‘মরণ ছাড়া আমার উপায় নেই’

‘মরণ ছাড়া আমার উপায় নেই’

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৫ ৩১ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রেমের সম্পর্ক থেকে একঘরে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মতো রাত যাপন করতেন। সর্বশেষ শনিবার রাতে আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে আসেন বাবলু। পরে এক ঘরে রাত যাপন করতে গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে হাতেনাতে মেয়েসহ ধরা পড়েন বাবলু।

এরপর ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। জনপ্রতিনিধিদের আপস মীমাংসার সুযোগে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বাবলু। ভুক্তভোগী মেয়েটি তার সর্বস্ব হারিয়ে বিয়ের দাবিতে বাবলুর বাড়ির সামনে অনশনে বসেছেন।

অভিযুক্ত বাবলু কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়ার আবদুল হাকিমের ছোট ছেলে। বমু পানিস্যাবিল নয়া বাজারে মুদি দোকানি সে।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় মেয়েটিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বমু পানিস্যাবিল নয়া বাজারে তার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে তুলে আনেন বাবলু। মেয়েটিকে খুঁজে না পেয়ে রাত ২টায় মেম্বারকে বিষয়টি অবহিত করেন মেয়ের মা। পরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো.রমিজ উদ্দিন ও কয়েকজন গ্রাম পুলিশসহ সন্দেহজনকভাবে সাইফুলের বাড়ি তল্লাশি করলে ছেলের রুমে মেয়েটিকে পাওয়া যায়।

মেম্বার মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি সঙ্গে সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আহাম্মদ মিয়াকে জানালে তারা বলেন বিষয়টি সকালে সমাধান করা হবে। মেয়ে আপাতত ছেলের বাড়িতে থাকুক। এদিকে ভোর না হতেই ছেলের পরিবার মেয়েটিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাবলুকে বাড়ি থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মেয়েটি বিয়ের দাবিতে রোববার ভোর থেকে ছেলের বাড়ির সামনে অনশন শুরু করে।

মেয়েটি বলেন, আমাদের প্রেমের সম্পর্ক একবছর। এর আগেও সাইফুল আমাকে ৫-৬ বার রাতে তার ঘরে নিয়ে আসে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। শনিবার রাতে আমি আসতে না চাইলে সে আমার আপত্তিকর ছবি ফেসবুক ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। তাই আমি আসতে বাধ্য হয়েছি। রাত সাড়ে ১১টায় মোটরসাইকেলে করে সে আমাকে নিয়ে আসে। রাত ২টায় আমার পরিবারের লোকজন ও মেম্বার আমাকে খুঁজতে সাইফুলের বাড়িতে আসে। তারা সাইফুলের রুমে আমাকে পায়। সকালে সিদ্ধান্ত হবে বলে আমাকে তাদের পরিবারের জিম্মায় দিয়ে আসে।

তারা ভোরে সাইফুলকে সরিয়ে দিয়ে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমি এখন কোথায় যাবো ? হয়ত সাইফুল আমাকে বিয়ে করবে না হয় আমার মরণ ছাড়া উপায় নেই। আমি এখন ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ভোরে ছেলের পরিবারের লোকজন আমার মোবাইল, নাক-কানের স্বর্ণালংকার নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

বমু বিলছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতলব বলেন, রাতে আমাকে বিষয়টি রমিজ মেম্বার অবহিত করে। সকালে সিদ্ধান্ত হবে বলেছিলাম। সকাল থেকে আমি ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত থাকায় এখনো বৈঠকে বসতে পারিনি।

এই বিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, মেয়ে পক্ষ এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। তারা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ