Alexa মিয়ানমারের ইমিগ্রেশনে যা ঘটলো বাংলাদেশির সঙ্গে

মিয়ানমারের ইমিগ্রেশনে যা ঘটলো বাংলাদেশির সঙ্গে

ইয়ান সালমান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩৮ ২২ জুন ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর পড়ে জানতে পারলাম, এশিয়া ও ইউরোপের পর্যটকদের ভিড় দিন দিন বাড়ছে মিয়ানমারে। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখেরও বেশি হারে পর্যটক বাড়ছে দেশটিতে। এরমধ্যে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যাও কম নয়।

বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে প্রথমেই উঠে আসে ভিসার কথা। মিয়ানমারের ভ্রমণ ভিসার জন্য বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। ভালো একটি এজেন্সিতে ভিসার জন্য জমা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে ভিসা করাতে খরচ পড়বে ৫৫০০-৬০০০ টাকা। আমি মাত্র ৩ দিনে ভিসা পেয়েছিলাম। এছাড়া আপনি মিয়ানমার দূতাবাসের এজেন্ট DNATA Group এও সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। তাতে আপনাকে সবকিছু কাগজপত্র ও তথ্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিয়ে আসতে হবে।

মিয়ানমারের ভ্রমণ ভিসার জন্য আবেদন করতে সবারই প্রায় কিছু কাগজপত্র একই লাগে। যেমন- পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক সলভেন্সী সার্টিফিকেট ইত্যাদি। এছাড়াও পেশাভেদে অন্যন্যা কিছু কাগজপত্র লাগে। যেমন- পেশার পরিচয়পত্রের ফটোকপি, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র, জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন পত্রের ফটোকপি ইত্যাদি।

ভিসা পাওয়ার পর এবার যাওয়ার পালা। ঢাকা-ইয়াংগুন-ঢাকা এই পথে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়া অন্য কোনো বিমানসংস্থা সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে না। ভাড়া ২৬ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। অন্যান্য এয়ারলাইনস কোনো না কোনো জায়গায় ট্রানজিট দিয়ে নিয়ে যায়। সেক্ষেত্র ভাড়ার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।

মিয়ানমারের অন্যতম দর্শনীয় স্থান ‘বাগান’

আমি মূলত কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিলাম। বিমানে শান্তির ঘুম দিয়ে পৌঁছে গেলাম ইয়াঙ্গুন। সেখানকার ইমিগ্রেশনে আমাকে অতিরিক্ত ‘হেনস্থা’ করেছে বলে আমার মনে হয়েছে। বিমান থেকে নামার পর যখন ইয়াংগুন ইমিগ্রেশনে দাঁড়ালাম তখন আশেপাশে সব সাদা চামড়ার মানুষ। লাইন ধরে আমি যখন ইমিগ্রেশন ডেস্কে গেলাম ঠিক তখনই ঘটল আসল ঘটনা। ইমিগ্রেশন অফিসার ছিল একজন বার্মিজ মহিলা। আমার পাসপোর্ট হাতে নিয়ে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শুধুমাত্র বলল, ‘স্যার, বিজিডি’! তার উর্ধতন কর্মকর্তা তাড়াতাড়ি ছুটে আসলো। এসে আমাকে তার সঙ্গে একটা রুমে নিয়ে গেল। হটাৎ খেয়াল করলাম সব মানুষ আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন আমাকে ‘আপরাধী’ হিসেবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এভাবে নিয়ে যাওয়াটা তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে খুব লজ্জায় ফেলে দিলো।

ওই কর্মকর্তা আমাকে প্রশ্ন করার আগে আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, আমাকে কেন ওই লাইন থেকে আলাদা করে এখানে নিয়ে আসা হল? তিনি বললেন, ‘তোমাকে বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেখানের মানুষদের যাতে অসুবিধা না হয় তাই এখানে আনা হয়েছে।’ তিনি একে একে নাম, কী করি, কেন এসেছি, কেন মিয়ানমারেই ঘুরতে চাই ইত্যাদি জিজ্ঞেস করল। আমিও সফলভাবে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিলাম। বলাবাহূল্য আমি ইতোমধ্যেই হোটেল বুকিং, বিমান টিকেট ইত্যাদি দেখিয়েছি। কিন্তু তারপরও সে সন্তুষ্ট না। এরপর আমার মোবাইল ফোন চাইল এবং আমিও দিলাম। কারণ আমি জানি আমার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই। তাই সংকোচ করার কোনো কারণও নেই।

ওই কর্মকর্তা আমার মোবাইল ফোনের গ্যালারি ঘাটাঘাটি করতে থাকে। আমার বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার সৈকতের একটা ছবি দেখে তার চোখ আটকে গেল! আর জিজ্ঞেস করলো, এরা কারা? আমিও সত্য কথাই বললাম। এরকম করতে করতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেল। আমি বিরক্ত হয়ে ওই কর্মকর্তাকে বললাম, দেখ তুমি আমাকে সীমার চেয়েও অনেক বেশি তদন্ত করেছো। তোমার দূতাবাস আমাকে ভিসা দিয়েছে, আমিও এখানে এসে পড়েছি। এখন এতো জিজ্ঞাসার পরেও যদি তুমি সন্তুষ্ট হতে না পারো তাহলে আমাকে আমার পরবর্তী গন্তব্যে ফেরত পাঠিয়ে দাও। কারণ আমি তোমাদের ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। আমার এখন কোনো ইচ্ছা আর নেই এত ভোগান্তির স্বীকার হয়ে মিয়ানমার ঘোরার। অতঃপর সে আমাকে নিজ দায়িত্বে পাসপোর্টে সিল মেরে আমাকে মিয়ানমারে প্রবেশের অনুমতি দিল।

এই পুরো ঘটনার সময় তারা আমাকে এত তদন্ত করলেও কোনো খারাপ ব্যবহার করেনি। প্রত্যেকটি প্রশ্নই হাসিমুখে করেছে।

বি. দ্র: উপরোক্ত বর্ণনা লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত কাহিনী। কালে-ভদ্রে-পাত্রে অন্যরকমও হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে