Alexa মানুষের মল যে দেশের জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়

মানুষের মল যে দেশের জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়

খালিদ মাহমুদ খান  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০০ ৩০ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫৬ ৩০ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জাপান! শিল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিতে অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জনকারী একটি দেশ। এদেশের অগ্রগতি, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সবারই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তবে জাপানিদের চমক জাগানিয়া এমন কিছু কর্মকান্ড এবং সামাজিক পদ্ধতি আছে যেগুলো জানলে সত্যিই চোখ কপালে উঠে যাবার মতো ঘটনা ঘটে যাবে। এমন কিছু ঘটনা তবে চলুন জেনে আসি! 

রোবট পোষ্য প্রাণীপোষা প্রাণীর পরিবর্তে পোষা রোবট- বাচ্চারা সাধারণত পোষা জানোয়ারদের সাথে খেলতে ভালোবাসে কিন্তু অবাক করার মতো তথ্য এই যে জাপানে পোষা জানোয়ারদের দাম অনেক উচ্চমূল্যের। এমনকি একটি গাড়ির চেয়েও বেশি দাম হয়ে থাকে এই পোষা জানোয়ারদের। তাই জাপানীরা বাচ্চাদেরকে প্রাণীসদৃশ রোবট কিনে দেয় যেটা সেন্সরের সাহায্যে কাজ করে থাকে৷ এই অত্যাধুনিক রোবটগুলো বাচ্চাদের প্রতিবেদনে স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিয়ে থাকে এবং প্রোগ্রামিং করা উপায়ে কথা বার্তা বলা থেকে শুরু করে অনেক কাজ করে দিতে পারে। তবে বাড়তি সুবিধা হলো এইসব রোবটকে খাওয়াতে হয় না কিংবা পটি পরিষ্কারের মতোও ঝামেলা নেই। আর এমন অদ্ভুত কাজ শুধুমাত্র রোবটের দেশ জাপানেই সম্ভব। 

ক্যাপসুল হোটেলক্যাপসুল হোটেল- আমরা হোটেল রুম বলতে বুঝি বিশাল কোনো রুম যেখানে আরাম করে শুয়ে বসে থাকা যায়। কিন্তু জাপানের টোকিওতে এইরকম হোটেল অহরহ দেখা যায় যেখানে গ্রাহকেরা শুধুমাত্র শুয়ে ঘুমানোর মতো জায়গা পাবে। যারা বড় কক্ষ বিশিষ্ট হোটেলের খরচ বহন করতে পারেনা মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই এই হোটেলগুলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে এক দুইরাত কাটানোর মতো এই হোটেলগুলো কিন্তু সম্পূর্ণ এয়ার কন্ডিশন্ড। 

প্লাস্টিক খাবারপ্লাস্টিক খাবার- জাপানিরা ঐতিহ্যগতভাবেই নিঁখুত কাজ খুব পছন্দ করে। এমনকি জাপানিরা প্রকৃত খাবারের মতোই প্লাস্টিক খাবার হুবহু বানিয়ে ফেলতে পারে। এই প্লাস্টিক খাবারগুলো তারা ব্যবহার করে নামিদামি হোটেল এবং রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবারের তালিকার স্যাম্পল হিসেবে। তারা মূলত এই দৃষ্টকোণ থেকে এই প্লাস্টিক খাবার সাজিয়ে রাখে যে এই কৃত্রিম খাবারগুলো দীর্ঘদিন সাজিয়ে রাখা যায় যেহেতু এগুলো নষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এতে করে গ্রাহকেরা তাদের পছন্দের খাবারের রঙ ও রূপ দেখে খাবার অর্ডার করতে পারে। 

কৃত্রিম গেজ দাঁতকৃত্রিম গেজ দাত- আমাদের মধ্যে অনেকের মুখেই গেজ দাঁত দেখা যায় এমনকি গেজ দাঁত যাদের আছে তাদের হাসি অনেকের কাছেই পছন্দনীয়। আবার কোনো কোনো গেজদাঁতওয়ালাকে ভ্যাম্পায়ারের মতোও লাগে। এই গেজ দাঁতকে ডাবল টিথও বলা হয়৷ জাপানে অনেক জাপানী নারীই এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদেরও কৃত্রিমভাবে এই গেজ দাঁত লাগাতে দেখা যায় নিজেদের হাসিতে বৈচিত্র‍্য আনার জন্য।
সত্যিই অবাক করার মতো একটি ব্যাপার।

স্বয়ংক্রিয় টয়লেটস্বয়ংক্রিয় টয়লেট- মানুষ মাত্রই আরামপ্রিয়। আর সেই হিসেবে পৃথিবীতে যদি এমন কোনো টয়লেট থাকতো যেখানে নিজেদের কোনো কাজ করতে হতো না, এমন চিন্তাটা কিন্তু মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। অবাক করার মতো হলেও এটিই বাস্তব যে জাপানে এমন অনেক টয়লেট আছে যেখানে মানুষকে কোনো কাজই করতে হয় না। টয়লেট নিজেই মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সকল কাজ করে দেয়। টয়লেটের প্যান ওপেন হওয়া, শৌচ কার্য, অটো ফ্ল্যাশ এমনকি গান শোনানোর মতো ব্যবস্থাও রয়েছে এসব টয়েলেটে। এছাড়াও এতে ইউরিন বা মূত্র পরিমাপ করার ব্যবস্থা ছাড়াও রয়েছে  রক্তচাপ পরিমাপ করার ব্যবস্থাও। 

ব্যাতিক্রমধর্মী জাদুঘরব্যাতিক্রমধর্মী জাদুঘর- জাপানিরা সত্যিই অদ্ভুত এক জাতি৷ যেসব জিনিস মানুষের ঘৃণা এবং লজ্জার বস্তু সেসব জিনিস নিয়ে রয়েছে জাপানিদের জাদুঘর। এই জাদুঘর গুলোতে রয়েছে বিশালাকৃতির একটি কৃত্রিম টয়লেটে এবং সেখানে রয়েছে মানুষের মলের সদৃশ বিভিন্ন রকম স্যাম্পল। প্রতিবছরই প্রচুর মানুষ ভীড় করে এই জাদুঘরে৷ 

আইস্ক্রিম ফ্লেভারসঅদ্ভুত ধরনের আইস্ক্রিম ফ্লেভারস- পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম ফ্লেভার রয়েছে। যেমন ভ্যানিলা,স্ট্রবেরি, চকোলেট ইত্যাদি। কিন্তু জাপানিদের তৈরিকৃত আইসক্রিমের ফ্লেভারগুলো দেখলে কোনো মানুষ ধারণাও করতে পারবে না যে এইসব ফ্লেভারেরও আইসক্রিম বানানো সম্ভব এবং জাপানে এসব ফ্লেভারের নাকি বেশ চাহিদাও রয়েছে। রেড ওয়াইন, ভদকা, বিয়ার, নুডুলস এমনকি ঘোড়ার দুধের ফ্লেভারের আইসক্রিমও রয়েছে সেখানে৷ 

খরগোশ দ্বীপখরগোশ যেখানে দ্বীপের শাসক- খরগোশ সবারই পছন্দের একটি প্রাণী আর যদি কোনো জায়গা ভর্তি শ্বেতশুভ্র খরগোশ দেখতে পাওয়া যায় তাহলে তো সেটি খরগোশ প্রেমীদের জন্য অত্যন্ত ভালোলাগার একটি বিষয়। ঠিক জাপানের অকুশিমাতে এরকমই একটি দ্বীপ আছে যার পুরোটা লাখ লাখ খরগোশ দিয়ে ভর্তি। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই দ্বীপে কিছু খরগোশ আনা হয় একটি গোপনীয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য। কিন্তু কিছু বিশেষ কারণের জন্য সেটি বাতিল করা হয়। যার ফলে পরবর্তীতে খরগোশ সেটিকে অভয়ারণ্য হিসেবে পেয়ে প্রজনন ঘটিয়ে লাখ লাখ খরগোশের দ্বীপ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে আর যেটি দেখতে প্রতি বছর ।সেক পর্যটক ভীড় জমায়৷ 

পাবলিক বাস যাত্রীরাপাবলিক বাস বা ট্রেনে কোনো ম্যানার নেই- বাংলাদেশে মহিলা, শিশু কিংবা বৃদ্ধদের বাসে সীট ছেড়ে দেয়া বা পূর্ব থেকেই সীট বরাদ্দ রাখার মতো সৌজন্যবোধ থাকলেও জাপানে কিন্তু এমনটা করা হয়না। এমনকি তারা কোনো গর্ভবতী মহিলাকেও বাসে বা ট্রেনে সীট ছেড়ে দিতে আগ্রহীনা। তাদের ভাষ্য হলো বসতে চাইলে আগে আসুন, সীট ফাকা পেলে বসুন নয়তো দাড়িয়েই থাকুন। 

দাঁড়িয়ে ঘুমানোর গ্যাজেটদাঁড়িয়ে ঘুমানোর গ্যাজেট- ভৌগোলিক এবং ঐতিহ্যগতভাবেই জাপানীরা অনেক বেশি পরিশ্রমী এবং সেই কারণেই জাপানীরা কম ঘুমাতেও অভ্যস্ত, তাই অবসরে তাদের দাঁড়িয়ে ঘুমানোর জন্য এমন একটা গ্যাজেট রয়েছে যা গলায় ঝুলিয়ে অনায়েসেই আরাম করা যেতে পারে। যার নাম সাবওয়ে চিন রেস্ট। সত্যিই কি অদ্ভুত চিন্তাভাবনা তাদের!

খেলনা ট্রেনদূরদূরান্তে যাতাযাতের জন্য খেলনা ট্রেন- খেলনা ট্রেনের  চড়ার কথা ছেলেমানুষি চিন্তা করার মতো হলেও জাপানে কার্টুনের চরিত্রের আদলে তৈরি চলমান এই ট্রেনগুলো এত বিশাল আকৃতির যে এগুলোতে চড়ে জাপানিরা যেকোনো জায়গায় ভ্রমণ করে থাকে। 

বিকিনি জিন্সবিকিনি জিন্স- আমাদের দেশে জিন্সের উপর দিয়ে আন্ডারগার্মেন্টস পড়া সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বেমানান এবং শালীনতা পরিপন্থী হলেও জাপানে কিন্তু এটা একটা ফ্যাশন। ব্রাজিলে এই ফ্যাশন বেশি সমাদৃত হলেও মূলত জাপান থেকেই এর সূচনা। এতে জিন্সের সাথে আন্ডারগার্মেন্ট সেট করা থাকে। হালের ফ্যাশনে এটি জাপানের নতুন একটি ফ্যাশনবোধ।
 
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস