদের অনুসারী, তারা হয়তো যথাযথভাবে অঘোরি সমাজে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

অনেকে হয়তো তীর্থযাত্রীদের এবং পর্যটকদের আনন্দ দেয়ার জন্য এবং অর্থ উপার্জনের জন্য ওই বেশ ধারণ করে। পূণ্যার্থীরা তাদের খাবার এবং অর্থকড়ি দেয়। কিন্তু গবেষণা বলছে, অঘোরিরা অর্থকড়ির ব্যাপারে নিস্পৃহ।

বেশিরভাগ ভারতীয়, যারা হিন্দু সাধুদের দেখে অভ্যস্ত, তারাও যখন কোনো অঘোরির মুখোমুখি হয়, সেটি তাদের খুবই বিচলিত করতে পারে, তাদের মনে ঘৃণা জাগাতে পারে। অনেক অঘোরি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে তারা মৃতদেহের সঙ্গে সঙ্গম করেছে। তবে তাদের সমাজেও যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু নিষেধের বেড়াজাল আছে। জেমস ম্যালিনসন জানান, এরা পতিতাদের সঙ্গে তাদের রীতি অনুযায়ী যৌনসঙ্গম করে। কিন্তু সমকামিতায় বিশ্বাসী নয় তারা, এটি অনুমোদনও করে না। যখন অঘোরিরা মারা যায়, তাদের দেহ অন্য অঘোরিরা খায় না। তাদেরকে কবর দেওয়া হয় কিংবা চিতায় পোড়ানো হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে

Best Electronics
Best Electronics