মারাত্মক কিছু কুসংস্কার

আঁখি আক্তারডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩২ ১৩ মার্চ ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সমাজে এমন অনেক ধরণের গুজব বা কুসংস্কার প্রচলিত আছে যেগুলোর কোনো ভিত্তি বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। এই কুসংস্কারের কারণে পারিবারিক অশান্তি হয়। মাঝে মাঝে মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে এই সকল গুজব বা কুসংস্কার। এই মারাত্মক কিছু কুসংস্কার থেকে রক্ষা পেতে ভুল-নির্ভুলগুলো জেনে নেই-

১. ঘাড়ে ব্যথা মানেই প্রেসার ধারনাটি ভুল।  মূলত প্রেসার বাড়লে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ পাওয়া যায় না। একটু অস্বস্তিকর অনুভুতি হয় মাত্র। 

২. বুকের বামে ব্যাথা মানেই হার্টের রোগ নয়। হার্টের রোগে সাধারণত বুকে ব্যথা হয় না হলেও বামে নয়তো বুকের মাঝখানে ব্যাথা হয়। হার্টের সমস্যায় বুকের মাঝখানে চাপ চাপ অনুভূতি হয়, মনে হয় বুকের মাঝখানটা যেন কেউ শক্ত করে ধরে আছে। 

৩. কোমর ব্যথা মানে কিডনি রোগ মনে করা ঠিক না। কিডনি রোগে পস্রাব কমে যায়, খাওয়ার রুচি কমে যায়, বমি বমি লাগে এবং মুখ ফুলে যায়। 

৪. ঘন ঘন পস্রাব হলেই ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের কারণ তা নয়। ডায়াবেটিস হলে প্রথম অনুভূতি হল-পরিমাণের অধিক খেলেও শরীরে কোননো শক্তি অনুভব হয়না। এছাড়া ওজন কমে যায়, মুখে দুর্গন্ধ হয় ও ঘা শুকাতে চায়না।    

৫. মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয়না। অগ্ন্যাশয় ঠিকমত কাজ না করলে ডায়াবেটিস হয়। এটি হরমোনাল জনিত রোগ। তাই মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে এই রোগের সম্পর্ক নেই। তবে যদি ডায়াবেটিস হয়ে যায় সেক্ষেত্রে মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 

৬. ছয় মাসের আগে শিশুকে পানি খাওয়ানো যায় না এই ধারণা নিয়ে ব্রেস্ট ফিডিং করাকালীন শিশুর ডায়রিয়া হলে, মা স্যালাইন খেলেই শিশুর চাহিদা পূরণ হয়ে যায় কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। মা খেলেই শিশুর চাহিদা পূরণ হয়না বরং শিশুকেও স্যালাইন খাওয়াতে হয়। 

৭. দাঁত তোলার সঙ্গে চোখের আর ব্রেইনের কোনো সম্পর্ক নেই। দাঁত, চোখ ও মাথার নার্ভ সাপ্লাই সম্পূর্ণ আলাদা। তাই দাঁত তুললে চোখের ও ব্রেইনের কোনো ক্ষতি হয় না। 

৮. অনেকেই মনে করেন,প্রেগন্যান্সিতে বেশি পানি পান করলে পায়ে পানি আসে। আসলে প্রেগন্যান্সিতে প্রোটিন কম খেয়ে, কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে পায়ে পানি আসে। বেশি পানি পানে নয়। তাই প্রেগন্যান্সিতে প্রোটিন বেশি বেশি খেতে হয়। 

৯. মাস্টারবেশন করলে চোখের জ্যোতি কমে না বরং ভিটামিন এ জাতীয় খাবার না খেলে চোখের জ্যোতি কমে যায়।

১০.অনেকেই মনে করেন টক ডিম, দুধ খেলে ঘা দেরীতে শুকায়। এই ধারণাটি একদমই ভুল, বরং টক, ডিমের সাদা অংশ ও দুধ খেলে ঘা তাড়াতাড়ি শুকায়। 

১১. কেউ যদি অস্বাভাবিক আচরণ, ভাংচুর, পাগলামি করে, তার মানেই তাকে জ্বিন ভুতে ধরেছে তা নয়। এটা বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, হ্যালুসিনেশন ছাড়া আর কিছুই নয়। 

১২. তালু কাটা, এক চোখ, কপালে চোখ, বাঘের মত ডোরাকাটা দাগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করা বাচ্চা কেয়ামতের আলামত, আল্লাহর গজব, বাঘের বাচ্চা। মানুষের পেট থেকে বাঘের বাচ্চা হয় না আর কেয়ামতের আলামত বা গজব বাচ্চাদের উপর আসেনা। এসব জিনগত রোগ বা জন্মগত রোগ। তাই এই সকল ভ্রান্ত ধারণা ত্যাগ করুন। 

১৩. অনেকেই ভাবেন প্রেগন্যান্সিতে সাদা স্রাব হলে ফ্লুইড কমে যায়। আসলে হোয়াইট ডিসচার্জ এবং অ্যামনিওটিক ফ্লুইড সম্পূর্ণ আলাদা দু‘টো ফ্লুইড। একটার সঙ্গে আর একটার কোনো সম্পর্ক নেই। 

১৪. বাচ্চা না হলে বন্ধ্যা বলে নারীদেরই দোষারোপ করা হয়। সত্যি বলতে বন্ধ্যা, নারী এবং পুরুষ উভয়ই হতে পারে।

১৫. গর্ভবতী মহিলা আয়রণ, ক্যালসিয়াম না খেলে গর্ভস্থ বেবির নিউরাল টিউব ডিফেক্ট হয়। তাই প্রেগন্যান্ট মহিলা আয়রণ, ক্যালসিয়াম এসব খেলে বাচ্চা বড় হবে এবং এরপর গাইনি ডাক্তার সিজার করার জন্য এগুলা প্রেসক্রাইব করে এই কুসংস্কারটি মন থেকে ত্যাগ করুন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ/জেএমএস