মনে পড়ে বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশনের পথপ্রদর্শক জসিমকে

মনে পড়ে বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশনের পথপ্রদর্শক জসিমকে

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫০ ১৪ আগস্ট ২০২০  

অভিনেতা জসিম

অভিনেতা জসিম

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেতা জসিম। শুরুটা খলনায়ক হলেও পরবর্তীতে নায়ক হিসাবে জনপ্রিয়তা পান। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া এই মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতার জন্মদিন ১৪ আগস্ট। ১৯৫০ সালের আজকের দিনে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জসিম। 

জসিমের ক্যারিয়ারের শুরুটা খল চরিত্রে চলেও দর্শক মনে তিনি আসন পেতে আছেন নায়ক হয়ে। দেশের অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রের অন্যতম পথ-প্রদর্শক তিনি। পর্দায় ছিলেন শোষিত কিংবা বঞ্চিতদের প্রতিনিধিত্বকারী।

রূপালি পর্দায় অভিষেক স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ ছবির মাধ্যমে। তবে তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলিউডের ‘শোলে’ সিনেমার রিমেক ‘দোস্ত দুশমন’। এর পরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। অভিনয় করেছেন প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে।

আশি ও নব্বই দশকের প্রায় সব জনপ্রিয় নায়িকার বিপরীতেই দেখা গেছে তাকে। এর মধ্যে শাবানা ও রোজিনার সঙ্গে তার জুটিই সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয়তা পায়।

জসিম অভিনীত ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘তুফান’, ‘জবাব’, ‘নাগ নাগিনী’, ‘বদলা’, ‘বারুদ’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘লালু মাস্তান’, ‘নবাবজাদা’, ‘অভিযান’, ‘কালিয়া’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘গরিবের ওস্তাদ’, ‘ভাইবোন’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘পরিবার’, ‘রাজা বাবু’, ‘বুকের ধন’, ‘স্বামী কেন আসামী’, ‘লাল গোলাপ’, ‘দাগী’, ‘টাইগার’, ‘হাবিলদার’, ‘ভালোবাসার ঘর’ প্রভৃতি। সবমিলিয়ে প্রায় দুইশ’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।

জসিমের প্রথম স্ত্রী ছিলেন নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি ঢাকার প্রথম সবাক ছবির নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে রয়েছে তিন পুত্র সন্তান। তারা তিনজনই সংগীতের মানুষ। ‘ওন্ড’ নামের তাদের রক মেটাল ব্যান্ডদল রয়েছে। যার নেতৃত্বে আছেন জসিমের জৈষ্ঠপুত্র সামী।

১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মস্তিষ্কজনিত রোগে নিভে যায় জসিমের জীবন প্রদীপ। কিন্তু চলচ্চিত্রে তার অবদান আজও চিরস্মরণীয়। জসিমই একমাত্র শিল্পী, যার নামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার (বিএফডিসি)তে একটি ফ্লোরের নামকরণ হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ