Alexa মুগ্ধ করেছে ‘অসময়ের’ সেন্টমার্টিন

মুগ্ধ করেছে ‘অসময়ের’ সেন্টমার্টিন

পলাশ মাহবুব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০৮ ৩০ আগস্ট ২০১৯  

সেন্টমার্টিন

সেন্টমার্টিন

পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন গিয়ে হতাশ হয়েছিলাম। প্রচুর মানুষ, শান্ত দ্বীপটাতেও কোলাহল। এসময় পর্যটকদের গাদাগাদি ভিড়ে প্রকৃতিকে উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া যায়না বললেই চলে। তবে আগস্ট-সেপ্টেম্বর সেন্টমার্টিন যাওয়ার সিজন না। তবে আমরা ‘অফ-সিজনেই’ সেন্টমার্টিন যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সাহস করে নিয়েই নিলাম। তিনদিনের ভ্রমণটা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর।

প্রথম দিন

সকাল আটটায় পৌঁছে গেলাম টেকনাফ। এবারের গন্তব্য ফিশারিঘাট। সেখান থেকে ট্রলার ও স্পিডবোট ছেড়ে যায় সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে। ঠিক সকাল দশটায় আমরা ‍উঠে পড়লাম ট্রলারে। ট্রলার ছাড়তেই শুরু হল অন্যরকম এক অ্যাডভেঞ্চার। একপাশে বাংলাদেশ অন্যপাশে মিয়ানমার, মাঝখান দিয়ে নাফ নদী। এরই মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলতে লাগলো ট্রলার। যতোই এগিয়ে চলছি দিগন্তে ততোই আবছা হতে লাগলো স্থলভাগ। আর সেখানে জায়গা করে নিতে থাকলো সমুদ্রের দিগন্ত জোড়া নীল জল। সেইসঙ্গে পালাক্রমে বৃষ্টি আর রোদ অ্যাডভেঞ্চারের মাত্রাটা বাড়িয়ে দিল শত গুণ, যা থেকে সিজনাল পর্যটকরা বঞ্চিত। মাত্র তিন ঘণ্টা চলার পর সেন্টমার্টিন জেটিতে গিয়ে পৌঁছলাম।

অনেকেই ট্রলারে ভয় পান কিংবা যেতে নিরুত্সাহিত করেন। তার কারণ সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ। কিন্তু আমার কাছে তেমন ভয়ংকর মনে হয়নি। কারণ সাগর তখন অনেকটা শান্ত ছিল। ঢাকা থেকেই আমরা রিসোর্ট বুকিং দিয়েই গিয়েছিলাম। আমরা দুই রাত থাকব। বিচের পাশে সুন্দর একটি হোটেলে রুম ভাড়া নিলাম। খাবার খেতে গিয়ে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হলো। কারণ বেশির ভাগ হোটেল বন্ধ। বিকেলে অপরূপ সূর্যাস্ত দেখে বিচ সিটে হালকা ঘুম দিলাম। এরপর বাজারে গিয়ে তরমুজ সাইজের ডাব খেয়ে রাতে জেটিতে জোসনা বিলাস! আহ্... সেই মুহূর্তের কথা লিখে বা বলে বোঝানো সম্ভব না।

সেন্টমার্টিনের নীল জল

দ্বিতীয় দিন

খুব ভোরে উঠে পড়লাম সবাই, মন ভরে সূর্যাস্ত দেখতে লাগলাম। সূর্যোদয়ের সময় স্বর্ণালী ভোর হৃদয় আকুল করে। এখানে ঢেউগুলো সব আছড়ে পড়ে তিন দিকে থেকে এসে। প্রবাল নেই। তাই ভয় নেই পা আটকানোর বা কেটে যাওয়ার। এরপর কটেজে ফিরে সিদ্ধান্ত নিলাম ছেঁড়া দ্বীপ যাবো। পশ্চিম বিচ থেকে ৩ ঘণ্টা লাগল পৌঁছাতে। সেখানে দুপুর পর্যন্ত ঝাঁপাঝাঁপি আর স্বচ্ছ পানির নিচে ডুব দিয়ে নানা রকম রঙিন মাছের সঙ্গে খেলা চলল কিছুক্ষণ।

ফেরার সময় রওনা হলাম অন্যদিক দিয়ে। উদ্দেশ্য সেন্টমার্টিনের চারপাশে ঘোরা। রোদে কষ্ট হলেও হেঁটে ছেঁড়া দ্বীপ যাওয়া-আসার পথের যে সৌন্দর্য দেখেছি তা কখনোই ভোলার নয়। এরপর লাঞ্চ করে ঘুমিয়ে নিলাম বেশ কিছুক্ষণ। সন্ধ্যায় সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ খেলাম সবাই। রাতে তারাভরা আকাশের নিচে আবার জোসনাবিলাস, তুমুল আনন্দ আড্ডা। মনে হলো জীবনের সেরা সময়টুকু এখানেই কাটছে।

ছেঁড়া দ্বীপ ছিল একেবারেই নির্জন

তৃতীয় দিন

শেষ দিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠলাম। আজও সূর্যোদয় মিস করা যাবে না। সূর্যোদয়ের অপরূপ দৃশ্য দেখে সাইকেল ভাড়া করতে গেলাম। সাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিন চষে বেড়ালাম। গাছে দোল খেলাম। কিন্তু এরপরই প্রচণ্ড বাতাস! জোয়ারের পানি চলে এসেছে প্রায় জেটির পার্শ্ববর্তী বাজার পর্যন্ত। হোটেল থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরোলাম ট্রলারের উদ্দেশ্যে। ট্রলার ছাড়তে এখনো কিছু সময় বাকি। সঙ্গে থাকা হ্যমোক ঝুলিয়ে বিশ্রাম নিলাম কিছুক্ষণ। এরপর চলে এলাম জেটিতে। 

খারাপ আবহাওয়ার কারণে ট্রলার ছাড়বে কি-না তা নিয়ে দেখা দিল কনফিউশন। ট্রলার মালিক ছাড়তে চাচ্ছেন না। কিন্তু পর্যটকদের কথা চিন্তা করে কোস্টগার্ড ট্রলার ছাড়ার কথা বলছে। এ নিয়ে অনেকক্ষণ আলোচনা চললো। শেষে সিদ্ধান্ত হল ট্রলার ছাড়ার। পর্যটকদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ট্রলার ছাড়বে। টিকেট কেটে উঠে পরলাম ট্রলারে। এরপর বাতাসের বেগ কমতে লাগলো। আর আমরা সাড়ে তিন ঘণ্টায় পৌঁছে গেলাম টেকনাফ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে