Alexa মুক্তিপণ না পেয়ে মাদরাসাছাত্রকে খুন, খালাতো ভাই আটক

মুক্তিপণ না পেয়ে মাদরাসাছাত্রকে খুন, খালাতো ভাই আটক

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৩৯ ২০ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়ায় অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে এক মাদরাসাছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে মগনামা ইউপির নাপিতারদ্বিয়া এলাকা ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নিজ এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় আরাফাত। সে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউপির কাদিমাকাটা গ্রামের ওমান প্রবাসী রুহুল কাদেরের ছেলে। বারাইয়াকাটা নুরানী মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়তো আরাফাত।

শুক্রবার অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন- মগনামা মিয়াজীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদের ও একই ইউপির দরদরীঘোনা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে রায়হান। আটক রায়হান নিহত আরাফাতের আপন খালাতো ভাই।

পুলিশ জানায়, আরাফাত গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়। আব্দুল কাদের, রায়হানসহ আরো কয়েকজন তাকে অপহরণ করে অটোরিকশা যোগে নিয়ে যায়। পরে রাতে আরাফাতের খালা গোলতাজ বেগমকে অপহরণের বিষয়টি জানায় তারা। এরপর গোলতাজের মাধ্যমে অপহরণের খবরটি আরাফাতের মাকে পৌঁছানো হয়। এ সময় অপহরণকারীরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের বিষয়টি পুলিশ অবগত হলে অভিযান চালিয়ে পেকুয়া সদরের মাতবরপাড়া গ্রাম থেকে সকালে আব্দুল কাদেরকে আটক করে। পরে দুপুরে রায়হানকে মগনামা দরদরীঘোনা থেকে আটক করে পুলিশ।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক কামরুল আজম জানান, মুক্তিপণের দাবিতে শিশু আরাফাতকে হত্যা করা হয়েছে। মগনামা নাপিতারদিয়া ধানি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে গলা টিপে হত্যা করে জমিতে ফেলে রাখে অপরহরণকারীরা। অপহরণের দিন রাতের যেকোনো সময়ে তাকে হত্যা করা হয়।

এর আগে আটকদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অপহৃত আরাফাতকে উদ্ধারের জন্য অভিযানে যায় পুলিশ। তারা একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শিশুটির মা রুজিনা আক্তার বলেন, আমার সন্তান ১৭ তারিখ ১২টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়িতে আসে। ১টার দিকে তাকে ভাত খাওয়ানোর জন্য খুঁজতে থাকি। বিভিন্ন জায়গা ও আত্বীয় স্বজনের বাড়িতে তার খোঁজ না পাওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হককে বিষয়টি অবগত করি। তিনি থানা-প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেন। শনিবার আমার ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অপরহরণকারীদের দ্রুত শাস্তি চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম