মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে হত্যার পরিকল্পনা স্বামীর!

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে হত্যার পরিকল্পনা স্বামীর!

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৪ ৮ জুলাই ২০২০  

স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান

স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা কুসুমকে তার স্বামী হত্যার পরিকল্পনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত স্বামী জিয়াউর রহমান ওরফে শাহীন জিয়া উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান।

এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেছেন আফরোজা কুসুম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। আর তার স্বামী জিয়াউর রহমান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে আফরোজা কুসুম বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আফরোজা কুসুম বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যার সময় আমি উপজেলার বাংলাইশ গ্রাম থেকে কাজ সেরে প্রাইভেটকারযোগে আমার বাসভবনে ফিরছিলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাড়িটি লালচাঁদপুর আসা মাত্র আমাকে বহনকারী প্রাইভেটকার চালকের মোবাইলে আমার স্বামী জিয়াউর রহমান ফোন দিয়ে আমাদের লোকেশন জানতে চান।

এরপর ড্রাইভার সরল বিশ্বাসে তাকে বলে আমরা লালচাঁদপুর আছি। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মনোহরগঞ্জ উত্তর বাজারে এলে আমার স্বামী সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি থামাতে বলেন। এরপর সে গাড়ির জানালার ভিতর মাথা ঢুকিয়ে আমি গাড়িতে একা আছি কি-না তা নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে প্রাইভেটকারটি মনোহরগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ মাথায় আসা মাত্রই ৭-৮ জন মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত মোটরসাইকেল নিয়ে আমার গাড়ির পেছনে ধাওয়া করে। 

এরপর মনোহরগঞ্জ বাজারের খোদাইভিটা এলাকার বালুর মাঠের সামনের পাকা সড়কে ওপর তারা মোটরসাইকেল দিয়ে ঘেরাও করে গাড়ি থামিয়ে দরজা খুলতে বলে। এ সময় চালক দরজা না খুললে তারা আমাকে গালমন্দ করতে থাকে। পরবর্তীতে গাড়ির দরজা খুললে ওই লোকগুলো আমাকে হত্যাসহ বিভিন্ন রকমের হুমকি প্রদান করে এবং আমার উপর আক্রমণের চেষ্টা করে। তবে বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা দ্রুত দক্ষিণ দিকে চলে যায়।

আফরোজা কুসুম আরো বলেন, শাহীন জিয়া বিয়ের পর থেকে প্রায়ই যৌতুকের জন্য আমাকে নির্যাতন ও মারধর করেছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলাও করেছি আমি। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছেন। মামলার পর থেকে সে বিভিন্ন সময় মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমাকে হত্যা করাসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। এছাড়া আমার বাবার বাড়িতেও ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হামলা করিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করিয়েছে সে। আমার বিশ্বাস আমার স্বামী জিয়াউর রহমানই সেদিন আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। 

বুধবার দুপুরে এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান ওরফে শাহীন জিয়ার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একপর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন তিনি।

এই ব্যাপারে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মাহাবুব কবির বলেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা কুসুম থানায় একটি জিডি করেছেন। আমরা সেটির তদন্ত করে দেখছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ