মানিকগঞ্জে যৌতুকের বলি স্ত্রী, অবশেষে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মানিকগঞ্জে যৌতুকের বলি স্ত্রী, অবশেষে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১৮ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মানিকগঞ্জে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন। বুধবার বিকেলে আসামি হযরত আলী বেপারীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন।

নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি একেএম নূরুল হুদা জানান, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ফাড়িরচর গ্রামে নূরুল হকের ছেলে হযরত আলী বেপারীর সঙ্গে ২০০০ সালে একই গ্রামের মামলার বাদী মোন্নাফ বেপারীর মেয়ে রোকসানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কন্যা সন্তান জন্মের পর রোকসানাকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসে তার স্বামী। 

২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হযরত আলী রোকসানার বাবার বাড়িতে এসে যৌতুকের এক লাখ টাকা দাবি করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় রোকসানার বাবা মোন্নাফ বেপারীর সঙ্গে হযরত আলী বেপারীর কথা কাটাকাটি হয়। ওই দিনই রোকসানা তার স্বামীর সঙ্গে শ্বশুর বাড়ি চলে যায়। ওই রাতেই স্বামী হযরত আলী তার স্ত্রী রোকসানাকে হত্যা করে রাতে মরদেহ বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলানোর সময় লোকজন দেখে ফেলেন।

পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জ সদর থানায় রোকসানার বাবা মোন্নাফ বেপারী বাদী হয়ে মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০০৯ সালে ২ সেপ্টেম্বর হযরত আলী বেপারীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামি হযরত আলী বেপারী আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান।

আদালতে মোট নয়জনের সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। আসামি হযরত আলী বেপারীর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী রোকসানা আক্তারকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার মানিকগঞ্জ নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন আসামিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম