মহিষ ছেড়ে ১৫০ একর জমি দখল

মহিষ ছেড়ে ১৫০ একর জমি দখল

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৫৯ ১৩ আগস্ট ২০২০  

চরে তিন শতাধিক মহিষ ছেড়ে দেয়া হয়

চরে তিন শতাধিক মহিষ ছেড়ে দেয়া হয়

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মহিষ ছেড়ে দিয়ে কৃষকদের ১৫০ একর চরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।

উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউপির পশ্চিম চরকাচিয়া গ্রামের নতুন চরে এ ঘটনা ঘটে। দখলদার মফিজ খান উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউপির সদস্য।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে চরটি পরিদর্শন করেন হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি মালিক পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মহিষ সরিয়ে নিতে বলেছেন।

জানা গেছে, মেঘনার বুকে জেগে ওঠা নতুন চরের ১৫০ একর জমিতে শতাধিক কৃষক ১১ বছর ধরে চাষাবাদ করছিলেন। এরমধ্যে ২০০৩-০৪ সালে ৬৬ জন কৃষককে ৬৬ একর জমি সরকার বন্দোবস্ত দিয়েছে। এ চরে মৌসুমে ধান ও সয়াবিন চাষ হয়। উৎপাদনও ভালো।

সম্প্রতি চরটি বরিশাল জেলার দাবি করে চরবংশীর ইউপি সদস্য মফিজ খান, হায়দরগঞ্জের টিটু হাওলাদার ও তাদের অনুসারীরা দখলের পাঁয়তারা চালান। ১৫ দিন আগে কৃষকদের জমি দখলে নিতে তারা চরে তিন শতাধিক মহিষ ছেড়ে দেন। মহিষের বিচরণে জমিতে রোপণ করা আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বিষয়টি তদন্তের জন্য রায়পুর থানার ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া সরেজমিনে যান। এ সময় তিনি দখলদারদের মহিষগুলো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেননি। উল্টো ৫ আগস্ট থেকে মফিজ ও টিটু হাওলাদারসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরে মহড়া দিচ্ছেন। এছাড়া কৃষকদের ও পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিচ্ছেন। এতে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন চরের বাসিন্দারা। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে মোতালেব হোসেন দখলদার মফিজ খান, টিটু হাওলাদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

দক্ষিণ চরবংশী ইউপি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা জানান, কৃষকদের জমি দখলে নিতে মফিজ সম্প্রতি তিন শতাধিক মহিষ চরে ছেড়ে দিয়েছেন। এতে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। মফিজ ও তার লোকজন চর এলাকায় প্রতিনিয়ত অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার বিকেলে একাধিকবার কল দিলেও মফিজ খানের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান জানান, মহিষগুলো চরে ছেড়ে দেয়ায় কৃষকদের ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। মহিষগুলো সরিয়ে নিতে মালিকদের বলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর