মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা কামাল আটক

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা

মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা কামাল আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৩ ১ জুন ২০২০   আপডেট: ১৯:২৫ ২২ জুন ২০২০

মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে  হাজী কামাল

মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে  হাজী কামাল

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে  হাজী কামালকে (৫৫) আটক করেছে র‍্যাব।

সোমবার গুলশানের শাহজাদপুর থেকে ভোর বেলা তাকে আটক করা হয়। দুপুরে ব্রিফিং করেন র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রকিবুল হাসান।

র‍্যাব-৩ এর ব্রিফিংতিনি জানান, কামাল উদ্দিন একজন টাইলস কন্ট্রাক্টর। তাই অনেক টাইলস শ্রমিকের সঙ্গে তার পরিচয় আছে। এ সুযোগে সে তাদের প্রলুব্ধ করে, বাংলাদেশে তোমরা ৫০০-৮০০ টাকা আয় করতে পারো কিন্তু লিবিয়াতে গেলে তোমরা প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করতে পারবে এবং লিবিয়াতে টাইলস মিস্ত্রিদের অনেক চাহিদা। সে আরো বলে লিবিয়াতে যাওয়ার আগে মাত্র এক লাখ টাকা আমাকে দেবে এবং বাকি ৪ লাখ টাকা লিবিয়াতে পৌঁছানোর পরে তোমার পরিবার আমাকে দেবে। শ্রমিকরা লিবিয়াতে পৌঁছানোর পরে সেখানে অবস্থান করা অন্যান্য পাচারকারী দলের সদস্যরা ভিকটিমদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা দাবি এমনকি শারীরিক নির্যাতন করে। সেই নির্যাতনের ভিডিও ভিকটিমদের পরিবারের কাছেন পাঠায়।

তিনি আরো জানান, এমনকি সরাসরি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে যার কারণে ভিকটিমদের পরিবার জীবন বাচাঁনোর জন্য পাচারকারী দলের চাহিদামত টাকা দিতে বাধ্য হয়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় এ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে দালাল চক্র/পাচারকারী দল সাগর মহাসাগর পার হতে গিয়ে কোনো কোনো শ্রমিকের সলিল সমাধি ঘটে আবার কিছু শ্রমিকদের নিয়ে বিভিন্ন গহীন জঙ্গলে অর্ধাহারে অনাহারে থেকে মানবতার জীবন যাপন করে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়।

মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে  হাজী কামালগত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে লিবিয়াতে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশিকে পাঠিয়েছে কামাল। লিবিয়া ছাড়াও সে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবৈধ প্রক্রিয়ায় লোক পাঠিয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরো বলেন, এই সিন্ডিকেটটি ৩টি ধাপে কাজগুলো করতো। বিদেশে গমনেচ্ছুক নির্বাচন। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় পাঠানো ও লিবিয়া থেকে ইউরোপ পাঠানো।

বিদেশে গমনেচ্ছুক নির্বাচনের সময় এই চক্রের দেশীয় এজেন্টরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষদের অল্প খরচে উন্নত দেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রার্থীদের সামর্থ অনুযায়ী ধাপ নির্বাচন করে থাকে। ইউরোপের ক্ষেত্রে তারা ৭-৮ লাখ টাকা নেয়। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এই চক্রের সদস্যরা বেশ কয়েকটি রুট ব্যবহার করে। রুটগুলো তারা সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী মাঝে মধ্যে পরিবর্তন অথবা নতুন রুট নির্ধারণ করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ-কলকাতা-মুম্বাই-দুবাই-মিশর-বেনগাজী-ত্রিপলী (লিবিয়া) রুট ব্যবহার করে।

ত্রিপলীতে পৌঁছানোর পর ত্রিপলীতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কথিত কয়েকজন এজেন্ট তাদের গ্রহণ করে। তাদের ত্রিপলীতে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করানো হয়। ত্রিপলীতে অবস্থানের সময়ে এজেন্টদের দেশীয় প্রতিনিধিরাা ভিকটিমদের আত্মীয়স্বজন থেকে অর্থ আদায় করে। অতঃপর ভিকটিমদের ত্রিপলীর বন্দর এলাকায় একটি সিন্ডিকেট অর্থের বিনিময়ে ইউরোপে পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের হস্তান্তর করা হয়। এরপর সিন্ডিকেট সমুদ্রপথে অতিক্রম করার জন্য নৌ-যান চালনা এবং দিক নির্ণয়যন্ত্রসহ আনুসাঙ্গিক বিষয়ের উপর নানাবিধ প্রশিক্ষণ দেয়। একটি নির্দিষ্ট দিনে ভোর রাতে এক সঙ্গে কয়েকটি নৌ-যান লিবিয়া হয়ে তিউনেশিয়া উপকূলীয় চ্যানেল হয়ে ইউরোপের পথে রওনা দেয়। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে গমনের সময় ভিকটিমরা ভূমধ্যসাগরের মাঝে মধ্যেই দূর্ঘটনার শিকার হয়।

লিবিয়ায় সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ও আহত বাংলাদেশিরা বৃহত্তর মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাগুরার বাসিন্দা। তারা বেশ কয়েকটি চক্রের মাধ্যমে অবৈধপথে ইউরোপে যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/এমআরকে/