মূল পাচার পয়েন্ট নোয়াখালীপাড়া

‘বিশেষ’ টার্গেট রোহিঙ্গা

মূল পাচার পয়েন্ট নোয়াখালীপাড়া

এম. আমান উল্লাহ, কক্সবাজার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪১ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৬ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারী চক্র। টেকনাফ ও উখিয়ার ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করছে চক্রটি। টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া ঘাটসহ ১২টি পয়েন্ট মূল পাচার পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ উন্নত জীবনের আশায়, কেউ আত্মীয়-স্বজনদের কাছে যেতে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন।

সেন্টমার্টিনে ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গারা

জানা গেছে, একের পর এক ট্রলারডুবিসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে, তবু দমছে না পাচারকারীরা। কয়েকদিন আগে ১৩৮ জন রোহিঙ্গা নিয়ে সেন্টমার্টিনের কাছে সাগরে ডুবে যায় মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার। এতে মারা যায় নারী-শিশুসহ ২১ জন। ওই ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা ও ছয়জন বাংলাদেশি।

রোহিঙ্গা পাচারের ঘটনায় আটক দালালরা

বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গারা জানান, টাকার বিনিময়ে মালয়েশিয়া, দুবাই ও ক্যাম্পকেন্দ্রিক দালালদের সহায়তায় তারা মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, বিপদ বুঝেই বাংলাদেশিরা সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে রাজি হচ্ছে না। তাই পাচারকারী চক্রটি রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গারাও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে দালালদের হাতে টাকা দিয়ে ট্রলারে উঠে পড়ছে। তবে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নৌ-বাহিনীর সেন্টমার্টিন স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ জায়েদ

নৌ-বাহিনীর সেন্টমার্টিন স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ জায়েদ জানান, ২০১৫ সালের মে মাসে থাইল্যান্ডে গণকবর আবিষ্কারের পর আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে কয়েক বছর সাগরপথে মানবপাচার বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে আবারো সক্রিয় হয়েছে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর