মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল নাকচ

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল নাকচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:২৭ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৪ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

সংগৃহীত

সংগৃহীত

মিয়ানমারে দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের দায়ে দণ্ডিত দুই রয়টার্স সাংবাদিকের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশটির হাইকোর্ট। শুক্রবার দুই সাংবাদিকের আপিলের রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি বলেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বিবাদী পক্ষ। এর মধ্য দিয়ে রয়টার্স সাংবাদিকদ্বয়কে নিম্ন আদালতের দেয়া ৭ বছর করে কারাদণ্ড বহাল থাকছে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টেও আপিল আবেদন করার সুযোগ থাকছে তাদের। সেখানে যে রায় আসবে, সেটাই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

শুক্রবারের রায়ের পর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টেফেন এক বিবৃতিতে বলেন, “ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর উপর যেসব নিপীড়ন চালোনে হচ্ছে আজকের রায় সেসব অন্যায়ের একটি। তারা এখনও গরাদের পেছনে থাকার একটাই কারণ: যারা ক্ষমতায় আছে তারা সত্যের মুখ বন্ধ করতে চাইছে।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করা অপরাধ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমার এই ভয়ঙ্কর ভুল শুধরে না নেবে ততক্ষণ পর্যন্ত দেশটিতে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা আসবে না। মিয়ানমার আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র চর্চার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা নিয়েও সন্দেহ থেকে যাবে। শুক্রবার আপিলের রায় ঘোষণার সময় দুই সাংবাদিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। রায়ের পর তাদের আইনজীবী থান জ অং জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন কিনা সে ব্যাপারে তিনি তার মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলবেন।

গত মাসে আপিল আবেদনের শুনানিতে দুই সংবাদিকের আইনজীবীরা তাদের কাছে পুলিশের ফাঁদ পাতার প্রমাণ থাকার এবং তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে অপরাধের পর্যপ্ত প্রমাণ না থাকার দাবি করেন। নিম্মআদালত এই মামলা ভুলভাবে উপস্থাপন করে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের দায় দুই সাংবাদিকের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন’ বলেও অভিযোগ করেন তারা।

আইনজীবীরা বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং তা মিয়ানমারের শত্রুদের কাছে পাচার করে জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে সরকার পক্ষে আইনজীবী খিনে খিনে সোয়ে বলেন, আপিলের শুনানির সময় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গোপন নথি সংগ্রহ এবং তা নিজেদের কাছে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস