Alexa মাকে খুঁজছে তুবা, কাঁদছে মাহির

বাড্ডায় রেনু হত্যা

মাকে খুঁজছে তুবা, কাঁদছে মাহির

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৩:২৭ ১৩ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৩:২৮ ১৩ আগস্ট ২০১৯

মাকে ছাড়াই প্রথম ঈদ করছে বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত রেনুর ছেলে মাহির ও মেয়ে তুবা। মায়ের নির্মম মৃত্যু দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে মাহিরকে। আর তুবা তো জানেই না তার মা আর নেই।

ঈদের দিন রাজধানীর মহাখালীতে রেনুর বাসায় ঢুকতেই দেখা মিলল তুবার। খেলনা চুলায় রান্নার হাঁড়ি চড়িয়ে ব্যতিব্যস্ত সে। কী রাঁধছ? জানতে চাইলে লাকড়ি নাড়িয়ে জানান দিল, ‘খিচুড়ি। মা আমেরিকায় আছে। আমার হাতের খিচুড়ি খেতে চলে আসবে।

মায়ের জন্য এখনো কাঁদে রেনুর এগারো বছরের ছেলে মাহির। মায়ের নির্মম মৃত্যু এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে লক্ষ্মীপুরের লামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাহির।

রেনুর ভাগনে নাসির উদ্দিন টিটো বললেন, ‘শান্তশিষ্ট’ তুবা মাকে হারিয়ে ‘অস্থির’ হয়ে উঠেছে। আগে কিছু বায়না করলে বুঝিয়ে বললে শুনতো। কিন্তু এখন কোনো কিছু বলে বোঝানো যায় না। মাকে খোঁজে, পায় না। তাই আমরা ওদের নিয়েই ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করি। সব সময় ওর বায়নাগুলো পূরণ করার চেষ্টা করি।

রেনুর বোন নাজমুন নাহার নাজমা বললেন, তিন বোনের মধ্যে রেনু সবার ছোট ছিলো। এ জন্য সবার আদরেরও ছিল সে। ঈদে আমরা একই রঙের পোশাক কিনতাম, একসঙ্গে ঘুরতে যেতাম। আজ আমি একা হয়ে গেছি, বড় একা।

ছোট মেয়েকে অকালে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন সবুরা খাতুন। প্রতিটি ঈদে রেনু তাকে গোসল করিয়ে দিতো। সেমাই পায়েস রান্না করে খাওয়াতো। সেসব স্মৃতি মনে করে সকাল থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ