মুচমুচে নির্বাচনী সমীক্ষা, অপেক্ষা ভোটের 
Best Electronics

মুচমুচে নির্বাচনী সমীক্ষা, অপেক্ষা ভোটের 

অমিত গোস্বামী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৯ ২৯ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ২৩:২৬ ৬ মে ২০১৯

নির্বাচনী সমীক্ষা বেশ ভালোই। মুচমুচে। কিন্তু অধিকাংশ সমীক্ষা যেভাবে করা হয় এবং তা থেকে যেমন আলপটকা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তা বিপজ্জনক।  

সমীক্ষা করা হয় মোট জনসংখ্যার এক ক্ষুদ্র অংশকে নিয়ে, যাকে বলে স্যাম্পল বা নমুনা। তাই ভুলের সম্ভাবনা থেকে যায়।  সাধারণ মানুষের রায় কোন দিকে যাচ্ছে, নমুনা সমীক্ষার মাধ্যমে তা মাপার পদ্ধতির জনকের নাম জর্জ গ্যালাপ । ১৯৩৯ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে তকমা দিয়েছিল ‘পোলস্টার’। কিন্তু ১৯৪৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, ডেমোক্র্যাট হ্যারি ট্রুম্যান পাবেন ৪৪ শতাংশ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান টমাস ডিউই ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হবেন। আগের তিনটি নির্বাচনের ফল প্রায় নিখুঁত মিলিয়েছিলেন গ্যালাপ। এবারে ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, ট্রুম্যান পেয়েছেন ৫০ শতাংশ ভোট, আর ডিউই ৪৫ শতাংশ। ‘নির্বাচনী সমীক্ষা’-এর সেই মহাপরাজয়ও ইতিহাস। ব্রিটেনেও ১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৯২ ভোটে সমীক্ষা ব্যর্থ হয়।

ভারতে নির্বাচনী সমীক্ষা শুরু হয় ১৯৯০ সাল নাগাদ। ২০০৪-এ বাজপেয়ী জিতবেন— পূর্বাভাস করেছিল প্রায় সব সমীক্ষা। নাহ, মেলে নি। বেশির ভাগ সমীক্ষাতেই নমুনার সংখ্যা এত কম যে ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই। শুধু নমুনার সংখ্যাই নয়, নজর রাখতে হয় আরও অনেক দিকে, পুরুষ-নারীর  অনুপাত,  বয়সের  অনুপাত, পেশা, ধর্ম, জাতি, শিক্ষা অনুসারে শ্রেণীবিভাগ,  শহরে-গ্রামে বসবাসকারী – এ সকল হিসেব খেয়াল রাখতে হয়। নমুনা কী ভাবে বাছা হয়?  বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হওয়া উচিত ‘র‌্যান্ডম’, বা যদৃচ্ছ । তা সত্ত্বেও ভুল হয়। সাধারণ সমীক্ষাগুলোয় ‘ভুলের সম্ভাবনা’পাঁচ-সাত শতাংশ। এই ‘ভুলের সম্ভাবনা’টাও অঙ্ক করে বের করা যায়। তাতে সম্ভাবনা এক-দুই শতাংশে নেমে আসে।

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী সমীক্ষার ফল অনেক সংস্থাই প্রকাশ করেছে।  তার মধ্যে যে সংস্থাটি দুই বার সমীক্ষা করেছে। প্রথমটি নভেম্বরের শেষে এবং পরেরটি ১ থেকে ৬ এপ্রিল, ২০১৯। এই সমীক্ষাটি বর্তমানে সবচেয়ে জনগ্রাহ্য সমীক্ষার ফল। সংস্থাটির নাম  ইন্ডিয়া টিভি-সিএনএক্স। তাদের প্রথম সমীক্ষায় বলা হয় বিজেপি’র নেতৃত্বে এনডিএ জোট পাবে ২৫৭ টি আসন অর্থাৎ সংখ্যা গরিষ্ঠতার জন্যে প্রয়োজনীয় ২৭৬ থেকে ১৯ টি আসন কম। তারা বলেছিল এর মধ্যে বিজেপি একাই পাবে ২২৩টি আসন, নিতীশ কুমারের জনতা দল(ইউ) ১১, রামবিলাস পাশোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি ৩, পাঞ্জাবের অকালি দল ৫, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ৮ ও বাকিরা ১ টা করে। ওদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পাবে ১২৮টি আসন। তাদের মতে কংগ্রেস পাবে ৭৫, ডিএমকে ২১, লালু প্রসাদের আরজেডি ১০, শারদ পাওয়ারের এনসিপি ৯, ঝাড়খণ্ড মুক্তি ৪, দেবগৌড়ার জনতা দল (এস) ৪, অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোকদল ২ এবং বাকিরা ১ টা করে। এর বাইরে কিছু দল যারা তৃতীয় ফ্রন্ট গড়তে উদ্যোগী ছিল এবং বর্তমানে হাওয়া মাপছে, তাদের আসন প্রাপ্তি সম্পর্কে এই সংস্থার বক্তব্য ছিল তৃণমূল পাবে ২৬ টি, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি ২০, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি ১৫, জগনমোহন রেডডির ওআইএস কংগ্রেস ১৯, কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি ১৬, নবীন পট্টনায়কের বিজু জনতা দল ১৩, এআইএ ডিএমকে ১০, বামফ্রন্ট ৪, দীনকরণের এ এম এম কে ৪, কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি ২, আসামের বদরুদ্দীন আজমলের এইউডিএফ ২ এবং আরো ৩ টি দল ১ টি করে আসন। কাজেই এদের মোট আসন দাঁড়াচ্ছে ১৪৯। কিন্তু এপ্রিলে সমীক্ষা করে যে ফলপ্রকাশ করেছে সেখানে তারা বলেছে যে এনডিএ জোট পাবে ২৯৫ টি আসন যার মধ্যে বিজেপি একাই পাবে ২৩০ টি আসন, শিবসেনা ১৫, এআইএ ডিএমকে ১০ (এরা এনডিএ তে যোগ দিয়েছে), নিতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) ১৩, অকালি দল ৩, রামবিলাস ৩, তামিল দল পিএমকে ২, এন ডি পি ২, এ এন সি ২ এবং বাকি খুচরো দলের ১৫। ইউপিএ জোট পাবে ১৩১ যার মধ্যে কংগ্রেস ৯৭, ডিএমকে ১৬, লালু ৫, শারদ পাওয়ার ৬, ঝাড়খণ্ড মুক্তি ২, দেবগৌড়া ২, অজিত ১ এবং বাকী খুচরো দলের ২। তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরীর কথা বলা দলগুলির মধ্যে মমতা ব্যাণার্জির তৃনমূল পাবে ২৯, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি ১৫, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি ১৩, জগনমোহন রেডডির ওআইএস কংগ্রেস ২০,  কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি ১৪, বিজু জনতা দল ১৩, বামফ্রন্ট ৬ এবং ৭টি আসন খুচরো কিছু দল পাবে। সব মিলে ১১৭। 

যদি অন্য সংস্থার সমীক্ষার দিকে তাকাই তাহলে দেখব টাইমসনাউ-ভিএমআর বলছে এনডিএ জোট পাবে ২৭৯, ইউপিএ ১৪৯ এবং বাকিরা ১২১। সি-ভোটার বলছে এনডিএ জোট পাবে ২৬৭, ইউপিএ ১৪২ এবং বাকিরা ১৩৪। সিএসডিএস-লোকনীতি বলছে এনডিএ জোট পাবে ২৭৩, ইউপিএ ১২৫ এবং বাকিরা ১৪৫। ইন্ডিয়া টুডে- কার্ভি বলছে এনডিএ জোট পাবে ২৬৭, ইন্ডিয়া টিভি-সিএনএক্স ও ভিডিপি অ্যাসোসিয়েট এনডিএর আসনপ্রাপ্তি নিয়ে যে মতামত প্রকাশ করেছে তাতে এনডিএ ২৮০-র বেশি আসন পাবে।

অর্থাৎ সকল নির্বাচনী সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিজেপি’র নেতৃত্বে এনডিএ জোট ভারতে সরকার গড়তে চলেছে। কিন্তু এর কারণ কী? ভারতবাসী সব সময় কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেখতে ভালোবাসে। বিরোধী নেতা হিসেবে গত পাঁচ বছর রাহুল গান্ধী নিজের যে প্রতিমুর্তি গড়ে তুলেছেন সেটা এক নরম ও অপরিণত মানুষের অবয়ব। ভারতীয় ভোটারদের প্রত্যাশা থাকে যে কোনো জোট তাদের সম্ভাব্য প্রধানের নাম ঘোষণা করুক। এখানেই বিজেপি ইউপিএ জোট ও ভাসমান দলগুলিকে নরেন্দ্র মোদীকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করে অন্তত দশ গোল দিয়ে বসে আছে। এদিকে যারা তৃতীয় ফ্রন্টের কথা বলেছিলেন তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে। অখিলেশ বিজেপি বিরোধী হয়েছেন নিজ রাজ্যেই রাজপাট হারানোয়। মায়াবতী অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এখন বিজেপি বিরোধিতা করছেন। কিন্তু এদের পাল্টি খেতে খুব একটা সময় লাগার কথা নয়। নবীন পট্টনায়ক কখনোই কেন্দ্রের রাজনীতিতে উৎসাহী নন। ওড়িশার হিসেব বুঝে নিতে তিনিও হাওয়া বুঝে কাঁধ মেলাবেন ক্ষমতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে। জগণমোহন রেডডি’র মূল শত্রু কংগ্রেস এবং তাদের ফোকাস রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ। তারা বড়জোর বাইরে থেকে অন্য কাউকে সমর্থন করতে পারেন। ডিএমকে বা এআইডিএমকে’র রাজনীতি মানেই ক্ষমতার রাজনীতি। তারা কোনো দুঃখে অনিশ্চিতের পথে পা বাড়াবেন? কাজেই তৃতীয় ফ্রন্ট বা তৃণমূলের নেতৃত্বে সরকার গড়ার স্বপ্ন বিশবাঁও জলে।

কিন্তু বিজেপি জিতবে কী করে? ২০১৪ সালে ভারতের হিন্দিবলয়ে ৯০ শতাংশ আসন জিতেছিল এনডিএ। মাত্র ২৩ শতাংশ আসন জিতেছিল অ–হিন্দিবলয়ে। গতবার হিন্দিবলয়ে কংগ্রেস আর বিজেপি–র মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল ১৮৯ কেন্দ্রে। এর মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ১৬৬ আসন।  হিন্দিবলয়ে একটা বড় ফ্যাক্টর। উত্তর প্রদেশে ৮০ টি আসনের মধ্যে ৭৩ টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবারে তাদের পক্ষে বলা হয়েছে ৪৬ টা আসন। উত্তরপ্রদেশের ৪৭টি আসনে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট যাদব ও মুসলিমদের। এরা বিজেপি’র বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। কিন্তু বিরোধীরা এককাট্টা না হওয়ায় সে ভোটও ভাগ হবে। ভোট কাটাকাটিতে কিছু আসন পাবে বিজেপি। কিন্তু যেটা বিরোধীদের কাছে ভাল ইঙ্গিত নয় তা হল মোদির বিরুদ্ধে সেই ক্রোধও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, যা ২০১৪ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দেখা গিয়েছিল। ঠিক সেই কারণেই মোদি এখনও অনেকটা এগিয়ে। কারণ লোকসভার বিজেপি–কে হারাতে চাই তুমুল ‘ক্রোধ’। বিজেপি বেশ কিছু রাজ্যে রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের আন্দাজের তুলনায় ভাল ফল করতে চলেছে। রাজস্থানে ১৯ টি, পশ্চিমবঙ্গে ১২ টি, ওড়িশায় ৭, মধ্যপ্রদেশে ২৩, ছত্তিসগড়ে ৫, হরিয়ানায় ৯, বিহারে ১৫, ঝাড়খণ্ডে ৯, গুজরাতে ২৪, মহারাষ্ট্রে ১৫, কর্ণাটকে ১৬, আসাম ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে ১২ –টি আসন পাবে বলে নির্বাচনী সমীক্ষায় প্রকাশ। সব মিলে তারা প্রাথমিক বিরোধী ধাক্কা বেশ সামলে নিয়েছে।  

ভারতের মতো বিশাল দেশে কয়েক হাজার মানুষের মতামত সমীক্ষা করে কোনও যথাযথ সিদ্ধান্তে পৌঁছোনো অসম্ভব। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তো খুবই কঠিন। একমাত্র বুথফেরত সমীক্ষাই কিছুটা ইঙ্গিত দিতে পারে। অল্প ব্যবধানে জেতা আসনগুলি ভোটের সামান্য হেরফেরেই হাতবদল হতে পারে। ভারতে বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশিত হবে ১৯ মে ভোট শেষের পরে। তখন একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাবে সঠিক কী হতে চলেছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হচ্ছে চতুর্মুখী। এতে কিছু আসনে সুবিধে হবে বিজেপি’র। কারণ মুসলিম ভোট সব জায়গায় নিরঙ্কুশ ভাবে তৃনমূল পাবে না। বাম ও কংগ্রেসের বাক্সে ঢুকবে। তাতে বিজেপি’র লাভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটা না হলে ৩৫ এর বেশি আসনে তৃণমূলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হত। এবার ফল কী হবে, তা কোনও বিশেষজ্ঞই বলতে পারছেন না। কারণ অতীতের অন্তত ৮৫ শতাংশ সমীক্ষাই ভুল হতে দেখেছি আমরা। এবার বলা আরও কঠিন। তাই এখন বিজেপি বিরোধীদের কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করা প্রয়োজন এই জরিপের ফল যেন মিথ্যে ভেলকি হয়ে প্রতিভাত হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

Best Electronics
শিরোনামজঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী শিরোনামপরিবেশ আইন-লঙ্ঘন: উত্তরাঞ্চলের ১৯ ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ হাইকোর্টের শিরোনামকেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধে সারা দেশের ফলের বাজারে যৌথ কমিটির তদারকির নির্দেশ হাইকোর্টের শিরোনামরূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনা তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি আজ শিরোনামবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হজ ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু শিরোনামসংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন জমা দিলেন রুমিন ফারহানা শিরোনামরাঙামাটিতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা শিরোনামচট্টগ্রামে বন্দুকযুদ্ধে ছিনতাইকারী নিহত শিরোনামরাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে দুই ছিনতাইকারী নিহত শিরোনামআজ ইফতার: সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে