Alexa মাদরাসা মন্দিরে ফারাক একটি দেয়াল

মাদরাসা মন্দিরে ফারাক একটি দেয়াল

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২০ ১৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:২০ ১৬ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্বে সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহারণ বাংলাদেশ। এ দেশে শত শত বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা একইসঙ্গে বসবাস করছেন। সামাজিক, ধর্মীয়ভাবে পরস্পরের সহযোগিতা একটি সহজাত কাজ। এছাড়া দেশে বেশ কয়েকটি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহারণ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগরে টেকনিক্যাল ইসলামিয়া আলিয়া মাদরাসা ও শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া একটি। যার দূরত্বের ফারাক মাত্র একটি দেয়াল। 

উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় ওই দুই প্রতিষ্ঠানসহ ছোট-বড় পাঁচটি মসজিদ ও চারটি মন্দির রয়েছে। কিন্তু এখনো ইসলাম ও সনাতন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।

সনাতন ধর্মের অনুসারীরা নানা আয়োজনে ঢাক-ঢোল, শঙ্খ বাজিয়ে আর উলুধ্বনির মাধ্যমে পূজা অর্চনা করেন। তবে নামাজের আগেই সব কিছু বন্ধ হয়। তাছাড়া মাদরাসার পাঠদানে কোনো প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হয় না। এখানে সব ধর্মের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়। 

স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, বীরবিক্রম রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুর প্রায় ৮০০ বছরের আগে রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠা হয় টেকনিক্যাল ইসলামিয়া আলিয়া মাদরাসা। দুটি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে পৃথক কমিটি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে পৃথক কমিটি কাজ করে।  

হেফাজত নেতা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে মসজিদ, মাদরাসা আর মন্দির একই স্থানে রয়েছে। মাদরাসা ও মন্দির সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে রেখেছে। তাছাড়া সমন্বয় করে নামাজ, পাঠদান, ইবাদত আর পূজা অর্চনা চলে। যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। 

মাদরাসার শিক্ষার্থী মো. ইউসুফ আফসারী, মো. মুবাশ্বের হোসেন বলেন, মাদরাসা আর মন্দিরের ফারাক একটি দেয়াল। তবুও পাঠদানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। 
 
জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবু আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। দেশের নানা প্রান্তরে যার অনেক নির্দেশনা ছড়িয়ে রয়েছে। পৌর শহরের রাধানগরে এক দেয়ালের ফারাকে মাদরাসা আর মন্দির। ইসলাম ও সনাতন ধর্মের অনুসারীরা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন। যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ‍উজ্জ্বল উদাহারণ। 

আখাউড়ার সিনিয়র সাংবাদিক দুলাল ঘোষ বলেন, মাদরাসা আর মন্দির কাছাকাছি থাকলেও সম্পর্কের ঘাটতি নেই। বরং দুই ধর্মের অনুসারীরা সবসময় ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছেন। পাশাপাশি মাদরাসা মন্দির থাকা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। 

আখাউড়া টেকনিক্যাল ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নাসির উদ্দিন বলেন, ইসলামের অনুসারীরা অন্য ধর্মের প্রতি খুবই সহানুভূতিশীল। তার বাস্তব প্রমাণ এক দেয়ালের দূরত্বে মাদরাসা ও মন্দিরের অবস্থান। এখানে মিলেমিশে বাস করার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরস্পরকে দাওয়াত দেয়া হয়। এখানে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি নেই। 

রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, দুই ধর্মের অনুসারীদের সম্পর্ক হলো দীর্ঘ বছরের। এক দেয়ালে মাদরাসা আর মন্দির যেন এক মিলনমেলা। ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠানে পরস্পরকে  দাওয়াত দেয়া হয়। এটি দীর্ঘ বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ