মানবিক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী

মানবিক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৬ ৩০ মে ২০২০  

এমপি একরামুল করিম চৌধুরী

এমপি একরামুল করিম চৌধুরী

পৃথিবীর বুকে করোনাভাইরাস ভয়াবহ ছাপ রেখে যাবে এটি এখন দৃশ্যমান। এই সময়ে মানুষের মধ্যে কেউ কেউ নিজের জীবন বিপন্ন করে মানুষের জীবন বাঁচাতে মহামানব হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। আবার কারোর অমানবিক হয়ে উঠার বিষয়টিও এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে নানাভাবে। 

করোনায় মানবতার স্বাক্ষর রাখা মহান মানুষদের মধ্যে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী অন্যতম দৃষ্টান্ত। নোয়াখালীর রাজনীতির মাঠের জনপ্রিয় জননেতা থেকে করোনার এই দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন মানবিক এমপি।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা একরামুল করিম চৌধুরী এমপি নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাড়ে ৬ লাখ মানুষসহ জেলার প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মধ্য থেকে প্রকৃত কমর্মহীন ভুক্তভোগীদের খোঁজে বের করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। 

খোঁজখবর নিচ্ছেন দেশের সম্মুখ করোনাযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের। কমর্মহীন ভুক্তভোগী এবং সম্মুখ করোনাযোদ্ধাদের জন্য গড়ে তোলেছেন ‘একরাম চৌধুরী ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ফাউন্ডেশন। সেখানে নিজেই জমা করেছেন কোটি টাকা। তার এই ফাউন্ডেশনে জেলার অর্থশালীরাও নিজ নিজ সার্মথ্য অনুযায়ী  জমা করেছেন লাখ লাখ টাকা। এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই মহামারি করোনায় সংকট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন একরামুল করিম চৌধুরী।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই প্রশাসনের পাশাপশি জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিজে এবং দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। যা দেখে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও অবাক হয়েছেন। জীবনের মায়া ত্যাগ করে মহামারি করোনার ঝুঁকি তোয়াক্কা না করে জেলাবাসীর খেদমতে মাঠে ময়দানে আছেন এ এমপি। 

করোনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী, খাদ্য ও অর্থ বিতরণ, সচেতনতামূলক মাইকিং, হাসপাতাল-মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো ও হাসপাতালে চিকিৎসার মান বৃদ্ধিতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

গত ১১ এপ্রিল জেলায় মোরশেদ আলম নামে এক বিদেশফেরত ব্যক্তি প্রথম করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়। এরপর প্রতিনিয়তই জেলায় বাড়তে থাকে করোনা রোগী। 

শনিবার পর্যন্ত জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭৫ জন। করোনা সংক্রমণের শুরুতে যখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাল দিয়ে চিকিৎসকেরা আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচে ডাক্তারদের পিপিই ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করে জেলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সচল রাখেন এমপি একরাম।

এরপরই দেশে করোনায় মারা যাওয়া প্রথম ডাক্তার সিলেটের মঈন উদ্দিনের পরিবারের পাশে দাঁয়িছেন এই মানবিক একরামুল করিম চৌধুরী। একরাম চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ডাক্তারের পরিবারের জন্য ২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তিনি। 

এ পর্যন্ত করোনায় সম্মূখ যোদ্ধা সারাদেশে নিহত ৬ সাংবাদিক পরিবারের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দিয়েছেন ৩ লাখ টাকা, জেলায় অসুস্থ প্রবীণ সাংবাদিক মাস্টার আহছান উল্যাহর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা, করোনা আক্রান্ত দুই সংবাদকর্মীর জন্য ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা, সাংবাদিকদের চিকিৎসার জন্য ডিসির কাছে ২ লাখ টাকা, সারাদেশে ১৪ জন পুলিশ সদস্যের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ৭ লাখ টাকা প্রদান করেন।

করোনাকালের শুরু থেকেই সরকারি ত্রাণের বাইরে নিজ উদ্যোগে একরামুল করিম চৌধুরী জেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া ভুক্তভোগীদের প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে তাদের ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছেন। 

করোনা শনাক্তকরণের জন্য তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় জেলার আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হয়েছে দুইটি ল্যাব। 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব স্থাপনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান দেন তিনি।

প্রতিনিয়তই জেলার করোনা পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করে আসছেন এমপি একরাম। 

গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় নোয়াখালীর করোনা রোগীদের জন্য ১০টি আইসিইউ বেড স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্বান্ত জানান দেন তিনি। এজন্য সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ওই সভা থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী, মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই হচ্ছে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বড় পরিচয়। যতদিন বেঁচে থাকবো, জেলাবাসীর নিরাপত্তায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

তিনি বলেন, করোনা প্রকোপে সহায়তা চাইতে না পারা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত লক্ষাধিক পরিবারের কাছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যারা বাকি রয়েছে, তারাও ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবেন না, এটা আমাদের অঙ্গীকার। দুর্যোগ কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত এ ত্রাণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এমপি বলেন, সারাদেশে করোনাকালে ডাক্তার-নার্স, সাংবাদিক, পুলিশসহ অন্যান্য সম্মুখ করোনাযোদ্ধা হিসেবে যারা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের পরিবারকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ