Alexa মালচিং পদ্ধতিতে লাউ চাষে সফলতা

মালচিং পদ্ধতিতে লাউ চাষে সফলতা

এস আলম তুহিন, মাগুরা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১২ ১৮ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে দেশি জাতের লাউ উৎপাদন করে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন তরুণ কৃষক দিদার। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

দিদার বলেন, ‘মালচিং মেথড’ ভারত ও ইসরাইলে খুবই জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। ইন্টারনেটে এ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে মাগুরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে যোগাযোগ করি। তখন তারা এ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করে।

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে লাউ বীজ সরাসরি জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু মালচিং মেথড অনুযায়ী পেপারে মুড়িয়ে অঙ্কুরিত বীজ জমিতে রোপণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মালচিং পলিথিন দিয়ে একটি বীজতলা তৈরির পর সেখানে স্থাপন করা হয় বীজ। যেহেতু বীজগুলো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো থাকে, তাই কোনো পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারে না। ফলে কীটনাশক ব্যবহারেরও প্রয়োজন হয় না।

দিদার বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে যে পেপারটি ব্যবহার হয় তা সরাসরি চায়না থেকে বাংলাদেশের বাজারে আসে। এবার ৬০ শতক জমিতে ৩শ লাউ বীজ রোপণ করেছি। সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খরচ বাদে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় হবে।

তরুণ কৃষক বলেন, বর্তমানে আমার ক্ষেতে ছয়-সাতজন শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিন ১৫০-২০০ লাউ ক্ষেত থেকে কাটা হয়। মাগুরাসহ বাইরের জেলার ব্যাপারীরা ক্ষেত থেকেই লাউ কেনেন। শীতে এর চাহিদা আরো বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাহিদুল আমিন বলেন, লাউ উৎপাদনে সাধারণত অন্যান্য ফসলের তুলনায় পরিশ্রম কম। তবে মালচিং পদ্ধতি লাউ চাষে ফলন ভালো পাওয়া যায়। তাই মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এ পদ্ধতিতে ফসল চাষে অনেক কৃষক সাফল্য অর্জন করেছেন।

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে জমিতে পাঁচ-ছয়বার সেচ দিতে হয়, এ পদ্ধতিতে মাত্র দুবার সেচ দেয়াই যথেষ্ট। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মালচিং পদ্ধতিতে লাউসহ নানা সবজি আবাদ হলেও মাগুরায় প্রথমবারের মতো আবাদ হয়েছে। দিদারের সাফল্যে আমরাও গর্বিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর