মৃতদের ভাতা খাচ্ছেন চেয়ারম্যান!

মৃতদের ভাতা খাচ্ছেন চেয়ারম্যান!

মো. আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৫ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৩৮ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঘাটাইল ইউপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হায়দার আলী (ফাইল ছবি)

ঘাটাইল ইউপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হায়দার আলী (ফাইল ছবি)

বিরাহিমপুর গ্রামে নয় বছর আগে আজাহের এবং দুই বছর আগে মারা গেছেন নার্গিছ বেওয়া। মারা গেলেও তাদের নামে নিয়মিত তোলা হচ্ছে বয়স্ক ভাতার টাকা। মৃত ব্যক্তির নামে টাকা উঠছে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ২ নম্বর ঘাটাইল ইউপির বয়স্ক ভাতার তালিকা এমন কথাই বলছে।

শুধু আজাহের এবং নার্গিস নয়, তাদের মতো এ তালিকায় নাম রয়েছে আরো ২৬ জনের। মৃতদের পরিবারের দাবি ভাতার টাকার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তাদের নামে সরকারের বরাদ্দকৃত এ টাকা কে নেয়? এমন প্রশ্ন আজাহেরের ছেলে কোরআনের হাফেজ মনির হোসেনের।

তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর ভাতার কার্ড কে নিয়ে গেছেন কোথায় আছে আমরা কিছুই জানি না। তবে জানতে ইচ্ছে করছে বাবার নামে আসা এ টাকা ব্যাংক থেকে তোলেন কে?

নার্গিছ বেওয়ার বোন খোদেজা বলেন, খলিল মেম্বার আইয়া কার্ড নিয়া গেছেন, তারপর আর কিছুই জানি না। 
ওই ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার খলিল বলেন, আজাহের মারা গেছেন আমি মেম্বার হওয়ার আগেই, ওই কার্ডের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে নার্গিছ বেওয়ার কার্ড আমার কাছে আছে।

মনির এবং খোদেজার  মতো সবাই জানতে চান মৃত ব্যক্তির নামে বরাদ্দকৃত টাকায় ভারি হচ্ছে কার পকেট। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ মাসের ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই ইউপির ভাতাপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর করেন। এতে মোট বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬৩৩ জন।

গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে ব্যাংক এ ভাতার টাকা দেয়া শুরু করেছে। ভাতাভোগীদের তালিকা ধরে ওই ইউপির ২০টি গ্রামে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে ভাতা প্রদানে নানা অনিয়মের তথ্য। মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা উত্তোলন, একই পরিবারে স্বামী- স্ত্রী দুইজনই আছেন, বয়স হয়নি তবুও মিলেছে ভাতা কার্ড।

শাহপুর গ্রামের আমিনা মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। তার ছেলে জুলহাস বলেন, মা যে বয়স্ক ভাতা পেতেন তাই তো জানি না। 

ঘাটাইল ইউপিতে দীর্ঘদিন কারিগরি প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাসরিন সুলতানা বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা মৃত্যু সনদ প্রদানের মধ্যে দিয়ে তাদের হাত হয়েই ভাতাপ্রাপ্ত মৃত ব্যক্তির কার্ড আমাদের হাতে আসে। প্রতিস্থাপনের তালিকাও ওনারা দিয়ে থাকেন।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জিএম বলেন, বয়স্কভাতা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে ঘাটাইল ইউপির উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি আমি। কিন্তু এ কাজে চেয়ারম্যান হায়দার আলী আমাকে সঙ্গে রাখেন না। ভাতাভোগী কেউ মারা গেলে সেই কার্ড চেয়ারম্যান নিয়ে নেন এবং ওই টাকা তিনি নিজেই ভোগ করেন।

ঘাটাইল ইউপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হায়দার আলী বলেন, মৃত ব্যক্তিদের নামে বয়স্কভাতার টাকা উঠানো হয় বলে আমার জানা নেই। এ বিষয়টি আমার নলেজে নেই। আপনি ওই লোকদের একটা তালিকা নিয়ে আমার কাছে আইসেন।

অগ্রণী ব্যাংক ঘাটাইল শাখার ম্যানেজার মো.শামছুল হক বলেন, যারা সশরীরে ভাতা বই নিয়ে উপস্থিত হন আমরা তাদের ভাতা দেয়া হয়। অন্যথায় কেউ জীবিত আছে কিন্তু অসুস্থ, সে ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান প্রত্যায়ন দিলে সেই ব্যক্তির টাকা দেয়া হয়। 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম বলেন, যতক্ষণ না চেয়ারম্যান আমাদের মৃত ব্যক্তির তথ্য ও বই ফেরত দেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি না। মৃত্যুসনদ দেন চেয়ারম্যান। আর ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ভাতাপ্রাপ্তদের শনাক্ত করেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। প্রতিটি ইউপিতে সব ধরনের ভাতার সভাপতি থাকেন ওই ইউপির চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম