বাদীর চোখ তুলে নিল দুর্বৃত্তরা

বাদীর চোখ তুলে নিল দুর্বৃত্তরা

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩৮ ৩ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ২১:৩৯ ৩ এপ্রিল ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী সাইফুল ইসলামের চোখ তুলে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাকে বাঁচাতে ভাই মো. মাহাবু ও মা মরিয়ম আক্তার এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে আহত করা হয়।

শুক্রবার সকালে শিলখালী ইউপির কাচারী মোড়াস্থ সবুজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা একই এলাকার সালামত উল্লাহর ছেলে ও স্ত্রী। সহোদরকে গুরুতর অবস্থায় পেকুয়া সরকারি হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

সালামত উল্লাহ জানান, গত ১২ মার্চের দিকে শত্রুতার জেরে আমাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় একই এলাকার সামশুল আলমের ছেলে মো. শফি, মো. বেলাল ও তার ছেলে মফিজ। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে গত ১৮ মার্চ ছেলে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত করছেন পেকুয়া থানার এসআই সঞ্চিত। মামলার পর বেশ কয়েক বার তারা সন্তানদের হত্যাচেষ্টা চালান। গত এক সপ্তাহ আগে সুস্থ হয়ে বাড়িতে গেলে আবারো হামলা চালিয়ে আমাকে ও স্ত্রী মরিয়মকে আহত করেন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এসআই সঞ্চিতকে অবগত করলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই ঘটনায় তারা এসআই সঞ্চিতকে ম্যানেজ করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে একটি এজাহার তার হাতে দেন।

এসআই সঞ্চিতের হাতে তারা এজাহার দেয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে দুই সন্তানকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে তাদের তিনজনের নেতৃত্বে সামশুল, দিদার, জাফর ও নন্যামিয়াসহ সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা মামলার বাদী ছেলে সাইফুল ইসলাম, মাহাবু ও স্ত্রীকে বাড়ির সামনে মারধর করেন। একপর্যায়ে সাইফুলকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তার চোখ তুলে নেয়া হয়।

চমেক হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে আহত মাহাবু জানান, মাসহ দুই ভাই মোটরসাইকেল যোগে কাচারি মোড় হয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় সংঘবদ্ধ আসামিরা মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। ওই সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় সঙ্গে ছিনিয়ে নেয়া হয় মুঠোফোন। স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন, এসআই সঞ্চিত ও ইউপি সদস্য আবদুল মালেকের প্রভাবে আমাদের হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

পেকুয়া থানার এসআই সঞ্চিত বলেন, সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। যে মামলার তদন্ত আমি করছি। শুক্রবারের ঘটনাটি সম্পর্কে আমাকে আগে থেকে কেউ জানায়নি। থানার দিকে যাওয়ার সময় সালামত উল্লাহর সঙ্গে দেখা হলে জিজ্ঞেস করি কোথায় যাচ্ছেন। ওই সময় তিনি বলেন, তার দুই সন্তানকে আহত করা হয়েছে। দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখি সাইফুলের চোখে আঘাত আর মাহাবুর হাতে আঘাত। এর চেয়ে আর বেশি কিছু জানি না।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, হামলার বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে গিয়ে তাদেরকে দেখে আসি। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেয়া হলে মামলা রুজু করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম