মান্দায় কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ

মান্দায় কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ

মাহবুবুজ্জামান সেতু, মান্দা (নওগাঁ)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৪ ৪ জুলাই ২০২০  

ভারশোঁ কমিউনিটি ক্লিনিক

ভারশোঁ কমিউনিটি ক্লিনিক

নওগাঁর মান্দায় কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক এবং পরিবার কল্যাণ সহকারীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

অফিস ফাঁকি দিয়ে সেবা প্রত্যাশীদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা নিয়মিত অফিস না করায় ব্যাহত হচ্ছে সেবার মান। 

অভিযুক্তরা হলেন ভারশোঁ ইউপির দায়িত্বরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক এ কে আজাদ, পরিবার কল্যাণ সহকারী ফ্লোরা ইয়াসমিন, নুরুন্নাহার খাতুন ও আঞ্জুয়ারা এবং স্বাস্থ্য সহকারী মানিক কুমার।
 
অভিযুক্তরা নিয়মিত অফিস না করায় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারশোঁ কমিউনিটি ক্লিনিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রতি সপ্তাহে তিনদিন ক্লিনিকে বসে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা সপ্তাহে অথবা মাসে মাত্র একদিন বসেন। 

প্রতি মাসে ইউপিতে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠানের নিয়ম থাকলেও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক এ কে এম আজাদ অধিকাংশ সময় অংশগ্রহণ করেন না। 

এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে পাইলট প্রকল্পভুক্ত ভারশোঁ ইউপির জন্ম নিবন্ধন কাজে অসহযোগিতা করারও অভিযোগ রয়েছে। 

সরকারি নিয়ম- নীতিমালা অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের অফিস করার জন্য মৌখিকভাবে বলা হলেও তারা নিজের ইচ্ছামত অফিসে আসা যাওয়া করে থাকেন। এতে করে গ্রামের অসহায় জনসাধারণ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে এসে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেই সঙ্গে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামের গরিব মানুষেরা। এতে করে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান । 

অভিযোগ অস্বীকার করে দায়িত্বরত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জানান, আগে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্তই তারা অফিস করতেন। করোনাকালীন সময়ের জন্য নতুন নিয়মে তারা অফিস করছেন। বিষয়টি হয়তোবা অনেকেরই অজানা। আর না জেনেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, ভারশোঁ কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন থেকে অনিয়মিতভাবে অফিস করে আসছেন। তাদেরকে মৌখিকভাবে বলা সত্ত্বেও অফিস ফাঁকি দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত আসা যাওয়া করেন। এতে করে অত্র এলাকার গরিব দুঃখী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

আশা করি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে