Alexa মাঠ গোছাচ্ছেন মিরপুর ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা

মাঠ গোছাচ্ছেন মিরপুর ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:১৭ ১১ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২৩:০২ ১১ নভেম্বর ২০১৯

হারুন-অর-রশিদ মিঠু ও মো. ইসমাইল মোল্লা

হারুন-অর-রশিদ মিঠু ও মো. ইসমাইল মোল্লা

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীতে পাল্টাতে শুরু করেছে রাজনীতির হাওয়া। রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও যার যার মতো করে প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন সব দলের কাউন্সিলর পদ প্রার্থীরা।

মনিপুর, বড়বাগ ও পিরেরবাগ নিয়ে গঠিত রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড। ৯৫ হাজার ভোটারের এ এলাকায় প্রায় পাঁচ লাখ লোকের বসবাস। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবহেলা, দুর্নীতি, অনুন্নত রাস্তা-ঘাট আর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এলাকাটি। এ অবস্থায় দিশেহারা এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এলাকার উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ আসেনি। নেয়া হয়নি সুষ্ঠু কোনো পরিকল্পনাও। ফলে অনুন্নত রাস্তা-ঘাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা এ এলাকাবাসীর প্রধান সমস্যা। বর্ষা বা বৃষ্টির প্রয়োজন হয় না, শুক্রবার কিংবা সরকারি ছুটির দিনগুলোতে এলাকাবাসীর ব্যবহার্য পানিতেই ডুবে যায় রাস্তাঘাট।

তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর মেয়র আতিকুর ইসলাম একবারের জন্যও এলাকা পরিদর্শনে আসেননি। স্থানীয় এমপি, মেয়র, কাউন্সিলরদের অবহেলা ও অভিভাবক শূন্যতার কারণেই দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে মিরপুরের এ ১৩ নম্বর ওয়ার্ড।

এ অবস্থায় তৃণমূল ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা- আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একজন নির্লোভ, দুর্নীতিমুক্ত সৎ অভিভাবক। যিনি কাউন্সিলর হিসেবে এলাকাবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, বিদ্যুৎ, অবকাঠামোগত উন্নয়নে মনোযোগ দিয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবেন।

এ এলাকায় কাউন্সিলর দৌড়ে বর্তমানে এগিয়ে আছেন মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল মোল্লা, বর্তমান কাউন্সিলর হারুন-অর-রশিদ মিঠু ও আবুল কালাম আজাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান কাউন্সিলর হারুন-অর-রশিদ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তেমন কার্যকর কোনো ভূমিকা না রাখায় এলাকাবাসীর সঙ্গে তার একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডেদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ থাকায় আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনিই দলের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন। 

এদিকে মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল মোল্লা এলাকায় সৎ, সাহসী ও ভালো সংগঠক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও স্নেহভাজন ও উদ্দীয়মান তরুণ নেতা হিসেবে বিবেচিত।

নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার সমস্যা নিয়ে তিনি শিক্ষক, সিনিয়র সিটিজেন, মাওলানা, মুক্তিযোদ্ধা, শ্রমিক শ্রেণিসহ প্রতিটি পর্যায়ের লোকের সঙ্গে মতবিনিময় করে চলেছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ ও এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. ইসমাইল মোল্লা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে চলেছে। কিন্তু এ এলাকায় দুর্ভোগের শেষ নেই। এলাকায় সবচেয়ে বড় দুভোর্গ হচ্ছে রাস্তা ঘাটের সরু অবস্থা, অনুন্নত রাস্তাঘাট এবং জলাবদ্ধতা।

তিনি আরো বলেন, এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতই খারাপ যে বর্ষা বা বৃষ্টি লাগে না, এমনিতেই এলাকার মধ্যে পানি জমে থাকে। ভঙ্গুর রাস্তাঘাটে চলাচলে এলাকাবাসী প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের এলাকায় নাই বললেই চলে।

এলাকার উন্নয়নে সরকারি কোনো বরাদ্দ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের এলাকায় কোনো বরাদ্দ আসেনি। ইসমাইল মোল্লা বলেন, এ এলাকায় বসতি গড়ে উঠেছে মনিপুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নানা ধরনের অনিয়ম আছে। নির্বাচিত হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেগুলো প্রতিরোধ করার চেষ্টা কররো। আমাদের এলাকায় আগে মাদক ছিল না। কিন্তু এখন এটি লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় সামাজিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ়। আগামী দিনে যদি আমার কোনো সুযোগ আসে তাহলে আমাদের মানুষের যে ভাতৃত্ব বা বন্ধন আছে, সেটা যেন আরো দৃঢ় হয় সেই পদক্ষেপ নেব।

বর্তমান কাউন্সিলর হারুন-অর-রশিদ জানান, আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

‘অভিযোগ রয়েছে এলাকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তেমনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেননি’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, আসলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কেউই পুরোপুরি সফল হতে পারে না। তারপরও সবাই যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করে যায়।

তিনি বলেন, কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার কাছে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রজেক্ট ও বরাদ্দ এসেছে। এর মধ্যে ২০ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট শেষ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মনিপুর ও বাবা হুজুরের মসজিদ এলাকায় কিছুটা অনুন্নয়ন আছে। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। মেট্রোরেলের কারণে ওই এলাকার কিছু সড়কে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমি এসব এলাকার জন্য বরাদ্দ চেয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এসআই/আরএ