মা হলেন সড়কের পাশে পড়ে থাকা সেই নারী!

মা হলেন সড়কের পাশে পড়ে থাকা সেই নারী!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:৪৬ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ধর্ষণের পর অসুস্থ অবস্থায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা সেই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী মা হয়েছেন। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কন্যা শিশুর জন্ম দেন তিনি।

তিন মাস বয়সী শিশুটি বেড়ে উঠছে গাজীপুরের কাশিমপুর সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে। মা মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই আশ্রয়কেন্দ্র থেকে শিশুটির দেখভালের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আরেকজনকে।

আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে জানা গেছে, শিশুটির নাম রাখা হয়েছে পাপিয়া। সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত কাশিমপুর সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪৪ জন আশ্রিত রয়েছেন। তাদের মাঝেই বেড়ে উঠছে পাপিয়া।

আশ্রয়কেন্দ্রের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতীর তৎকালীন ইউএনও অমিত দেবনাথ ওই নারীকে এখানে পাঠান। পরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষায় তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই ফুটফুটে মেয়ের জন্ম দেন তিনি।

জাকির হোসেন আরো বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মা ও তার মেয়ে এখানে ভালো আছে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর এখানে শিশু লালন-পালনের কোনো ব্যবস্থা নেই।

কালিহাতীর সাবেক ইউএনও অমিত দেবনাথ বলেন, গণমাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর খবর পাই। নিজের নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারতেন না পারভিন। ২০১৯ সালের ১৮ আগস্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তাকে কাশিমপুর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাই।

কালিহাতীর ব্যবসায়ী জামশেদ বলেন, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় খাবার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে সড়কের পাশে পড়েছিলেন। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার চেয়ে খেতেন। এসব দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান পাওয়ায় খুব ভাল লাগছে।

টাঙ্গাইল মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে মা হয়েছেন। এটা খুবই জঘন্য কাজ হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। যাতে এ ধরনের ঘটনা সমাজে আর না ঘটে। শিশুটি যেদিন জানবে তার পিতৃপরিচয় নেই, সেদিন সমাজের প্রতি তার তীব্র ঘৃণা জন্ম নেবে।

গাজীপুরের এডিসি (সার্বিক) আবু নাসার উদ্দিন বলেন, শিশুটির বয়স ছয় মাস হলে রাজধানীর আজিমপুরের ছোটমণি নিবাসে পাঠানো হবে। সেখানেই এতিম মেয়েটির দেখভাল করা হবে। পরবর্তীতে আগ্রহী পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর পরিবারের খোঁজ চলছে। পাওয়া গেলে তাকেও পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর