মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া 

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া 

পর্ব-২

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৫৯ ৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:০৩ ৭ জানুয়ারি ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

গ্রাহক আল্লাহ তায়ালা পাঠান: একেই আল্লাহর ফজল বলা হয়, অথচ মানুষ ধোঁকায় পড়ে যায়। বাহ্যিক আসবাব উপকরণ জমা করে ভাবতে থাকে এসব উপায় অবলম্বন করার কারণেই আমার রুজি রোজগার বেড়েছে! এই দোকানের কারণেই আমার উন্নতি হয়েছে। এসব কিছু আমার চেষ্টা মেহনতের ফসল। অথচ, বাস্তবে এসব কিছু দিয়ে থাকেন অন্য কেউ। অন্য কোনো সত্তা। 

আরো পড়ুন>>> মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া পর্ব- ১

তবে এটা ঠিক যে হাতের ওপর হাত রেখে বসে থাকাও কোনো সুস্থ মানুষের কাজ না, বরং সময় ও শ্রম দু’টোই দিতে হবে। পুঁজিও খাটাতে হবে। এরপর শ্রম ও সময়ের স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার ফজল ব্যতীত কিছু হাসিল হবে না। আল্লাহ তায়ালার ফজল শামিল না হলে সারা দিন দোকান খুলে বসেই থাকবে কিন্তু কোনো গ্রাহকই আসবে না।

আল্লাহ তায়ালার ফজল ব্যতীত উপকরণ প্রভাব সৃষ্টিকারী হতে পারে না কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, সেই ব্যবসায়ী অন্তরে কে এই সহমর্মিতা সৃষ্টি করে দিলেন যে, তুমি তোমার গ্রাহকের মাধ্যমে উপকার হাসিল করো না। তাকে বরং তুমি তোমার পাশের দোকানির কাছে পাঠিয়ে দাও। সে তার দ্বারা উপকৃত হোক, আল্লাহ তায়ালার ফজল ব্যতীত এ আর কী হতে পারে? তাই আল্লাহ তায়ালা তার এসব দুনিয়াবি নেয়মতকে ফজল আখ্যা দিয়েছেন এবং মানুষকে এদিকে মনোযোগ আকৃষ্ট করেছেন যে, তোমরা যেই চেষ্টা মেহনত করছ, পুঁজি খাটাচ্ছো নিঃসন্দেহে এগুলো বাহ্যিক উপকরণ, তোমরা এই উপকরনেই মানুষের মনোযোগ আকৃষ্ট করে থাকে। আল্লাহ তায়ালার ফজল ব্যতীত এসব উপায় আসবাব মানুষের মনে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না।

চাকরির জন্য শুধু ডিগ্রি যথেষ্ট না: আপনি কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ে বহু ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উচ্চ পদে চাকরি করার যোগ্য হয়ে উঠেছেন, যোগ্যতার কারণে এখন আপনাকে সোনার সঙ্গে তুলনা করা যায়, লোকজন আপনাকে সম্মান ও সমীহ করে । অথচ আপনার মতো বহু যোগ্য ও ডিগ্রি ধারী চাকরি খোঁজতে খোঁজতে জুতোর তলা ক্ষয় করে ফেলেছে কিন্তু চাকরি নামের সোনার হরিণের সন্ধান কোথাও পাচ্ছে না, আসলে ডিগ্রি ও যোগ্যতা নিছক বাহ্যিক উপকরণ। কিন্তু এই উপকরণকে প্রভাব সৃষ্টিকারী বানিয়ে এর মাধ্যমে উচ্চপদে চাকরি পেয়ে যাওয়া আল্লাহ তায়ালার ফজল ব্যতীত কিছুতে সম্ভবপর হতে পারে না। 

ফসল ফলানো মানুষের ইচ্ছাধীন না: দেখুন কিষান জমিনে হাল দেয়, জমিন উর্বর করে, আগাছা পরিষ্কার করে, কৃষি কাজের জন্য ক্ষতিকর ও প্রতিবন্দক বস্তু দূর করার চেষ্টা করে। তারপর বীজ বপন করে। পানি সেচ করে, প্রয়োজনীয় সবই করে, জমিনে বোনা সেই বীজ থেকে অঙ্কুর হয়, ধীরে ধীরে অঙ্কুর উপরে উঠে আসে, অঙ্কুর চারা গাছে রুপান্তরিত হয়, সেই চারা বড় গাছ হয়, তারপর সেই গাছে ফুল হয়। ফল হয়, এসব কাজ আল্লাহ তায়ালার ফজল ছাড়া হওয়া সম্ভব না, আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন,

أفرأيتم ما تحرثون- انتم تزرعونه ام نحن الزارعونا

‘তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী?’ (সূরা: ওয়াকিয়া, আয়াত: ৬৩-৬৪)।

তোমরা শুধু বীজ বপন করছো। কিন্তু সেই বীজ ফাটিয়ে কে অঙ্কুর বের করছে? কে কলি ফোটাচ্ছে? চারা গাছ কে বানাচ্ছে। এসব কাজ কি তোমরা আনজাম দিচ্ছ? না কখনোই এটা সম্ভব না। সারা দুনিয়ার সব বিজ্ঞান প্রযুক্তি নিয়োজিত করেও এই কাজ আল্লাহ তায়ালার ফজল ব্যতীত আনজাম দেয়া সম্ভব না। একারণেই, পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার যতো নেয়ামত তোমরা ভোগ করছ, সে সবই ফাজলুল্লাহ বা আল্লাহ তায়ালার ফজল, জীবন নির্বাহের সকল উপায় উপার্জন আল্লাহ তায়ালার ফজল ও করমেই আমরা পেয়ে থাকি। আল্লাহ তায়ালার ফজল ও করম দয়াও দান ভুলে গিয়ে আমাদের পক্ষে কোনো কিছুই আনজাম দেয়া সম্ভবপর না।

ফজলের মধ্যে সব রকম নেয়ামত অন্তর্ভুক্ত: সুতরাং, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এই বলে অল্লাহ তায়ালার নিকট ফজল প্রার্থনা করো, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক’। আয় আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার ফজল প্রার্থনা করছি। ফজল শব্দের মধ্যে দুনিয়ার সবধরনের নেয়ামতই অন্তর্ভুক্ত আছে। ব্যবসায়ীর ব্যবসায়ে সাফল্য ও কামিয়াবি আসবে আল্লাহ তায়ালার ফজলে। আল্লাহ তায়ালার ফজলে চাকরিজীবীর চাকরির মাধ্যমে হালাল উপার্জন সম্ভব। কৃষকের কৃষি কাজেও আছে আল্লাহ তায়ালার ফজল ও করম দয়া ও দান। এসব ছাড়াও, সুস্থতা স্বস্তি, পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য, পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতির নেয়ামতসহ। পৃথিবীর সকল নেয়ামতের প্রার্থনা এই দোয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এই দোয়াটি যদি আল্লাহ তায়ালার দরবারে একবার মাত্র কবুল হয়, তা হলে দুনিয়ার সব বিপদ মসিবত দূর হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে এর ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে