‘মিনি কক্সবাজার’ কেড়ে নিল একই পরিবারের সাতজনসহ ১৭ জনের প্রাণ

‘মিনি কক্সবাজার’ কেড়ে নিল একই পরিবারের সাতজনসহ ১৭ জনের প্রাণ

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:০০ ৬ আগস্ট ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত নেত্রকোনার মদনে ভ্রমণে এসে হাওরে নৌকা ডুবে লাশ হলেন একই পরিবারের সাতজনসহ ১৭ জন। এ দুর্ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার ময়মনসিংহ ও গৌরীপুর থেকে ৩৮ জন মদনের আটপাড়া তেলিগাতী মাদরাসায় বেড়াতে আসেন। তেলিগাতির ১০ জনসহ ৪৮ জন উচিতপুর মিনি কক্সবাজারে ভ্রমণে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরশিরতা ইউপির কোনাপাড়া গ্রাম, গৌরীপুর ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী মাদরাসা থেকে ৪৮ জন লোক উচিতপুর এসে নৌকা ভ্রমণে বের হয়। নৌকাটি উচিতপুর হাওরের গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে পৌঁছলে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বেলা ১২টার দিকে ডুবে যায়। এতে ১৮ জন নিখোঁজ হয় এবং বাকিরা সাঁতরে কিনারায় উঠেন।

উদ্ধার হওয়া পর্যটক আতাউল্লাহ ও ওমর ফারুক বলেন, উচিতপুর ঘাট থেকে আমরা ট্রলারযোগে হাওরে ঘুরতে গেলে হঠাৎ বাতাসে প্রচণ্ড ঢেউ শুরু হয়। নৌকার মাঝি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে নৌকাটি ডুবে যায়। আমরা সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও নৌকার ভেতরে থাকায় তারা বের হতে পারেনি।

এলাকাবাসী রিয়াজ উদ্দিন ও ইউসুফ আলী তালুকদার জানান, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তবে নৌকায় লোক বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

মদন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তিন ঘণ্টা অভিযানে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেত্রকোনার এসপি আকবর আলী মুন্সী জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ময়মনসিংহের একই পরিবারের সাতজন রয়েছেন। তারা হলেন- হাফেজ মাহফুজুর রহমান, ছেলে আশিফ, মাহমুদ মিয়া, ভাতিজি জুলফা, লুবনা, ভাতিজা জুবায়ের ও মোজাহিদ। তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সাইফুল ইসলাম রতন, জাহিদ, শামীম হাসান, শফিকুল, শহিদুল, ইসা মিয়া, আজহারুল, সামাআন, রেজাউল করিম, হামিদুলকে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিসি মঈনউল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক লাশের পরিবারকে ৭ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ