মহাকাশের একমাত্র ভাসমান দেশ এটি
Best Electronics

মহাকাশের একমাত্র ভাসমান দেশ এটি

সিফাত সোহা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৪ ২০ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১২:৫৫ ২০ এপ্রিল ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আমরা রাতের আকাশের তারাদের দেখি। আমাদের অনেকেরই ইচ্ছা হয় যে যদি আমরা মহাকাশে ভ্রমণ করতে পারতাম বা সাইন্স ফিকশন মুভির মতো মহাকাশে বসবাস করতে পারতাম। যদি আপনার এরকম কোন স্বপ্ন থেকে থাকে তাহলে সেটিকে বাস্তবায়িত করার সময় এসে গেছে। হ্যাঁ! একদম ঠিক পড়ছেন। পৃথিবীর বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের একটি দল মহাকাশে এসগারডিয়া নামে একটি দেশ বানানোর পরিকল্পনা করেছেন। এই দেশটি পৃথিবীর জন্য একটি সুরক্ষা কবজের কাজ করবে।

এসগারডিয়া পৃথিবীকে ক্ষতিকারক মহাজাগতিক রশ্মি এবং ধূমকেতুর বিপদ থেকে রক্ষা করবে। বিজ্ঞানীরা এরইমধ্যে দেশের নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। পৃথিবীর যেকোনো মানুষ এই দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক লাখ মানুষের আবেদন পত্র পাওয়ার পর এটাকে ইউনাইটেড নেশন এর কাছে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আবেদন করা হবে। আজ আমরা আলোচনা করবো পৃথিবীর একমাত্র মহাকাশের দেশ এসগারডিয়ার ব্যাপারে। 

মহাকাশে একটি গোটা দেশের কথা সাইন্স ফিকশন মুভির মতো লাগে। কিন্তু শীঘ্রই এটিকে বাস্তবায়িত করা হবে। বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন মহাকাশে একটি ভাসমান দেশ বানানোর পরিকল্পনা করেছেন। এটির নাম দেয়া হয়েছে এসগারডিয়া। বিজ্ঞানিরা ২০১৭ সালেই 'এসগারডিয়া এক' নামের একটি স্যাটেলাইট লঞ্চ এর সঙ্গে সঙ্গেই এই দেশের ঘোষণা করবে বলে পরিকল্পনা করেছিলেন। যা এরইমধ্যে বাস্তবায়িত করা হয়েছে। এই দেশটি পৃথিবীকে মহাকাশের বিভিন্ন ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করবে। কসমিক রশ্মি, পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা ধুমকেতু, উল্কা বা মহাকাশে নষ্ট হওয়া স্যাটেলাইট বা রকেটের টুকরো। এসব থেকে আমাদের পৃথিবীকে রক্ষা করবে।  

অ্যারোস্পেস ইন্টারনাশন্যাল রিসার্চ সেন্টারের প্রধান ডঃ ইগর আশুরবেইলির মতে, পৃথিবীর চারপাশে ২০ হাজারের চেয়েও বেশি রকেট স্পেস ক্র্যাফট  এবং স্যাটেলাইট এর টুকরো পৃথিবীকে পরিক্রমণ করছে। যেগুলো একটি ধাক্কায় পৃথিবীর কমুনিকেশন নেটওয়ার্ক পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ইগর আশুরবেইলি ইতিমধ্যে ইউনেস্কর স্পেস সাইন্স কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। ২০১৩ সালে রাশিয়ার একটি শহরের উল্কাপাত হওয়ার ফলে অনেক বাড়িই নষ্ট হয়ে যায়। এই দেশটি বানানোর উদ্দেশ্য হলো এই ধরনের বিপদ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা। 

এসগারডিয়া দেশের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য একটি ওয়েবসাইট লঞ্চ করা হয়েছিল। তাদের মতে, পৃথিবীর যেকোনো দেশের যেকোনো মানুষ এই দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রথম এক লাখ লোককে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। পরবর্তীকালে এটিকে ইউনাইটেড নেশন এর স্বীকৃতি দেয়া হবে। এই দেশের নাগরিকত্বের জন্য বিভিন্ন দেশের প্রচুর মানুষ আবেদন করেছেন। 

জানা গেছে, উপগ্রহের থেকে পাওয়া তথ্যের সাহায্যে মহাকাশে এই দেশটির নির্মাণ করা হবে। বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ভাসমান দেশটিকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরের ৩৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে বানানো হবে। যেখানে মানুষের বসবাস করার মতো সমস্ত রকম সুবিধা থাকবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৬ বছরের মধ্যে পৃথিবীর মানুষদের মহাকাশে বসবাসের জন্য পাঠানো হবে। রাশিয়ার বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ ইগর আশুরবেইলির মাথায় মহাকাশে এই দেশটি বানানোর পরিকল্পনা আসে। তার মতে এটি উদ্দেশ্য হলো মহাকাশকে পৃথিবীর মানুষের বসবাসযোগ্য করা এবং পৃথিবীর মানুষকে সহজে মহাকাশে পৌঁছে দেয়ার। এই মিশনটিকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়াতে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
 
অনেক দেশের লোকেরা এই দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। সবচেয়ে বেশি আবেদন যে দেশগুলো থেকে গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো হল চায়না, ইউএস, তুরস্ক, ব্রাজিল, ইটালি, কলোম্বিয়া, মেক্সিকো এবং রাশিয়া। এই দেশটির সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন দেশ হবে। এটিকে ধাপে ধাপে তৈরি করা হবে। এটির একটি স্যাটেলাইটও লঞ্চ করা হয়েছে মহাকাশের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। এই দেশের এক লাক লোক মহাকাশ সম্পর্কে সমস্ত রকম তথ্য লাভ করবেন। এই দেশটির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করাই নয় বরং পৃথিবীর সেই সব দেশগুলোকে সাহায্য করা যেগুলো স্পেস  টেকনোলজির দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। এই দেশের একটি নিজস্ব ক্যালেন্ডার তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে বছরে ১২ মাসের জায়গায় ১৩টি মাস থাকবে। 

এই দেশের নাগরিকদের কাছে দুটি দেশের নাগরিকত্ব থাকবে। একটি হলো এসগার্ডিয়ার এবং আরেকটি হলো বর্তমানে তারা যে দেশের বাসিন্দা। এটির জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় পতাকা বানানোর জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে পরামর্শ নেয়া হয়েছে। এই দেশের কারেন্সির নাম হবে সোলার। ডঃ ইগর আশুরবেইলি প্রথম পাঁচ বছরের জন্য এই দেশের প্রেসিডেন্ট থাকবেন এবং পরবর্তীকালে ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন এটি নামে আইডিয়া কেন রাখা হয়েছে। এই নামটি একটি পৌরাণিক কাহিনী থেকে নেয়া হয়েছে। যেখানে মহাকাশের শহরকে এসগারডিয়া বলা হয় এবং এসগারডিয়ার বাসিন্দাদের আসগারডিয়ান্স বলা হতো। যারা পৃথিবীকে রক্ষা করতো। ঠিক সেভাবে এই দেশের নাগরিকদের এসগারডিয়ান বলা হবে। এই দেশের নাগরিকত্ব সম্পূর্ণভাবে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। 

১৯৬৭  সালে আউটার স্পেস টূয়েন্টি নামের একটি আইন তৈরি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে যে, মহাকাশের যেকোনো বস্তুর উপর সব দেশের সমান অধিকার আছে এবং মহাকাশ এর মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ। বিজ্ঞানীরা যদি সত্যি এই দেশটি বানাতে সক্ষম হয় তবে ভবিষ্যতে আমরা হয়তো মহাকাশ সম্পর্কে আরো নতুন নতুন বিস্ময়কর তথ্য জানতে পারবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics