মা-ছেলের দ্বন্দ্বে বিএনপির আজ বেহাল দশা

মা-ছেলের দ্বন্দ্বে বিএনপির আজ বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩৭ ৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৪:০২ ৩ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফখরুল-রিজভীর দ্বন্দ্ব, খালেদা জিয়া ও তারেক অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। দলের এই ভঙ্গুর অবস্থা দেখে হতাশায় দল ত্যাগ করে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন শত শত নেতাকর্মী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এতোই খারাপ যে, ঈদের দিন দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে দলে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে করজোড়ে অনুরোধ জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের শীর্ষ ও প্রভাবশালী এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া ও তার ছেলের ক্ষমতার লোভে বিএনপির আজ এই বেহাল দশা।

তিনি বলেন, তাদের মা-ছেলের দ্বন্দ্বে বিএনপির লাখো নেতাকর্মী আজ ঘর ছাড়া। শুধু বিএনপির রাজনীতি করার কারণেই তাদের এই পরিণতি।  

বিএনপির এই নেতা বলেন, ঈদুল আজহায় রাতের অন্ধকারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খালেদা জিয়া। সেখানে পুরো সময়টাই দলের দুরাবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।  তিনি আরো বলেন, বিএনপিতে রিজভী-ফখরুলের দ্বন্দ্ব ও খালেদা-তারেকের দ্বন্দ্ব আর গোপন কিছু নয়। তাদের এসব বিভক্তির কারণে বলি হচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। 

এদিকে সাক্ষাৎ শেষে বের হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাসের সময় এবং বন্যায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। এছাড়া দল যাতে সঠিকভাবে চলতে পারে সেজন্য দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন তিনি।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাপের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এতদিন ধরে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি, সবার সুখে-দুঃখের কথাবার্তা হয়েছে। আমাদের দলেরই অনেক নিবেদিত নেতাকর্মী করোনায় মারা গেছেন। তাদের সম্পর্কে কথা হয়েছে, তাদের পরিবার-পরিজনদের নিয়ে কথা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে, অনেকে চলে গেছেন। সবকিছু মিলিয়ে বলা যেতে পারে সুখ-দুঃখের আলাপ হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা বলেন, দলীয় কোন্দল আর নেতৃত্ব সংকটে বিএনপি আজ জর্জরিত। এ দলে এখন আর সিনিয়র-জুনিয়র নেই। কেউ কাউকে মানে না। হতাশায় নেতাকর্মীরা আজ খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন