Alexa প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা নরেশ বর্মন

প্রাপ্য সম্মান ফিরে পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা নরেশ বর্মন

নীলফামারী প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০৪ ২৩ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১২:৫৪ ২৩ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউপিতে কোনো রকমে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুঃস্থ জীবন যাপন করেন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র বর্মণ। একাত্তরে যে হাত অস্ত্র নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল, আজ সেই হাত ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোরে। 

গত বছরের ২৮ অক্টোবর একটি দৈনিক পত্রিকায় ‌‌‌‌‍মুক্তিযোদ্ধা নরেশের হাতে ভিক্ষার ঝুলি‌ সংবাদটি প্রকাশিত হয়। খবরটি জলঢাকার মেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের নজরে এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে এলাকাতে যোগাযোগ করে খুঁজে বের করেন নরেশ চন্দ্র বর্মণকে। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর তুরিন আফরোজ ছুটে যান জলঢাকায়  মুক্তিযোদ্ধা নরেশের গ্রামের বাড়িতে। 

তিনি জানতে পারেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন নরেশ। ভারত সরকারের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ৪১২০৪১ নম্বর সিরিয়ালে নরেশের নাম থাকলেও আজ পর্যন্ত সরকারি গেজেট ভুক্ত না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা নরেশকে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা নরেশের মাথায় বেশ বড় একটি টিউমার আছে, পয়সার অভাবে সেই চিকিৎসাও তিনি করাতে পারছেন না। হাপানীতে ভোগছেন নরেশ, সেই সঙ্গে শরীরে রয়েছে আরো অনেক ব্যাধি। অভাবী নরেশ নিজের ও পরিবারের পেটের দায় ও চিকিৎসার জন্য হাতে ঝুলি নিয়ে গ্রামের পথে পথে ভিক্ষা করছেন। নরেশের একটাই চাওয়া এই দেশ আর জাতির কাছে তার মৃত্যুর আগে যেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পান। 

২ নভেম্বর তুরিন আফরোজ জলঢাকার ইউএনও সুজাউদ্দৌলার কার্যালয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেও মুক্তিযোদ্ধা নরেশের সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি।

এরপর নরেশকে সঙ্গে নিয়ে তুরিন আফরোজ নীলফামারী জেলার সিভিল সার্জন রানজিৎ কুমার বর্মনের কাছে যান। জলঢাকা থেকে এপয়েন্টমেন্ট করে বৃদ্ধ নরেশকে কষ্ট করে নীলফামারী নিয়ে যাওয়ার পরও দেখা মেলেনি সিভিল সার্জনের।

সহায়তা না পেয়ে ৪ নভেম্বর তুরিন আফরোজ মুক্তিযোদ্ধা নরেশকে নিয়ে ছুটে যান নীলফামারীর ডিসি হাফিজুর রহমান চৌধুরীর কাছে। দাবি একটাই – মুক্তিযোদ্ধা নরেশের প্রাপ্য সম্মানটুকু চাই!

পরে নীলফামারীর ডিসি হাফিজুর রহমান চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র বর্মনের কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে নরেশ বর্মনের চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ নগদ দশ হাজার টাকা ও এক সপ্তাহের শুকনা খাবার দিয়ে আশ্বস্ত করেন সরকারি ভাবে গেজেট প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তিনি সুপারিশ করবেন।

ডিসি হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, যেহেতু নরেশ বর্মণের নাম ভারতীয় তালিকায় আছে তাই তার যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হবে না। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা নরেশ বর্মনকে তার বরাবর আবেদন করতে বলেন যাতে ডিসি অতি দ্রুত সময়ে মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্রকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে পারেন। 

এমনকি ডিসি মুক্তিযোদ্ধা নরেশ বর্মনের চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে যা কিছু করা দরকার তার দায়িত্ব নিবেন বলেও আশ্বাস দেন। মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র বর্মনকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন নীলফামারী জেলার ডিসি হাফিজুর রহমান চৌধুরী ও তার কার্যালয়।

ডিসি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হওয়ার পরেও তার শোচনীয় অবস্থার জন্য জাতির পক্ষ থেকে নরেশ চন্দ্র বর্মনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এখন থেকে মুক্তিযোদ্ধা নরেশ বর্মনকে আর ভিক্ষা করতে হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/আরআর