Alexa মিয়ানমারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কে এই তাম্বাদুর?

মিয়ানমারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কে এই তাম্বাদুর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫০ ২৩ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:০৭ ২৩ জানুয়ারি ২০২০

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদুর ছবি: রয়টার্স

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদুর ছবি: রয়টার্স

২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগসহ গণহত্যার তাণ্ডব চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ফলে জীবন বাঁচাতে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এতে পুরো বিশ্ব স্তম্বিত হয়ে পড়েছিল। ধীরে ধীরে আঞ্চলিক চাপসহ আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে মিয়ানমার। তবে সেই চাপকে তোয়াক্কা না করেই চালিয়ে যায় অনবরত গণহত্যা। তবে তাদের এমন পাষণ্ড কর্মকাণ্ডে লাগাম ধরেছেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদুর। জাতিসংঘের আদালতে করা তার একটি মামলার প্রশ্নের জবাব দিতে হেগে যান মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। সেই সাহসী তাম্বাদুরের  সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো-

তাম্বাদুরের শৈশব

১৯৭২ সালে গাম্বিয়ার রাজধানী বানজুলে তাম্বাদুর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তিনটি বিয়ে করেন। সেই তিন মায়ের ঘরে ছিলেন ১৮ ভাইবোন। স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান তাম্বাদুরকে শৈশবে একটি প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করা হয়। ছোটবেলায় ফুটবল খেলায় পারদর্শী ছিলেন তিনি। পরে দেশের হয়ে একবার শিরোপাও জিতেন। এদিকে বাবাকে সন্তুষ্ট রাখতে খেলাধুলা ছেড়ে লেখাপড়ায় মনোযোগী হন তাম্বাদুর। পরে ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে তাকে পড়তে হয়।

কর্মজীবন

তাম্বাদুর আইনে স্নাতক অর্জন করে নিজ দেশে ফিরে আসেন। এরপর দেশেই আইন পেশায় যুক্ত হন। পাশাপাশি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ২০০০ সালে এপ্রিল মাসে তার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় আসে। কারণ ওই সময় গাম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাম্মেহর নিরাপত্তা বাহিনী চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি করে। এতে ১৪ শিক্ষার্থী, এক সাংবাদিক ও এক রেডক্রস স্বেচ্ছাসেবী নিহত হন।

ওই ঘটনায় তাম্বাদুরের ঘনিষ্ট বন্ধুদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে নির্যাতন করা হয়। তাই বন্ধুদের রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক বিচারের কাজ শুরু করেন তিনি। ফলে তাকে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যেতে হয়। সেই নির্বাসনই তাকে জাতিসংঘের আদালতে কাজের সুযোগ করে দেয়। এরপর থেকেই তাম্বাদুরকে পেছনে তাকাতে হয়নি। অবশেষে ৪৭ বছরের তাম্বাদুর গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন

তাম্বাদুর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানতে পারেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাড়িঘর পুড়ানো, মায়ের সামনে শিশুকে হত্যা, শিশুর সামনে মাকে ধর্ষণ ও জ্বলন্ত আগুনে লোকদের ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। ওই সময় তিনি তার দেশের রোয়ান্ডা গণহত্যার কথা স্মরণ করেন। এরপরই বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন তিনি ।

আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতা ও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেন তাম্বাদুর। মামলার পর বেশ বেকায়দায় পড়ে মিয়ানমার। পরে আদালত থেকে মিয়ানামারের নেত্রী অং সান সু চিকে নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে তলব করা হয়। সেখানে সু চি তার দেশের অবস্থাকে অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে বিশ্বের উন্নত দেশে থেকে অনুন্নত দেশের বিভিন্ন প্রতিনিধি দলসহ জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার সত্যতা পায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ