মমতাময়ী মা

মমতাময়ী মা

মো. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২৩:০৬ ১০ মে ২০২০   আপডেট: ২৩:১১ ১০ মে ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

কলেজ জীবনে এক তরুণী বলেছিলো আপনার প্রিয় খাবার কি? আমি বলেছিলাম আমার মায়ের হাতের রান্না। বোকা ছেলে বলে একগাল হেসেছিল সেদিন লাস্যময়ী মেয়েটি। হাসবেই না কেন? সবার প্রিয় খাবার বিরিয়ানি, চাইনিজ, শিক কাবাব, শামী কাবাব, মাছের মাথার কালিয়াসহ নানান স্বাদের খাবার। আর আমার কিনা মায়ের হাতের খাবার!

পৃথিবীতে মমতাময়ী মায়ের ওপরে আর কোন দরদি নেই। এত মায়া এত মমতা, স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে যত্ন করে বাবা বলে ডাকার মতো আর কেউ নেই। তাইতো জনৈক দার্শনিক মহাপুরুষ বলেছিলেন যার মা আছে সে কোনো দিন দরিদ্র হতে পারে না। আবার ফরাসি বীর নেপোলিয়ন যখন জাতি গড়তে যাবেন তখন অনুভব করলেন মায়ের। তিনি বলেই ফেললেন ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো। নেপোলিয়নের এই কথাতেই বোঝা যায় মা হচ্ছে একজন মানবশিশুর জীবনের সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে বড় শিক্ষক। তাই আর যায় হোক নিজের মায়ের সঙ্গে কখনো কারো তুলনা হয় না। আপনি যখন মায়ের পেটে এলেন তখন থেকেই মা কত সাবধানে চলাচল করেন যাতে করে আপনার আঘাত না লাগে। আপনি কে? আপনার তো কোনো পরিচিতিই ছিল না। না ছিল পদমর্যাদা না ছিল টাকা পয়সা! অথচ

আপনার মা তার সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করত প্রাণ খুলে যেন আপনি সুস্থ সবলভাবে পৃথিবীর আলোতে মুখ রঙিন করতে পারেন। অথচ আপনার মা যখন বৃদ্ধ হচ্ছে তখন তাকে গরুর গোয়ালে রাখছেন অথবা টাঙ্গাইলের শালবনে ফেলে আসছেন। আপনি বিসিএস ক্যাডার ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা জজ সাহেব। আপনার বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে অন্যান্য কলিগদের পরিচয় করাইতে লজ্জা পান। তাই আপনি সুন্দরী বউয়ের পরামর্শে মাকে রেললাইনের ধারে ফেলে আসলেন। আপনার মতো জজ সাহেবের মুখে আমার জুতার বাড়ি পড়ুক। আপনার আমার মা যার যার কাছে এক একটা বেহেশত বা স্বর্গ যে যাই বলুন না কেন।

একবার দুই চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন পৃথিবীতে মা-বাবার চেয়ে কেউ আপন না। করোনা মহামারির খবর নিয়মিত দেখি। সেদিন দেখলাম চট্টগ্রামের পটিয়াতে বছর ছয়েক শিশুর করোনা আক্রান্ত লাশ বাবা শেষ বারের মতো কোলে নিয়ে চুম্বন করছে। তার পরের দিনের খবর দেখলাম বাবার ডেথ সার্টিফিটেক নিলো অথচ লাশ নিলো না সন্তানেরা। কেন এই নষ্ট শিক্ষা? সরকারি চাকরিজীবী বাবার পেনশনের টাকা তোলার জন্য ডেথ সার্টিফিকেট নিলেও লাশ নিলেন না। জিতে গেলেন? জিততে পারেন নাই।

৩০-৪০ বছর পরে আপনার সন্তানেরাও তাই করবে। যখন ছোটবেলা উঠে বসতে পারতেন না। বিছানা- কাঁথায় পায়খানা করে উয়া উয়া বলে কাঁদতেন। মাঘের শীতে বাঘে সয় এমন দিনেও মায়ের গা ভরে মুত্র বিসর্জন করেছেন। কই মাতো আপনাকে টান মেরে ঝাউবনে ছুড়ে দেননি? তাহলে আজ ৫০ বছর পরে কেন বৃদ্ধাশ্রমে মা যাবে? তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে আসা যাক। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে জগতের সব স্থানে লাইলী-মজনুরা এখন বাস করে। মেয়েদের জীবনে মায়ের ভূমিকা বেশি। জন্ম থেকেই পুরুষদের আড়ালে ২০-২২ বছর যে মা-বাবা বুকে আগলে রাখলো আর যাই হোক সে তোমার খারাপ চাই না। অথচ রাস্তা দিয়ে শীষ বাজাতে বাজাতে যাওয়া বখাটে ফটিকের প্রেমে পাগল হয়ে তোমরা গভীর রাত্রিতে ব্যাগ গুছিয়ে পলায়ন করো।

তোমাদের হৃদয়ে ভালোবাসা আদৌ আছে? আমি বলব নেই। তোমাদের অন্তরে ভালোবাসার ছিটেফোটাও নেই। রাস্তার মেছো কুকুরটাও তোমার থেকে ভালো। এক মাস টাইফয়েড কিংবা এক সপ্তাহ কলেরা বাধিয়ে শুয়ে থাকো দেখবা তোমার প্রেমিক পুরুষ কালাচাদমিত্র আর নেই। তোমার মহুয়ার পালা কিংবা কৃষ্ণ-রাধা খেলিবার সাথী হাওয়াই মিলিয়ে গেছে। গত বছর পাশের দেশ ভারতে  ক’খানা বাতাসা খাওয়ার অপরাধে মাকে রক্তাক্ত করেছিল এক নরপিশাচ। যখন থানার পুলিশ বাবুরা ওই লোকটাকে পেটাচ্ছিলো তখন তার মা পুলিশদের পায়ে ধরে কাঁদছিল আর বলছিলো বাবাগো ওকে ছেড়ে দাও। ওর কোনো দোষ নাই। সব দোষ আমার, আমি বাতাসা চোর। দোহায় লাগে ওকে মেরো না। হ্যাঁ, এটাই মা! আর সবার মা সবার কাছেই পরম শ্রদ্ধেয়।

একবার এক সাহাবা জিজ্ঞেস করলেন হযরত মুহম্মদ (সা.) কে, যে হে আল্লাহর রাসূল আমি কাকে বেশি ভালোবাসবো? এরূপ তিনবারে আল্লাহর রাসূল বললেন তোমার মা। চতুর্থবারে বললেন তোমার পিতা। এই যুগে বিমান আবিষ্কারক অরভিল রাইট দুই ভাইয়ের বিমান আবিষ্কারের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাদের মা। এই যে আমি এত কথা দিয়ে সাহিত্য লিখি, সবকিছুতেই আমার প্রধান অনুপ্রেরণাদায়ী আমার মমতাময়ী জননী মা। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব মা। মা দিবসে এমনটায় চাওয়া।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর