Alexa মিষ্টি খাওয়ার জন্যই যেতে পারেন এসব জেলায়

পর্ব- ২

মিষ্টি খাওয়ার জন্যই যেতে পারেন এসব জেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৩ ২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:০১ ২ নভেম্বর ২০১৯

কুমিল্লার মাতৃ ভান্ডার

কুমিল্লার মাতৃ ভান্ডার

অনেকে মিষ্টি বেশ পছন্দ করেন, আবার কেউ কেউ মিষ্টি দেখলে ‍মুখ ফিরিয়ে নেন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় এমন কিছু বিখ্যাত মিষ্টি আছে, যেগুলো চেখে দেখতে ভুল করেন না কেউই। অনেকে তো শুধু মিষ্টি খেতেই পাড়ি দেন বিভিন্ন জায়গায়। এমনই ২১টি জনপ্রিয় মিষ্টির খোঁজ জানানো হলো এই আয়োজনে। চার পর্বের দ্বিতীয় পর্ব রইলো আজ-

কুমিল্লার রসমালাই

কুমিল্লার রসমালাই

কুমিল্লার বিখ্যাত খাবার মানেই রসমালাই। স্বাদে, গন্ধে ও মানে খাঁটি হওয়ায় দেশের পূর্বাঞ্চলের মানুষ ভরসা করে আসছে যুগ যুগ ধরে। জানা যায়, উনিশ শতকের প্রথম দিকে কুমিল্লার ঘোষ সম্প্রদায় দুধ ঘন করে ক্ষীর বানিয়ে তাতে ছোট আকারের শুকনো ভোগ বা রসগোল্লা ভিজিয়ে যে মিষ্টান্ন তৈরি করে তা ক্ষীরভোগ নামে পরিচিতি পায়। ক্রমান্বয়ে তা রসমালাই নামে পরিচিত হয়ে উঠে। প্রতি কেজি রসমালাইয়ের বিক্রি হয় ২৬০ টাকা।

কুমিল্লায় কোনো পর্যটক বা অতিথি এলে রসমালাইয়ের স্বাদ নেননি এমন ঘটনা বিরল। তবে আসল রসমালাইয়ের স্বাদ পেতে চাইলে পেতে হবে আসল পণ্য। কারণ কুমিল্লা শহরকে ঘিরে নকল রসমালাইয়ের অসংখ্য দোকান গড়ে ওঠায় আসল যে রসমালাই তার স্বাদ অনেকেই পান না। কুমিল্লা শহরের মনোহরপুরের কুমিল্লা মাতৃভান্ডার নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আসল রসমালাই পাওয়া যায়। সেখান থেকেই অমৃত এই রসমলাই যাত্রা শুরু করেছিল।

বালিশ মিষ্টি

নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি

নেত্রকোনার বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি খেয়েছেন? শত বছরেরও বেশি আগে বালিশ মিষ্টির জনক গয়ানাথ ঘোষ বারহাট্টা রোডে গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে এটি প্রস্তুত করেন। সে সময়ে শুধু তার দোকানেই এই মিষ্টি বিক্রি হতো। অন্য মিষ্টির চেয়ে আকারে বড় এবং দেখতে অনেকটা বালিশের মতো হওয়ায় ক্রেতাদের পরামর্শে গয়ানাথ মিষ্টির নাম রাখেন ‘বালিশ’। অল্পদিনেই অতুলনীয় স্বাদের এ মিষ্টির খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

নেত্রকোনার গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে আসল বালিশ মিষ্টি পাওয়া যায়। জানা যায়, এই দোকানে সাধারণত ১০ থেকে শুরু ২০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজের বালিশ মিষ্টি তৈরি হয়। ২০০ টাকা মূল্যের বালিশ আকারে ১৩ থেকে ১৪ ইঞ্চি হয়। ওই মিষ্টির ওজন ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম হয়ে থাকে। এর চেয়ে বেশি ওজনের বালিশও বানানো হয়। তবে তা অর্ডার দিলে তৈরি করা হয়।

তিলের খাজা

কুষ্টিয়ার তিলের খাজা

কুষ্টিয়ার তিলের খাজার নাম শোনেননি দেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তিলের খাজা মূলত চিনি জ্বাল করে তার সঙ্গে দুধ মিশিয়ে একটা মন্ডা তৈরি করা হয়। মন্ডা লম্বা করে বিছিয়ে কাটা হয় এবং ওই কাটা অংশে তিলের প্রলেপ লাগিয়ে তা বিক্রি করা হয়। কুষ্টিয়া থেকেই এই খাবারটির উৎপত্তি।

উপাদেয় এবং দামে কম বলে এটি গ্রামে-গঞ্জে, শহর-বন্দরে সবখানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রেলওয়ে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ফেরি বা লঞ্চঘাটসহ অলিতে গলিতে রাস্তায় প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায় কুষ্টিয়ার তিলের খাজা। ফেরিওয়ালারা তিলের খাজা ফেরি করে বেড়ায় আনাচে-কানাচে সর্বত্রই। প্রতি প্যাকেট তিলের খাজা পাওয়া যায় দশ থেকে চল্লিশ টাকায়।

সাদেক গোল্লা

যশোরের জামতলার রসগোল্লা

দেশ-বিদেশে সমাদৃত যশোরের জামতলার রসগোল্লা। এটির আরেক নাম সাদেক গোল্লা। দীর্ঘ ৬৩ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রেখে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে এই মিষ্টি। যশোর শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরের জামতলা বাজারে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসেন এই মিষ্টি কেনার উদ্দেশে।

১৯৫৫ সালে চায়ের দোকানদার মরহুম শেখ সাদেক আলী প্রথম এ রসগোল্লা তৈরি করেন। যা জামতলার রসগোল্লা বা সাদেক গোল্লা নামে পরিচিত। বর্তমানে সুনামের সঙ্গে বাবার রেখে যাওয়া এ ব্যবসাটি আঁকড়ে ধরে আছেন তার ছেলেরা। প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ হাজার সাদেক গোল্লা তৈরি করেন কারিগররা। যা দুপুরের আগেই বিক্রি হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত দেশি গরুর দুধ, চিনি আর জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হয় বলে জানায় কারিগররা। প্রতি প্যাকেট ১০০ টাকায় বিক্রি হয়।

সন্দেশ

সাতক্ষীরার সন্দেশ

খাঁটি দুধের ছানা দিয়ে তৈরি এক ধরণের সুস্বাদু মিষ্টি সন্দেশ। যিনি এক বার সাতক্ষীরার সন্দেশ খেয়েছেন তিনি কখনোই ভুলতে পারবেন না। এ কারণেই সাতক্ষীরার বিখ্যাত সন্দেশের কদর এখন দেশের মাটি ছাড়িয়ে বিদেশেও। খাঁটি দুধের খাটি ছানার সঙ্গে চিনি ও হালকা ময়দা জ্বালিয়ে এ সন্দেশ তৈরি করা হয়।

বর্তমানে ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মিষ্টি মুখ, সাগরের সন্দেশ, জয়গুণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, হালিমা হোটেল, সুশীল, সাহা ও নুর সুইটসে উৎপাদিত হয় এই সন্দেশ। কিছু দোকান সাম্প্রতিককালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এদের কেউ কেউ ব্রিটিশ আমল থেকেই সন্দেশ তৈরি করে আসছে সুনামের সঙ্গে। এই মিষ্টি স্বাদে গুণে যেমন অনন্য তেমনি দামেও সাশ্রয়ী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/টিআরএইচ