Alexa মুখ দিয়ে ছবি এঁকে বাজিমাত নওগাঁর ইব্রাহিমের

মুখ দিয়ে ছবি এঁকে বাজিমাত নওগাঁর ইব্রাহিমের

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৬ ৩ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:৩৮ ৩ নভেম্বর ২০১৯

এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

মানুষ চাইলে সবই পারে, নওগাঁর ইব্রাহিম আবারো সেটা প্রমাণ করলেন। দুই হাত নেই, পা দু’টিও অবশ। তাতে কি? মুখে তুলি নিয়েই আঁকেন মনোমুগ্ধকর সব ছবি। তার বাড়ির পুকুর পাড়ে গেলেই দেখা যাবে, ঘাড় ঘুরিয়ে বার বার রং নিচ্ছেন আর ছবি আঁকছেন। হুইল চেয়ারের সঙ্গে বিশেষ উপায়ে লাগানো ক্যানভাসে গরু, গাছ, মানুষসহ বিভিন্ন ছবি আঁকছেন মান্দার এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম।

এক সময় দুই পা সচল ছিল। এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপরই চাকরি নেন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে। গত ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে হারিয়েছেন দুই হাত, আর পগু হয়েছে তার পা। এতে করে তার সবকিছুই ওলট-পালট হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসা নেন দীর্ঘ আট বছর। চিকিৎসার খরচ পল্লীবিদ্যুৎ নিলেও নেয়নি তার ভবিষ্যতের দায়িত্ব। তাই নিজ চেষ্টায় তিনি ছবি আঁকা শিখে নিজের কর্মকে সবার কাছে তুলে ধরেছেন। ইব্রাহিম জানান, সিআরপিতে থাকা অবস্থায় সবার কাছে শুনেছেন লাভলী নামে একজন মুখ দিয়ে ছবি আঁকতেন। লাভলীর সঙ্গে তার কখনো দেখা হয়নি। তবে সেই গল্প তার অনুপ্রেরণা।

ইব্রাহিমের আঁকা ছবি

তিনি বলেন, প্রথম দিকে ছবি আঁকতে বসলে মাথা ঘুরতো, বমি করতাম। পরে সব ঠিক হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছবি আঁকতে পারতেন। বেশি ভালো লাগে প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে। তবে বর্তমানে বেশিক্ষণ ছবি আঁকতে পারিনা। একটানা ছবি আঁকলে গায়ে জ্বর আসে। শরীরের সার্বিক পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নেই। 

মান্দার পরানপুর ইউনিয়নের চককেশব বালুবাজার নিজ গ্রামে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ইব্রাহিমের বসবাস। গত চার বছর যাবত তিনি তার বৃদ্ধা মায়ের অসুস্থতার কারণে নিজ বাড়ি চককেশব বালুবাজারে আছেন। তিনি ভালোবাসেন গ্রাম বাংলা ও প্রকৃতির ছবি আঁকতে। তিনি যদি সুযোগ পান তবে তার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চান।

এই মাউথ পেইন্টার জানালেন, সিআরপিতে থাকা অবস্থায় তার আঁকা ছবি দিয়ে অনেকগুলো প্রদর্শনী হয়েছে। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের কিছু মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তাদের মাধ্যমেই ছবিগুলো আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বিক্রি হয়েছে। একটা ছবির বিনিময়ে খুশি হয়ে যে যা দেন, তাই নেন তিনি। বর্তমানে সরকার কর্তৃক প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের বিধবা ভাতা দিয়ে কোনো রকমে চলছে তার সংসার।

মান্দা পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস খান বলেন, মাউথ পেইন্টার এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিমকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড এবং তার মায়ের জন্য বিধবা ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক ছবি প্রদর্শনীর ব্যাবস্থা না থাকায় ইব্রাহিমের প্রতিভাকে সে বিকশিত করতে সক্ষম হচ্ছে না। যদি বড় পর্যায়ে কখনো তার প্রতিভাকে দেখানোর সুযোগ পান তবে তিনি একদিন দেশের সম্পদ হয়ে উঠবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে