মায়ের মরদেহ কাটছে ডোম, মর্গের সামনে কাঁদছে সন্তানরা 

মায়ের মরদেহ কাটছে ডোম, মর্গের সামনে কাঁদছে সন্তানরা 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০৪ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

মায়ের ময়নাতদন্তের সময় মর্গের সামনে কাঁদছে তামিমা ও শাহরিয়ার

মায়ের ময়নাতদন্তের সময় মর্গের সামনে কাঁদছে তামিমা ও শাহরিয়ার

ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে সিলেট যাত্রা শুরু করেন স্বামী গোলাম কিবরিয়া, তার স্ত্রী তারিনা বেগম লিপা, তাদের দুই সন্তান শাহরিয়ার ও তামিমা। তবে রাজধানীর কমলাপুরের টিটিপাড়ায় ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে লিপা নিহতের ঘটনায় তাদের সেই যাত্রা বিষাদে পরিণত হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য মায়ের মরদেহ যখন কাটা হচ্ছিল, ঠিক তখনই মা হারানোর শোকের কান্নায় চারপাশ ভারি হয়ে উঠে।

মৃত লিপার স্বামী গোলাম কিবরিয়া জানান, মঙ্গলবার ছেলে শাহরিয়ারের এসএসসি পরীক্ষা শেষে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে বের হন। সঙ্গে স্ত্রী ও মেয়ে, স্ত্রী ছিলেন। তারা প্রথমে ঢাকার সবুজবাগের রাজারবাগের কদমতলায় আত্মীয় আবু তাহের ইয়াসিনের বাসায় আসেন। পরে ইয়াসিনের বাসায় থেকে ফরিদপুরে যান।

আবারো সিলেটে ফিরতে ওই আত্মীয়ের বাসায় আসেন। সেখান থেকে শনিবার ৬ টা ২০ মিনিটের পারাবত ট্রেনে সিলেট যেতে রওনা হন পরিবারের সবাই। দুটি রিকশার মধ্যে একটিতে মা লিপা ও শাহরিয়ার এবং অন্য রিকশায় মেয়ে তামিমা নিয়ে বাবা কিবরিয়া রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

তাদের রিকশাগুলো টিটিপাড়ায় পৌঁছালেই একটি সাদা প্রাইভেটকার শাহরিয়ার ও লিপাকে বহনকারী রিকশার পথরোধ করে। এরপর লিপার কাঁধে থাকা ব্যাগে টান দেয় ছিনতাইকারীরা। এতে রিকশা থেকে পড়ে লিপা গুরুতর আহত হন।

পরে আহত রক্তাক্ত লিপাকে স্বামী ও ছেলে উদ্ধার করে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেন। কিন্তু অবস্থা জটিল দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সেখানে নেয়ার পর লিপাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপর তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে নেয়া হয়। সেখানেই মাকে হারিয়ে গগণ বিদারী কান্না করছিল শাহরিয়ার ও তামিম।

এদিকে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেছেন মৃত লিপার স্বামী গোলাম কিবরিয়া। মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছিনতাইকারীদের আটক করতে কয়েকটি টিম অভিযান চালাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ