মাদকিবরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

মাদকিবরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১৪ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে হামলা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে হামলা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

জামালপুরে রাণীগঞ্জ পতিতাপল্লীতে মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হালিম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের পর মাদক ব্যবসায়ী কবিতার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাঙচুর করে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও পতিতাদের লাঠিচার্জ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লাঠিচার্জে মাদক ব্যবসায়ী ও পতিতা সর্দার কবিতা, ডলি, রজু, ঝানু, বিলকিস, নাসিমা, জুঁইসহ ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার পুলিশ ও আনসার বাহিনী নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু আব্দুল্লাহ খানের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে মারধর, ফাঁকা গুলিসহ গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে পতিতা ও পুলিশ প্রশাসন।

পতিতাদের দাবি, তল্লাশির নামে তাদের বেধড়ক মারধর করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় সাত রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, পতিতারা মাদকবিরোধী অভিযানে হামলা ও পুলিশের একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করেছে। তবে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। 

মাদকবিরোধী অভিযানে হালিম ও আলম নামে দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তবে আলমের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রমাণ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু আব্দুল্লাহ খান জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে হালিমকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। হালিম শহরের মুসলিমাবাদের মকবুল হোসেন ড্রাইভারের ছেলে।

তিনি আরো বলেন, অভিযান চলাকালে গুলিবর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে জামালপুর প্রেস ক্লাবে এসে অভিযোগ করেন মারধরের শিকার পতিতারা। তারা বলেন, আমরা রাস্তায় এলে আমাদের মারধর করা হয়। টেনে-হিচঁড়ে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। কিল, ঘুষি দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় পতিতাপল্লীর তিন নম্বর বাড়ির রাজু, চার নম্বর বাড়ির জানু ও বিলকিস, পাঁচ নম্বর বাড়ির নাসিমা, আট নম্বর বাড়ির জুঁই ও নয় নম্বর বাড়ির কবিতা আহত হন।

কবিতা জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ইন্সপেক্টর হুমায়ূনসহ পুলিশের সদস্যরা মদের কাউন্টারে বসে কাউন্টার মালিকের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। ইন্সপেক্টর হুমায়ূন আমাদের প্রতিজনের কাছে মাসে ২০ হাজার টাকা চান। আমরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি বলেন, টাকা যখন দিবিই না তাহলে পরে বুঝমুনি তগো কীভাবে শায়েস্তা করা লাগে। তগোরে মাদক ব্যবসায়ী বানাইয়া আমরা চালান করমু।  

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক মো. হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়া জানান, পতিতাদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে পতিতারা। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তারা একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে পতিতাদের হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সদর থানার ওসি মো. সালেমুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি পতিতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দেয়া হলে নেয়া হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম