মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিল ছেলে!

মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিল ছেলে!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২৫ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন দুলাল হাসান নামে এক ছেলে।

গত তিন দিন থেকে ঘরের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দিলে অসহায় অবস্থায় ওই বৃদ্ধা মা একদিন একরাত সেখানে পড়ে ছিলেন। এ ঘটনায় ছেলের বিচার চেয়ে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই বৃদ্ধা মা।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ওই বৃদ্ধা মায়ের ব্যবহৃত সব জিনিসপত্র বাইরে ফেলে রেখেছে ছেলে দুলাল হাসান। এ সময় সাংবাদিকরা ওই বৃদ্ধার ছবি তুলতে গেলে দুলাল ছবি তুলতে বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

জানা গেছে, উপজেলার বড়খাতা ইউপির বড়খাতা গ্রামের বাহানত উল্লাহর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জাবেদা বেওয়া দুই ছেলেকে নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। 

গত রোববার সামান্য কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাতের আধারে মায়ের সব জিনিসপত্র ও মাকে মারধর করে বের করে দেন বড় ছেলে দুলাল। এর পর ছোট ছেলে জাবেদ আলীক সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় বড়খাতা ইউপি চেয়ারম্যানকে বিচার দেন।

বৃদ্ধা জাবেদা বেওয়া বলেন, ‘জায়গা-জমি সব লিখে নিয়ে আমাকে মারধর করে ঘরের জিনিসপত্র ঘর থেকে বাইরে ফেলে দেয় ছেলে। স্বামীর রেখে যাওয়া ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এই দুঃখ কার কাছে বলি। পেটের ছেলে এভাবে মারবে এবং বের করে দেবে তা মেনে নেয়া যায় না।’

বৃদ্ধার বড় ছেলে ও বড়খাতা বাজারের দর্জি দুলাল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমার মায়ের মুখের ভাষা খুবই খারাপ। তাই মায়ের জিনিস পত্র বাইরে রেখে দিয়েছি। তবে মাকে মারধর করিনি।

বড়খাতা ইউপির মহিলা ওয়ার্ড চেয়ারম্যান আমিজন নেছা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তার ছেলে এ কাজটি ঠিক করেননি। 

বড়খাতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেল ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ঘটনা শুনে সেখানে গিয়ে দেখেছি। ছেলে হয়ে নিজের মাকে মারধর করা ঠিক হয়নি। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে