মাতব্বরদের অত্যাচারে একঘরে চারটি পরিবার

মাতব্বরদের অত্যাচারে একঘরে চারটি পরিবার

 নাটোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৫ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:৪২ ৭ জুলাই ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালী ইউপির বুড়িকদমা গ্রামের চারটি পরিবারকে দীর্ঘ দিন ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

গ্রাম্য মাতব্বরদের অত্যাচারে ঘর ছেড়েছে একটি পরিবার। স্ত্রী, সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী খোলাবাড়িয়া গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

উপজেলার ইটালী ইউপির বুড়িকদমা গ্রামের পীরস্থানের জমি দখল করে বাড়ি করেন জিল্লুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। এ সময় মান্নান পক্ষ মাদরাসা নির্মাণের প্রস্তাব দিলে শুরু হয় বিরোধ। জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে তাকে বসবাসের সুযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রাম্য মাতব্বরদের বিরুদ্ধে।

মান্নান ও তার ভাইদের কোণঠাসা করতে রাতারাতি গ্রামের কিছু মাতব্বর একজোট হন। পরবর্তীতে মান্নানের বাড়ির পাশে তাদের ভোগদখলকৃত ২০ শতক জমিতে ঈদগাহ মাঠ নির্মাণের প্রস্তাব দেন মাতব্বররা। তারা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাতের আঁধারে মান্নানের দখলকৃত জমির গাছপালা, সবজি বাগান নষ্ট করা হয়।

সিংড়া সার্কেলের এএসপি জামিল আকতার ও সিংড়া থানার ওসি নুর-এ-আলম সিদ্দিকীকে অবহিত করেন মান্নান ও তার ভাইয়েরা।

এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলামসহ দু’পক্ষকে নিয়ে সালিশ করে ঈদগাহ মাঠ ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। বিনিময়ে মান্নান ও তার ভাইদেরকে মাটিভরাট ও গাছের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।

এরপর থেকেই মান্নান ও তার পরিবারকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে একঘরে করে রাখে মাতব্বররা।

সম্প্রতি ওই জায়গায় মান্নানের ভাই মোস্তফা গাছ থেকে তাল পাড়তে বারণ করায় অপর ভাই মোতালেবকে রনির নেতৃত্বে মারপিট ও তার কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

সিংড়া থানায় মোতালেবের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ রনিসহ তিনজনকে আটক করে।

মান্নান, তার ভাই মোস্তফা, মোতালেব ও মহব্বতের সঙ্গে গ্রামের কাউকে কথা বলতে দেয়া হয় না। কথা বললে ৫শ’ টাকা জরিমানার নির্দেশ রয়েছে।  

আব্দুল মান্নান বলেন, বাবা একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। তিনি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। বাড়ির পাশে মসজিদে দুই শতক জমি দান করে মসজিদ নির্মাণ করেছি।

পীরস্থানের জমিতে মাদরাসা করার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু গ্রামের কয়েকজন মিলিত হয়ে সেখানে একজনকে বসতবাড়ি করতে সহযোগিতা করেছে। আমরা প্রতিবাদ করায় গ্রামের কিছু মানুষ একজোট হয়। বর্তমানে আমাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। গ্রামের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। মূলত আমাদের গ্রামছাড়া করতে মরিয়া ওই পক্ষ।

প্রতিবেশী জাহিদুল ইসলাম জানান, আব্দুল মান্নান ও তার ভাইয়েরা খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ওপর অন্যায় ও জুলুম করা হচ্ছে। আমি সত্য কথা বলায় বাড়ির সামনে বেড়া দেয়া হয়েছে। যাতায়াতে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাকে অকট্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

গ্রাম থেকে বিতাড়িত ফটিক বলেন, নিরুপায় হয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। মান্নানের পক্ষ নেয়ায় আমাকে মারার হুমকি দেয়া হয়েছে। রাস্তাঘাটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। খুন জখমের হুমকি দেয়া হয়।  

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম্য মাতব্বর রেজাউল ও আব্দুর রশিদ জানান, মান্নান ও তার ভাইয়েরা সমাজে নানারকম বিশৃঙ্খলা তৈরি করার কারণে গ্রামবাসী তাদের এড়িয়ে চলে। একঘরে করে রাখা হয়েছে অভিযাগটি সঠিক নয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মান্নান ও তাদের পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। ফটিক গ্রাম ছেড়েছে, সে একজন নিরীহ মানুষ।

স্থানীয় ইটালী ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ জানান, তাদের একঘরে করে রাখার বিষয়টি এখনো শুনিনি। তবে এর সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করব।

সিংড়া থানার ওসি নুর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, একঘরে করার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। এর আগে এ বিষয়ে মামলা হয়েছিল, পুলিশ আসামিদের আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। একঘরে করার সত্যতা পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে