Alexa মাল্টা চাষে আদর্শ মুনসুর

মাল্টা চাষে আদর্শ মুনসুর

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩১ ২৩ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩৪ ২৩ আগস্ট ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সাতুতী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল মুনসুর। নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলক মাল্টা চাষ করে সফল হয়েছেন। এখন তিনি এলাকার মাল্টা চাষিদের আদর্শ। 

২০১৭ সালের জুনে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৯০টি বারি জাত-১ মাল্টার চারা সংগ্রহ করেন মুনসুর। তিনি ৩৩ শতক সমতল জমিতে তা রোপন করেন। রোপনের দুই বছরের মাথায় গাছে মুকুল আসে। তারপর আগস্ট মাসে আশানুরূপ মাল্টার ফলন হয়। এখন তার বাগানের প্রতি গাছে ৬০ থেকে ৬৫টি মাল্টা ঝুলে আছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এসব গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা হবে।

আবুল মুনসুর জানান, কৃষি পেশাকে তিনি মনে প্রাণে ভালবাসেন। চাকরি জীবনে তিনি পরামর্শ দিয়ে উন্নত জাতের কৃষি পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করতেন। স্থানীয় অনেক কৃষকের ভাগ্যের উন্নতি ঘটান তিনি। তাই নিজ গ্রামের জমিতে উন্নত জাতের বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদন করতে ফলের বাগান করেন। এতে সফলতার পাশাপাশি অর্থ উপার্জন করছেন তিনি। এছাড়া সেখানে অনেক কৃষকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, মাল্টা গাছ দীর্ঘ বছর ধরে ফল দিয়ে থাকে। প্রতি মৌসুমে পর্যায়ক্রমে মাল্টা গাছে ফলন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ জন্য সঠিকভাবে গাছের পরিচর্যা ও যত্ম নিতে হয়। মাল্টা বাগানে মাল্টা চাষের পাশাপাশি সঙ্গী ফসল হিসেবে অন্যান্য ফসলের চাষা করা যায়। সঙ্গী ফসল হিসেবে বাগানে মুলা, বেগুন, পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে অর্থ উপার্জন করেছেন তিনি। এরইমধ্যে স্থানীয় পাইকাররা বাগানের মাল্টাগুলো এক লাখ টাকার বিনিময়ে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 

আবুল মুনসুর আরো জানান, তার মাল্টা চাষের সফলতা দেখে স্থানীয় কৃষকরা উৎসাহিত হচ্ছেন। প্রতিদিন মাল্টা বাগান দেখতে আসা লোকজন তার কাছ থেকে চারা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাই স্থানীয়দের মাল্টা চাষে উৎসাহিত করতে ও তাদের চাহিদা মেটাতে প্রথম পর্যায়ে এক হাজার মাল্টার চারা তৈরির পরিকল্পনা করেছি।

এ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুখ রঞ্জন দাস জানান, মাল্টা গাছ রোপনের উৎকৃষ্ট সময় জুন-জুলাই। রোপনের দুই বছরের মাথায় ফল পাওয়া যায়। ৩৩ শতক জমিতে ১০০ গাছ লাগানো যায়। এক ফুট প্রস্থ ও এক ফুট দৈর্ঘ্য গর্ত করে প্রয়োজনীয় সার দিয়ে ১০ দিন ফেলে রেখে গাছ রোপন করতে হয়। প্রথম মৌসুমে ফলন একটু কম হয়। পাঁচ বছর বয়সী প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০টি মাল্টা পাওয়া যায়। মাল্টা গাছে মার্চ-এপ্রিল মাসে ফুল আসে। অক্টোবর-নভেম্বরে ফল সংগ্রহ করা হয়।

গৌরীপুরের ইউএনও ফারহানা করিম বলেন, মুনসুরের মাল্টা বাগান দেখে খুব মুগ্ধ ও খুশি হয়েছি। তার উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে মাল্টা চাষের উৎসাহ যোগাবে।
 
গৌরীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল মুনসুর একজন সফল কৃষি কর্মকর্তা। চাকরি জীবন শেষে তিনি নিজ এলাকায় উচ্চ ফলনশীল কৃষি পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি ফলের বাগান করে সফলতা অর্জন করেছেন। তার মাল্টা বাগান সবার দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি এখন মাল্টা চাষিদের আদর্শ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ