Alexa মাউন্ট এভারেস্টে ‘ট্রাফিক জ্যাম’!

মাউন্ট এভারেস্টে ‘ট্রাফিক জ্যাম’!

ভ্রমণ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৪১ ২৪ মে ২০১৯   আপডেট: ১০:৪৬ ২৪ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মাউন্ট এভারেস্টে ট্রাফিক জ্যাম! অবাক হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়। একই সঙ্গে ২০০ জন পর্বতারোহীর সামিটের চেষ্টায় ট্রাফিক জ্যামের মতোই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গে।

জ্যামে পড়া মানেই অপেক্ষা বাড়তে থাকা। এক ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা... এরপর অক্সিজেন সঙ্কট! বাধ্য হয়ে মাঝরাস্তা থেকে ফেরত এসেছেন অনেকেই। জ্যামের কারণেই এভারেস্টের শেষ ধাপে গিয়েও বেশ কিছু অভিযাত্রীরই সামিট করা হল না এবছর। অভিযাত্রীরা এমন অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন গত বুধবার ।

এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়, ৮৮৪৮ মিটার উঁচু এভারেস্টে সামিটের লক্ষ্যে বুধরার ভোরে বিভিন্ন দেশের পর্বতারোহীরা ক্যাম্প ফোরে পৌঁছন। কিন্তু উপরে ওঠার চাপ এতটাই বেশি ছিল যে বহু পর্বতারোহীকে ওই ক্যাম্পেই দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। তাতে কয়েক জনের ধৈর্যচ্যুতিও হয়। কোনো মতে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়।

তবে এমন বিচিত্র ঘটনার কথা এর আগে খুবই কম শোনা গেছে। নেপাল সরকারের বলছে, ২০১৯ সালে এভারেস্ট সামিটের জন্য ৩৮১ জন পর্বতোরোহীর নাম নথিভূক্ত হয়েছে। যা সর্বকালীন রেকর্ড। গত ১৪ মে নেপাল সরকার এভারেস্ট সামিটের রুট খুলে দিলে আট সদস্যের শেরপার দল এবছর প্রথম শৃঙ্গের চূঁড়ায় পৌঁছয়। তারা ছাড়া আরো ৪৩টি দল এভারেস্ট সামিটের লক্ষ্যে চড়াই শুরু করেছে জানা যায়।

কেন জ্যাম হয়?

এভারেস্ট জয় করতে এখনই সবচেয়ে ভালো সময়। পর্বতারোহী ও শেরপাদের ভিড়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গেও দেখা যায় ‘ট্রাফিক জ্যাম’! কারণ প্রতিবছর অসংখ্য পর্বতারোহী সামিট করেন। আর প্রত্যেককে পথ দেখিয়ে দেয়ার জন্য সঙ্গে থাকেন কয়েকজন করে শেরপা। তারা বিভিন্ন জিনিসপত্রও বহন করেন। সেই হিসাবে এবার এভারেস্টে উঠে ১ হাজারের বেশি মানুষ। এরই মধ্যে এভারেস্টে ওঠার বেস ক্যাম্পে দলে দলে পর্বতারোহীরা পৌঁছাতে শুরু করেছেন।

পর্বতারোহীদের সহকারী হিসেবে মোট পাঁচবার পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রেখেছেন সোনাম শেরপা। তিনি জ্যাম প্রসঙ্গে বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকতে থাকতেই সবাই চূড়ায় উঠতে চায়। সবারই তাড়া থাকে। কিন্তু পর্বতারোহীদের অভিযানের ক্ষেত্রে কোনো সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই। তাই সেখানে ‘ট্রাফিক জ্যাম’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এভারেস্ট জয় করে ফেরার সময় প্রায় সময়ই অক্সিজেনের অভাব থাকে। তখন যদি লম্বা লাইনের মধ্যে পড়তে হয়, তাহলে অনেকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে