Alexa মুখ দিয়ে ছবি আঁকেন ইব্রাহিম

মুখ দিয়ে ছবি আঁকেন ইব্রাহিম

মাহবুবুজ্জামান সেতু, মান্দা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:২২ ৮ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দুই হাত নেই। পা দুটি থাকলেও অবশ। হুইল চেয়ারই একমাত্র ভরসা। তবুও বসে নেই তিনি। মাথা ও মুখ ব্যস্ত থাকে রঙ তুলিতে। রাঙিয়ে তুলছেন ক্যানভাস। হুইল চেয়ারের সঙ্গে বিশেষ উপায়ে লাগানো ক্যানভাসে গরু, গাছ, মানুষসহ বিভিন্ন ছবি আঁকছেন তিনি। শখের বসেই তিনি এগুলো আঁকছেন।

বলছি নওগাঁর মান্দা উপজেলার পুরানপুরের এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিমের গল্প। এক সময় সচল ছিল তার দুটি পা। পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। কাজ করতেন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুতের লাইন ম্যান হিসেবে।

২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সব ওলট-পালট হয়ে গেল। বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে খুঁটি থেকে পড়ে দুই হাত হারান। অচল হয়ে যায় দুটি পা। চিকিৎসার সব খরচ পল্লী বিদ্যুৎ নিলেও নেয়নি তার ভবিষ্যতের দায়িত্ব। তাই নিজ চেষ্টায় ছবি আঁকা শিখে নিজের কর্মকে সবার কাছে তুলে ধরেছেন। প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের বিধবা ভাতা দিয়ে কোনো রকমে চলছে সংসার।

মুখ দিয়ে ছবি আঁকার কারণ জানতে চাইলে ইব্রাহিম বলেন, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ আট বছর স্থানীয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসা নেই। সিআরপিতে থাকার সময় লাভলী নামে একজনকে মুখ দিয়ে ছবি আঁকার কথা শুনি। লাভলীর সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। তবে তার গল্পই অনুপ্রেরণা।

তিনি বলেন, প্রথম দিকে ছবি আঁকতে বসলে মাথা ঘুরতো। বমি করতাম। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। বেশি ভালো লাগে প্রাকৃতিক দৃশ্য আঁকতে। তবে বর্তমানে বেশিক্ষণ ছবি আঁকতে পারি না। একটানা ছবি আঁকলে গায়ে জ্বর আসে।

এমদাদুল আরো বলেন, সিআরপিতে থাকার সময় আমার আঁকা ছবির অনেক প্রদর্শনী হয়েছে। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই ছবিগুলো আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বিক্রি হয়েছে। ছবির দাম নিয়ে দেনদরবার তেমন একটা করা হয় না। বেশির ভাগ সময়ই একেকজন খুশি হয়ে যা দেন, তাই নেই। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আমার কাছ থেকে ২০টি ছবি নিয়ে এক লাখ টাকা দিয়েছেন। এসব ঘটনা স্মৃতি হয়ে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। চার বছর ধরে অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আছি। নিজ বাড়িতে থেকে ছবি প্রদর্শনী অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুযোগ পেলে এ প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ও বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করতে চাই।

পরানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস খান বলেন, মাউথ পেইন্টার ইব্রাহিমকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড ও তার মায়ের জন্য বিধবা ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা না থাকায় তার প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। যদি বড় পর্যায়ে কখনো প্রতিভাকে দেখানোর সুযোগ পান তবে ইব্রাহিম একদিন দেশের সম্পদ হয়ে উঠবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, দুই হাত নেই তবুও ইব্রাহিম মুখের সাহায্যে এঁকে চলেছেন বিভিন্ন রকমের ছবি। উপজেলা প্রশাসন থেকে তার ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা ও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, ইব্রাহিমকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। ছবি আঁকা আরো এগিয়ে নিতে তাকে ঋণ দেয়া হবে।

এদিকে ইব্রাহিম যখন ছবি আঁকেন তখন প্রতিবেশী ও স্বজনরা মুগ্ধ হয়ে দেখেন। তার এ প্রতিভাকে সম্মান জানান তারা। মুখ দিয়ে ছবি আঁকা যে তার একটি বিশেষ গুণ তা ছবিগুলোর দিকে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর